যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন ঘর পেলেন সেই শিরিন
jugantor
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন ঘর পেলেন সেই শিরিন

  পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০৬ মে ২০২১, ০০:১৫:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর ঘর পেলেন সেই শিরিন

স্বামী পরিত্যাক্তা শিরিন খাতুনের ঠাঁই হয়েছিল বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া কয়েক শতক জায়গায়।

যেখানে কোনমতে ছাপরাঘর বানিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্ত ৩ বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সেই মাথা গোঁজার ঠাঁই।

এই ৩ বছরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঘর মেরামতে সহায়তা পাননি। এমনকি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে ঘর মেরামতের জন্য জমানো টাকাও চুরি হয়ে যায় শিরিনের।

সেই থেকে মধ্যবয়সী এই নারীর নির্ঘুম রাত কাটছে পথে পথে বা অন্যের বাড়ির বারান্দায়!

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাতুলী গ্রামের গৃহহীন এই নারীর অসহায়ত্ব নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশের বহুল জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তের অনলাইন সংস্করণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসে সেই মানবিক সংবাদ।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে নতুন ঘর পেলেন শিরিন খাতুন।

শিরিন খাতুনের দুর্দশা নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অতিরিক্ত সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহবুব হোসেনের নজরে আসে।

এরপর তিনি পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের মাধ্যমে শিরিন খাতুনের জন্য নতুন গৃহ নির্মাণের আশ্বাস দেন।

সপ্তাহ পার না হতেই শিরিন খাতুনের নতুন ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেয়া গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মাস্টার ও ইউএনও সৈকত ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী, মকবুল হোসেন, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সভাপতি রকিবুর রহমান টুকুন, যুগান্তর প্রতিনিধি পবিত্র তালুকদারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।

ঘর উদ্বোধনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিরিন খাতুন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা জীবন কষ্টই করে গেলাম। সুখ কী জিনিষ জীবনে সেটা বুঝিনি। শেষ বয়সে এসে পাকা ঘরে থাকবো জীবন কাটাবো এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। আমাদের মতো গরিবের শেষ আশ্রয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাজার বছর বেঁচে থাকুন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মুজিববর্ষে কোনো পরিবার গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন দিক নির্দেশনায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। শিরিন খাতুনকে নিয়ে সংবাদটি খুব হৃদয়স্পর্শী ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহবুব হোসেন স্যারের নজরে সংবাদটি আসার পর ঘরের জন্য দ্রুত বরাদ্দ দেন। সোমবার গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় বলে জানান তিনি।

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন ঘর পেলেন সেই শিরিন

 পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০৬ মে ২০২১, ১২:১৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর ঘর পেলেন সেই শিরিন
শিরিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাস্টার। ছবিঃ যুগান্তর

স্বামী পরিত্যাক্তা শিরিন খাতুনের ঠাঁই হয়েছিল বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া কয়েক শতক জায়গায়।

যেখানে কোনমতে ছাপরাঘর বানিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্ত ৩ বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সেই মাথা গোঁজার ঠাঁই।

এই ৩ বছরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঘর মেরামতে সহায়তা  পাননি। এমনকি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে ঘর মেরামতের জন্য জমানো টাকাও চুরি হয়ে যায় শিরিনের। 

সেই থেকে মধ্যবয়সী এই নারীর নির্ঘুম রাত কাটছে পথে পথে বা অন্যের বাড়ির বারান্দায়! 

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাতুলী গ্রামের গৃহহীন এই নারীর অসহায়ত্ব নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশের বহুল জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তের অনলাইন সংস্করণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসে সেই মানবিক সংবাদ।

অবশেষে  প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে নতুন ঘর পেলেন শিরিন খাতুন।

শিরিন খাতুনের দুর্দশা নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অতিরিক্ত সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহবুব হোসেনের নজরে আসে।

এরপর তিনি পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের মাধ্যমে শিরিন খাতুনের জন্য নতুন গৃহ নির্মাণের আশ্বাস দেন। 

সপ্তাহ পার না হতেই শিরিন খাতুনের নতুন ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেয়া গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মাস্টার ও ইউএনও সৈকত ইসলাম। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী, মকবুল হোসেন, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সভাপতি রকিবুর রহমান টুকুন, যুগান্তর প্রতিনিধি পবিত্র তালুকদারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ।

ঘর উদ্বোধনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিরিন খাতুন। 

তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা জীবন কষ্টই করে গেলাম। সুখ কী জিনিষ জীবনে সেটা বুঝিনি। শেষ বয়সে এসে পাকা ঘরে থাকবো জীবন কাটাবো এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। আমাদের মতো গরিবের শেষ আশ্রয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাজার বছর বেঁচে থাকুন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মুজিববর্ষে কোনো পরিবার গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন দিক নির্দেশনায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। শিরিন খাতুনকে নিয়ে সংবাদটি খুব হৃদয়স্পর্শী ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহবুব হোসেন স্যারের নজরে সংবাদটি আসার পর ঘরের জন্য দ্রুত বরাদ্দ দেন। সোমবার গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন