লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার মাদারীপুরের ২৪ যুবক
jugantor
লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার মাদারীপুরের ২৪ যুবক

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

০৬ মে ২০২১, ২৩:০০:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

লিবিয়ার বেনগাজী হত্যাকাণ্ডের বছর না ঘুরতেই ফের সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র। এবার জেলার বিভিন্ন এলাকার ২৪ যুবককে লিবিয়ায় বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় এনেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি দালালচক্র সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সহজ-সরল মানুষকে চিহ্নিত করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন দেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার চাষার গ্রামের জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তি ৪/৫ বছর ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ যুবক লিবিয়ায় গেছে। যাদের অধিকাংশ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছেছে।

জাহিদ খান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের সংগ্রহ করে প্রত্যেকের সঙ্গে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুক্তি করে লিবিয়া পাঠায়। লিবিয়ায় হাত বদল হয় একাধিক মাফিয়া চক্রের কাছে। এক একটি চক্র টাকার জন্য বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় পরিবারের কাছে।

মাফিয়াদের চাহিদা মতো যারা টাকা দেয় তাদের সাগর পথে ইতালির উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। যারা টাকা দিতে দেরি বা ব্যর্থ হয় তাদের ওপর চলে মাসের পর মাস অমানবিক নির্যাতন। জাহিদ খানের মাধ্যমে পাঠানো বেশকিছু যুবক এখনও লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে আটকে রয়েছে।

তার মাধ্যমে যাওয়া ২৪ যুবক গত ৩ মে থেকে লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে বন্দী। তাদের অনেককে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সম্প্রতি এরশাদ হোসেন জনি নামে এক যুবককে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তার বাড়ি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামে। তার সঙ্গে আছে হাবু হাওলাদারের ছেলে হিফজু হাওলাদার এবং একই ইউনিয়নের সরদার কান্দী এলাকার মো. আসাদুল খান ও মো. জাহিদুল ইসলাম। বাকি ২০ জনের বাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকার বলে জানা গেছে। তবে জাহিদ খান এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছে না।

নির্যাতিত জনির পরিবারের কেউ মুখ না খুললেও লিবিয়ায় আটক হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবিব (হাবু) হাওলাদার বলেন, আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউছুফের মাধ্যমে দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সঙ্গে আমার ৮ লাখ টাকা চুক্তি হয়। ২ লাখ টাকা আমি ইতোমধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়া যাওয়ার পর দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২ দিন ধরে আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে আটকা রয়েছে। আমি আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চাই।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জাহিদ খান আমাকে বলেছেন- আমি আপনার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।

এ ব্যাপারে জাহিদ খান ইউসুফ বলেন, আমি কোনো লোক পাঠাই নাই। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাহিদ খান ইউছুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি লিবিয়ায় লোক পাঠানোর কথা আমাদের কাছে স্বীকার করছে। আমরা আরও তদন্ত করে দেখছি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৮ মে রাত ৯টা দিকে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ এলাকায় গুলি করে যে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এর মধ্যে নিহত ১২ জন ও আহত ৪ জনের বাড়ি মাদারীপুরে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হলে র্যাব ও পুলিশ মূল হোতা ৫ মামলার আসামি জুলহাস সরদার, মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার দিনা বেগম, মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় গ্রামের রতন সিকদারের ছেলে সেন্টু সিকদার ও যাত্রাবাড়ি গ্রামের রব মোড়লের স্ত্রী নার্গিস বেগম, রাজৈরের পাঠানকান্দির সামাদ শেখের ছেলে ইমাম হোসেন শেখ, রাজৈর উপজেলার উত্তর আড়াইপাড়া গ্রামের হানিফ বয়াতী ও তার ছেলে নাসির বয়াতী, রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের নুরপুর এলাকার রতন মিয়ার ছেলে রবিউল মিয়া ওরফে রবি ও একই উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের জাকির হোসেনসহ ১১ জনকে আটক করে।

লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার মাদারীপুরের ২৪ যুবক

 টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
০৬ মে ২০২১, ১১:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লিবিয়ার বেনগাজী হত্যাকাণ্ডের বছর না ঘুরতেই ফের সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র। এবার জেলার বিভিন্ন এলাকার ২৪ যুবককে লিবিয়ায় বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় এনেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি দালালচক্র সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সহজ-সরল মানুষকে চিহ্নিত করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন দেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার চাষার গ্রামের জাহিদ খান ইউছুফ নামের এক ব্যক্তি ৪/৫ বছর ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ যুবক লিবিয়ায় গেছে। যাদের অধিকাংশ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছেছে।

জাহিদ খান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের সংগ্রহ করে প্রত্যেকের সঙ্গে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুক্তি করে লিবিয়া পাঠায়। লিবিয়ায় হাত বদল হয় একাধিক মাফিয়া চক্রের কাছে। এক একটি চক্র টাকার জন্য বন্দী শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। ওই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় পরিবারের কাছে।

মাফিয়াদের চাহিদা মতো যারা টাকা দেয় তাদের সাগর পথে ইতালির উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। যারা টাকা দিতে দেরি বা ব্যর্থ হয় তাদের ওপর চলে মাসের পর মাস অমানবিক নির্যাতন। জাহিদ খানের মাধ্যমে পাঠানো বেশকিছু যুবক এখনও লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে আটকে রয়েছে।

তার মাধ্যমে যাওয়া ২৪ যুবক গত ৩ মে থেকে লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে বন্দী। তাদের অনেককে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সম্প্রতি এরশাদ হোসেন জনি নামে এক যুবককে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তার বাড়ি সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামে। তার সঙ্গে আছে হাবু হাওলাদারের ছেলে হিফজু হাওলাদার এবং একই ইউনিয়নের সরদার কান্দী এলাকার মো. আসাদুল খান ও মো. জাহিদুল ইসলাম। বাকি ২০ জনের বাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকার বলে জানা গেছে। তবে জাহিদ খান এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছে না।

নির্যাতিত জনির পরিবারের কেউ মুখ না খুললেও লিবিয়ায় আটক হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবিব (হাবু) হাওলাদার বলেন, আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউছুফের মাধ্যমে দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সঙ্গে আমার ৮ লাখ টাকা চুক্তি হয়। ২ লাখ টাকা আমি ইতোমধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়া যাওয়ার পর দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২ দিন ধরে আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে আটকা রয়েছে। আমি আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চাই।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জাহিদ খান আমাকে বলেছেন- আমি আপনার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।

এ ব্যাপারে জাহিদ খান ইউসুফ বলেন, আমি কোনো লোক পাঠাই নাই। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাহিদ খান ইউছুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি লিবিয়ায় লোক পাঠানোর কথা আমাদের কাছে স্বীকার করছে। আমরা আরও তদন্ত করে দেখছি।
 
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৮ মে রাত ৯টা দিকে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ এলাকায় গুলি করে যে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এর মধ্যে নিহত ১২ জন ও আহত ৪ জনের বাড়ি মাদারীপুরে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হলে র্যাব ও পুলিশ মূল হোতা ৫ মামলার আসামি জুলহাস সরদার, মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি সদর উপজেলার দিনা বেগম, মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় গ্রামের রতন সিকদারের ছেলে সেন্টু সিকদার ও যাত্রাবাড়ি গ্রামের রব মোড়লের স্ত্রী নার্গিস বেগম, রাজৈরের পাঠানকান্দির সামাদ শেখের ছেলে ইমাম হোসেন শেখ, রাজৈর উপজেলার উত্তর আড়াইপাড়া গ্রামের হানিফ বয়াতী ও তার ছেলে নাসির বয়াতী, রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের নুরপুর এলাকার রতন মিয়ার ছেলে রবিউল মিয়া ওরফে রবি ও একই উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের জাকির হোসেনসহ ১১ জনকে আটক করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন