সুন্দরবনে আবারও জ্বলে উঠেছে আগুন
jugantor
সুন্দরবনে আবারও জ্বলে উঠেছে আগুন

  শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

০৫ মে ২০২১, ২৩:০৭:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও বুধবার সকাল থেকে অগ্নিকাণ্ড এলাকার দক্ষিণ পাশে নতুন করে আগুন জ্বলে ওঠে।

সকাল ৭টার দিকে বনসংলগ্ন দক্ষিণ রাজাপুর মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক জায়াগায় আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখে বনবিভাগকে খবর দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল ১০টা থেকে বনবিভাগ, ফায়ার ব্রিগেডের তিনটি ইউনিট এবং এলাকাবাসী আবার নতুন করে জ্বলে ওঠা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। গত দুই দিন আগে যেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল তার দক্ষিণ পাশে আরও প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে। মরা ভোলা নদীতে পাইপ লাগিয়ে সেখানে পানি ঢালা হয়। তবে আগের মতো আগুনের তীব্রতা নেই এবং তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বনবিভাগ ও ফায়ার ব্রিগেড সূত্র জানিয়েছে।

শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দুই দিন আমরা যে স্থানে আগুন নিভিয়েছি সেখানে কোনো আগুন বা ধোঁয়া দেখা যায়নি। এর পার্শ্ববর্তী নতুন এলাকায় এ আগুন দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগুন জ্বলে উঠছে। নতুন ও পুরনো এলাকাটি ঘিরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বনভূমিতে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে। ফায়ার লাইনের মধ্যেই আগুন সীমাবদ্ধ রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে অগ্নিকাণ্ড এলাকায় পানি ঢালার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে যথানিয়মে আবার আগুন নেভানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া দুই কলেজছাত্র রসুলপুর গ্রামের আ. রহিম (২৫) ও রুবেল হাওলাদার (২২) জানান, নতুন করে আগুনের খবর পেয়ে তারা সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তারা নিজেরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে পাইপ বসানো থেকে শুরু করে ফায়ার লাইন কাটায় সহযোগিতা করেন। প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ফায়ার লাইন কেটে পুরো অগ্নিকাণ্ড এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। তার মধ্যেই আগুন এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধানসাগর স্টেশন থেকে পাস নিয়ে স্থানীয় জেলেরা সুন্দরবনের শেলা ও দুধমুখী নদীতে পোনা ধরতে যায়। ওই সব জেলেরা পোনা আহরণ করে বনের নিশানখালী থেকে এক-দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে নাংলী টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত আসে। এ সময় তারা বিড়ি-সিগারেট খেয়ে তার অবশিষ্ট অংশ বনে নিক্ষেপ করে। সেই আগুন থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ।

বাগেরহাট ফায়ার ব্রিগেডের সহকারী উপ-পরিচালক (ডিএডি) মো. গোলাম সরোয়ার বিকাল ৫টায় বলেন, গত দুই দিনে আগুন নেভানোর কাজ সমাপ্ত করে আমরা চলে যাই। কিন্তু আজকে (বুধবার) আবার নতুন করে আগুন লাগার খবর জানায় বনবিভাগ। প্রথমে শরণখোলার টিম কাজ শুরু করে। পরবর্র্তীতে আমরা এসে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হই। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বনবিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আগুন নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ফায়ার লাইনের মধ্যে থেমে থেমে সামান্য আগুন ও ধোঁয়া দেখা দেওয়ায় সেখানে পানি ঢেলে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। লাগাতার পানি ঢালা হলে এ আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হবে। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নং কম্পার্টমেন্টের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার উত্তর দিকের বনাঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই আগুনে বনের প্রায় ১০ একর এলাকার ছোট গাছপালা, লতা-গুল্ম পুড়ে যায়। বনবিভাগ, ফায়ার ব্রিগেডের তিনটি ইউনিট এবং স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

সুন্দরবনে আবারও জ্বলে উঠেছে আগুন

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  
০৫ মে ২০২১, ১১:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও বুধবার সকাল থেকে অগ্নিকাণ্ড এলাকার দক্ষিণ পাশে নতুন করে আগুন জ্বলে ওঠে। 

সকাল ৭টার দিকে বনসংলগ্ন দক্ষিণ রাজাপুর মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক জায়াগায় আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখে বনবিভাগকে খবর দেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল ১০টা থেকে বনবিভাগ, ফায়ার ব্রিগেডের তিনটি ইউনিট এবং এলাকাবাসী আবার নতুন করে জ্বলে ওঠা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। গত দুই দিন আগে যেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল তার দক্ষিণ পাশে আরও প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে। মরা ভোলা নদীতে পাইপ লাগিয়ে সেখানে পানি ঢালা হয়। তবে আগের মতো আগুনের তীব্রতা নেই এবং তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বনবিভাগ ও ফায়ার ব্রিগেড সূত্র জানিয়েছে।
 
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দুই দিন আমরা যে স্থানে আগুন নিভিয়েছি সেখানে কোনো আগুন বা ধোঁয়া দেখা যায়নি। এর পার্শ্ববর্তী নতুন এলাকায় এ আগুন দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগুন জ্বলে উঠছে। নতুন ও পুরনো এলাকাটি ঘিরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বনভূমিতে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে। ফায়ার লাইনের মধ্যেই আগুন সীমাবদ্ধ রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে অগ্নিকাণ্ড এলাকায় পানি ঢালার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে যথানিয়মে আবার আগুন নেভানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া দুই কলেজছাত্র রসুলপুর গ্রামের আ. রহিম (২৫) ও রুবেল হাওলাদার (২২) জানান, নতুন করে আগুনের খবর পেয়ে তারা সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তারা নিজেরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে পাইপ বসানো থেকে শুরু করে ফায়ার লাইন কাটায় সহযোগিতা করেন। প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ফায়ার লাইন কেটে পুরো অগ্নিকাণ্ড এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। তার মধ্যেই আগুন এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।  

আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধানসাগর স্টেশন থেকে পাস নিয়ে স্থানীয় জেলেরা সুন্দরবনের শেলা ও দুধমুখী নদীতে পোনা ধরতে যায়। ওই সব জেলেরা পোনা আহরণ করে বনের নিশানখালী থেকে এক-দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে নাংলী টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত আসে। এ সময় তারা বিড়ি-সিগারেট খেয়ে তার অবশিষ্ট অংশ বনে নিক্ষেপ করে। সেই আগুন থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ।

বাগেরহাট ফায়ার ব্রিগেডের সহকারী উপ-পরিচালক (ডিএডি) মো. গোলাম সরোয়ার বিকাল ৫টায় বলেন, গত দুই দিনে আগুন নেভানোর কাজ সমাপ্ত করে আমরা চলে যাই। কিন্তু আজকে (বুধবার) আবার নতুন করে আগুন লাগার খবর জানায় বনবিভাগ। প্রথমে শরণখোলার টিম কাজ শুরু করে। পরবর্র্তীতে আমরা এসে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হই। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

বনবিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আগুন নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ফায়ার লাইনের মধ্যে থেমে থেমে সামান্য আগুন ও ধোঁয়া দেখা দেওয়ায় সেখানে পানি ঢেলে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। লাগাতার পানি ঢালা হলে এ আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হবে। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। 

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নং কম্পার্টমেন্টের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার উত্তর দিকের বনাঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই আগুনে বনের প্রায় ১০ একর এলাকার ছোট গাছপালা, লতা-গুল্ম পুড়ে যায়। বনবিভাগ, ফায়ার ব্রিগেডের তিনটি ইউনিট এবং স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন