বেরোবিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে উকিল নোটিশ

  রংপুর ব্যুরো ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ২২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ওপর হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের নামে।

২০১৩ সালে ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ ও শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হওয়ার পারও মাহামুদুল হক নামে একজন প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় প্রায় ৬ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে চাকরিবঞ্চিত মাহামুদুল হক তার পক্ষে রায় পান। সুপ্রিমকোর্ট লিভ-টু-আপিল তার জন্য একটি শিক্ষকের পদ সংরক্ষিত রেখে অপর শিক্ষক নিয়োগের আদেশ দেন।

উচ্চ আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কর্তৃপক্ষ পুনরায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মাহামুদুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী ওই আইনগত নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সোমবার মাহামুদুল হকের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম ওই নোটিশে উল্লেখ করেছেন ৬ এপ্রিল পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলসহ নিয়োগের সব কার্যক্রম বন্ধ করে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাব দেয়ার অনুরোধ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে জানানো না হলে ভিসি ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেন ওই আইনজীবী।

২০১৩ সালের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রথম মাহামুদুল হক থাকার পরও তাকে বঞ্চিত করে পরীক্ষায় অকৃতকার্য চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মাহামুদুল হক। পরে মাহামুদুল হককে নিয়োগ না দিয়ে ওই বিভাগে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই নিয়োগ পরীক্ষার ওপর স্থাগিতাদেশ দেয় এবং হাইর্কোট তার জন্য একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।

এরপর আবারও ২০১৭ সালে ওই বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। মাহামুদুল হকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আবারও তা বন্ধ করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই পদ সংরক্ষণ না করে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করে।

উক্ত আইনগত নোটিশে বলা হয় বাছাই বোর্ডের সুপারিশ ও ২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাহামুদুলকে নিয়োগ দিতে মাহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিভ-টু-আপিল করেছে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলাটি সম্পর্কে অবগত।

১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট লিভ-টু-আপিল খারিজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীর উপস্থিতিতে। নোটিশে বলা হয়, মামলার সব বিষয় জানা সত্ত্বে মাহামুদুল এর জন্য উক্ত পদ সংরক্ষণ না করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা আদালত অবমাননা।

নোটিশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুধু এবারই আদালত অবমাননা করেনি এর আগেও দুবার আদালতের নির্দেশনা অমান্য করেছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, রংপুর ২০০৯ এর উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আইনই ভঙ্গ করেছে কমপক্ষে সাতটি বাছাই বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে ওইসব পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর ওই বিভাগে দুজন প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি বাছাই বোর্ড যথাক্রমে মোহা. গোলাম কাদির মণ্ডল ও মোহা. নজরুল ইসলামকে মেধা তালিকায় এবং মোহা. মাহামুদুল হক ও নিয়ামুন নাহারকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। এর মধ্যে গোলাম কাদির মণ্ডল যোগদান করেননি।

বাছাইবোর্ডের সুপারিশপত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাছাইবোর্ডের সুপারিশপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার কম্পিউটারে প্রিন্টকৃত ১ ও ২ নম্বর সিরিয়ালের পরে ৩ নম্বর সিরিয়াল কলমে লিখে তাসনিম হুমাইদাকে মেধা তালিকায় তৃতীয় এবং অপেক্ষামাণ তালিকায় তৃতীয় হিসেবে তাবিউর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের পর মাহামুদুলের নিয়োগ পাওয়ার কথা।

বাছাইবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজন ও বাছাইবোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে থেকে দুজন তাসনিম হুমাইদা ও তাবিউর রহমানসহ মোট চারজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও মাহামুদুলকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ জন্যই তিনি রিট করেন। দীর্ঘ ছয় বছর মামলা চালানোর পর আপিল বিভাগ থেকেও নিয়োগের পক্ষে রায় পান তিনি।

মাহামুদুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে বিভাগে ওই সময় পযর্ন্ত রেকর্ড পরিমাণ নম্বরসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতা, অফলাইন অনলাইন গ্রন্থের লেখক।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের নোটিশ এখনো হাতে পাইনি। ঢাকা থেকে নোটিশ পাঠিয়েছি এটুকু শুনেছি। নোটিশ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.