নিজ বাড়িতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালালেন তিনি
jugantor
নিজ বাড়িতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালালেন তিনি

  মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি  

০৫ মে ২০২১, ২১:০৭:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবকদের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে এসএম শহিদুজ্জামান লাঞ্জু নামে এক প্রতারক।

উপজেলার বিন্যাফৈর গ্রামের নিজ বাড়িতে গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থা নামে দুটি বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এ প্রতারণা ব্যবসা শুরু করে তারা। সাইনবোর্ডের নিচের অংশে সহযোগিতায়-ইউএসএইড এবং অর্থায়নে আমেরিকা, লন্ডন, দক্ষিণ কোরিয়া লেখা দেখে এলাকার বেকার যুবকরা ওই সংস্থায় চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে পড়েন।

উপজেলার আদারভিটা গ্রামের মুনির উদ্দিনের ছেলে জুলফিকার আলী ও ঢাকার গাজীপুরের খাদিজা আক্তার বীনাসহ প্রতারিত বেকার যুবকরা জানান, লাঞ্জু প্রথমে এলাকার সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে জানিয়ে অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলায়। দরিদ্রদের রেশন হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার নামে দরিদ্রদের তালিকা তৈরির কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে।

এছাড়া চর উন্নয়ন প্রকল্প ও টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন বলে প্রচার করে লোকজনের বিশ্বাস অর্জন করে। এসব শুনে জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকরা গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থায় চাকরি নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লাঞ্জু জামালপুর শহরের খুপিবাড়ি মোড়ে ৫ তলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অফিস খোলেন।

চাকরির নামে প্রতারিত জুলফিকার আলী জানান, ৪ লাখ টাকা নিয়ে শহিদুজ্জামান লাঞ্জু ওই সংস্থার উপপরিচালকের পিএস হিসেবে তাকে চাকরি দেন। কিন্তু ওই অফিসে লাখ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের শুধু চেয়ার টেবিলে বসিয়ে রাখা হতো। কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করানো হয়নি। দুই মাস পর চাকরির নামে ১৫৩ জন বেকার যুবকের কাছ থেকে অন্তত ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে লাঞ্জু আত্মগোপন করে।

খাদিজা আক্তার বীনা জানান, লাঞ্জু তাদের একটি সংস্থার নামে বৃদ্ধাশ্রম করার কাজে সহযোগিতার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে। কোনোরকম সহযোগিতা না করার একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে লাঞ্জু তাকে ডাচবাংলা ব্যাংকের ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেন, যা ব্যাংকে ডিজঅর্নার হয়।

প্রতারিত যুবকরা লাঞ্জুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের দাবি জানালে দুই বছর ধরে সবাইকে টাকা দেই-দিচ্ছি করে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

এলাকার লোকজন জানান, মাদ্রাসা থেকে দাখিল পর্যন্ত পড়ালেখা করা লাঞ্জু মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামের বাড়িতে গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থা খোলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন বলে প্রচার করতে থাকেন। তার ফেসবুক আইডিতেও আমেরিকার গ্রিনকার্ডের ছবি দিয়ে রেখেছেন। লোকজনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান দিতেন।

আদারভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতার তত্ত্বাবধানে সাটেরবাজার মসজিদের জন্যও শহিদুজ্জামান লাঞ্জু টাকা দিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন জানান।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতা জানান, লাঞ্জু তার মসজিদের জন্য কোনো টাকা দেয়নি। তবে তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছেন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুজ্জামান লাঞ্জুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পাওনাদার সবাইকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নিজ বাড়িতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালালেন তিনি

 মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 
০৫ মে ২০২১, ০৯:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবকদের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে এসএম শহিদুজ্জামান লাঞ্জু নামে এক প্রতারক।

উপজেলার বিন্যাফৈর গ্রামের নিজ বাড়িতে গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থা নামে দুটি বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এ প্রতারণা ব্যবসা শুরু করে তারা। সাইনবোর্ডের নিচের অংশে সহযোগিতায়-ইউএসএইড এবং অর্থায়নে আমেরিকা, লন্ডন, দক্ষিণ কোরিয়া লেখা দেখে এলাকার বেকার যুবকরা ওই সংস্থায় চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে পড়েন।

উপজেলার আদারভিটা গ্রামের মুনির উদ্দিনের ছেলে জুলফিকার আলী ও ঢাকার গাজীপুরের খাদিজা আক্তার বীনাসহ প্রতারিত বেকার যুবকরা জানান, লাঞ্জু প্রথমে এলাকার সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে জানিয়ে অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলায়। দরিদ্রদের রেশন হিসেবে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার নামে দরিদ্রদের তালিকা তৈরির কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে।

এছাড়া চর উন্নয়ন প্রকল্প ও টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন বলে প্রচার করে লোকজনের বিশ্বাস অর্জন করে। এসব শুনে জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকরা গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থায় চাকরি নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লাঞ্জু জামালপুর শহরের খুপিবাড়ি মোড়ে ৫ তলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে অফিস খোলেন।

চাকরির নামে প্রতারিত জুলফিকার আলী জানান, ৪ লাখ টাকা নিয়ে শহিদুজ্জামান লাঞ্জু ওই সংস্থার উপপরিচালকের পিএস হিসেবে তাকে চাকরি দেন। কিন্তু ওই অফিসে লাখ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের শুধু চেয়ার টেবিলে বসিয়ে রাখা হতো। কাউকে দিয়ে কোনো কাজ করানো হয়নি। দুই মাস পর চাকরির নামে ১৫৩ জন বেকার যুবকের কাছ থেকে অন্তত ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে লাঞ্জু আত্মগোপন করে।

খাদিজা আক্তার বীনা জানান, লাঞ্জু তাদের একটি সংস্থার নামে বৃদ্ধাশ্রম করার কাজে সহযোগিতার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে। কোনোরকম সহযোগিতা না করার একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে লাঞ্জু তাকে ডাচবাংলা ব্যাংকের ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেন, যা ব্যাংকে ডিজঅর্নার হয়।

প্রতারিত যুবকরা লাঞ্জুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের দাবি জানালে দুই বছর ধরে সবাইকে টাকা দেই-দিচ্ছি করে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

এলাকার লোকজন জানান, মাদ্রাসা থেকে দাখিল পর্যন্ত পড়ালেখা করা লাঞ্জু মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামের বাড়িতে গ্রামীণ মানবকল্যাণ সংস্থা খোলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড পেয়েছেন বলে প্রচার করতে থাকেন। তার ফেসবুক আইডিতেও আমেরিকার গ্রিনকার্ডের ছবি দিয়ে রেখেছেন। লোকজনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান দিতেন।

আদারভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতার তত্ত্বাবধানে সাটেরবাজার মসজিদের জন্যও শহিদুজ্জামান লাঞ্জু টাকা দিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন জানান।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফুর রহমান আতা জানান, লাঞ্জু তার মসজিদের জন্য কোনো টাকা দেয়নি। তবে তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেছেন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুজ্জামান লাঞ্জুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পাওনাদার সবাইকে টাকা ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন