ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে চালু হচ্ছে নতুন রাস্তা
jugantor
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে চালু হচ্ছে নতুন রাস্তা

  শাহ সামসুল হক রিপন, গাজীপুর  

০৯ মে ২০২১, ১২:৪৫:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

সড়কে কাজ

ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা দুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে শিগগির চালু হচ্ছে একটি নতুন রাস্তা। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট এড়িয়ে খুব সহজেই গাজীপুর সদরে প্রবেশ করতে পারবে।

আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত চাপে মহাসড়কটিতে বরাবরই তীব্র যানজট থাকে। এ ছাড়া ধীরগতিতে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকার কারণে মহাসড়কটিতে বর্তমানে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে। ২০ মিনিটের পথ যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিকল্প সড়কটি মানুষের ঈদযাত্রায় স্বস্তি দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টঙ্গীর বনমালা রেলগেট থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত বিকল্প সংযোগ সড়কটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দিন-রাত চেষ্টা করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় প্রতিদিনই সরেজমিন গভীর রাত পর্যন্ত উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির কাজ তদারকি করছেন গাসিক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত মেয়র প্রকল্প এলাকায় অবস্থানকালে তিনি নিজে কিছু সময় সয়েল কম্পেক্টর চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের উৎসাহ জুগিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর যে কোনো প্রান্তে রাস্তা বা ড্রেন প্রশস্তকরণ কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে খবর পেলেই মেয়র সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যাচ্ছেন।

নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই বর্তমানে ড্রেন ও রাস্তা প্রশস্তকরণসহ সমানতালে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এতে নগরবাসী দুর্ভোগেরও শিকার হচ্ছেন। তবে এই উন্নয়ন যন্ত্রণা সবাই সমানভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন। কারোর কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। নগরবাসী এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাস র্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। এই দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে নিস্তার দিতেই টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা বের করার উদ্যোগ নেন গাসিক মেয়র।

নগরবাসীর বহু কাঙ্ক্ষিত বিকল্প সড়কটির কাজ আরও আগেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রেলওয়ের ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বিকল্প সড়কটির টঙ্গী বনমালা থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত অংশ বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ফলে বিকল্প ওই সড়কের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন নগরবাসী। ইতোমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিকল্প সড়কের ওই অংশে ডাবল লাইনের জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। এতে বিকল্প সড়কটি ওই অংশে আরও সংকোচিত হয়ে পড়লে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

এ অবস্থায় মেয়র পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেন। জমির মালিকরাও স্বেচ্ছায় জায়গা দিতে রাজি হন। বর্তমানে বিকল্প সড়কটির ওই অংশে দিন-রাত দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

গাসিক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিকল্প সড়কটি নগরবাসীকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে উৎসর্গ করছি। মেয়র নগরবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আগে জীবন, পরে জীবিকা। বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক উৎসব আনন্দ উপভোগ করা যাবে। ঈদযাত্রা যেন অন্তিম যাত্রায় পরিণত না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রকল্প এলাকার স্থানীয় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিউদ্দিন সফি জানান, বিকল্প রাস্তাটি চালু হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর একদিকে যেমন চাপ কমবে, তেমনি টঙ্গী থেকে গাজীপুর সদরে মাত্র কয়েক মিনিটে আসা-যাওয়া করা যাবে। অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান বিআরটি প্রকল্পের কারণে দীর্ঘ যানজট ও ধুলোবালিসহ নানা বিড়ম্বনা থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে চালু হচ্ছে নতুন রাস্তা

 শাহ সামসুল হক রিপন, গাজীপুর 
০৯ মে ২০২১, ১২:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সড়কে কাজ
ছবি: যুগান্তর

ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা দুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে শিগগির চালু হচ্ছে একটি নতুন রাস্তা। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট এড়িয়ে খুব সহজেই গাজীপুর সদরে প্রবেশ করতে পারবে।

আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত চাপে মহাসড়কটিতে বরাবরই তীব্র যানজট থাকে। এ ছাড়া ধীরগতিতে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকার কারণে মহাসড়কটিতে বর্তমানে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে। ২০ মিনিটের পথ যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিকল্প সড়কটি মানুষের ঈদযাত্রায় স্বস্তি দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টঙ্গীর বনমালা রেলগেট থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত বিকল্প সংযোগ সড়কটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দিন-রাত চেষ্টা করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় প্রতিদিনই সরেজমিন গভীর রাত পর্যন্ত উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির কাজ তদারকি করছেন গাসিক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত মেয়র প্রকল্প এলাকায় অবস্থানকালে তিনি নিজে কিছু সময় সয়েল কম্পেক্টর চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের উৎসাহ জুগিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর যে কোনো প্রান্তে রাস্তা বা ড্রেন প্রশস্তকরণ কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে খবর পেলেই মেয়র সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যাচ্ছেন।

 নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই বর্তমানে ড্রেন ও রাস্তা প্রশস্তকরণসহ সমানতালে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এতে নগরবাসী দুর্ভোগেরও শিকার হচ্ছেন। তবে এই উন্নয়ন যন্ত্রণা সবাই সমানভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন। কারোর কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। নগরবাসী এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাস র্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। এই দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে নিস্তার দিতেই টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা বের করার উদ্যোগ নেন গাসিক মেয়র।

নগরবাসীর বহু কাঙ্ক্ষিত বিকল্প সড়কটির কাজ আরও আগেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রেলওয়ের ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বিকল্প সড়কটির টঙ্গী বনমালা থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত অংশ বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ফলে বিকল্প ওই সড়কের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন নগরবাসী। ইতোমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিকল্প সড়কের ওই অংশে ডাবল লাইনের জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। এতে বিকল্প সড়কটি ওই অংশে আরও সংকোচিত হয়ে পড়লে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

এ অবস্থায় মেয়র পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেন। জমির মালিকরাও স্বেচ্ছায় জায়গা দিতে রাজি হন। বর্তমানে বিকল্প সড়কটির ওই অংশে দিন-রাত দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

গাসিক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিকল্প সড়কটি নগরবাসীকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে উৎসর্গ করছি। মেয়র নগরবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আগে জীবন, পরে জীবিকা। বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক উৎসব আনন্দ উপভোগ করা যাবে। ঈদযাত্রা যেন অন্তিম যাত্রায় পরিণত না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রকল্প এলাকার স্থানীয় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সফিউদ্দিন সফি জানান, বিকল্প রাস্তাটি চালু হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর একদিকে যেমন চাপ কমবে, তেমনি টঙ্গী থেকে গাজীপুর সদরে মাত্র কয়েক মিনিটে আসা-যাওয়া করা যাবে। অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান বিআরটি প্রকল্পের কারণে দীর্ঘ যানজট ও ধুলোবালিসহ নানা বিড়ম্বনা থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন