‘ঈদের দিন অন্তত সন্তানের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব’
jugantor
‘ঈদের দিন অন্তত সন্তানের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব’

  যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার  

০৯ মে ২০২১, ২০:৪১:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

‘খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈদের দিন দেড় বছরের সন্তানের মুখে এক চামচ সেমাই তুলে দিতে পারব কিনা। ঘরে নিয়মিত বাজার করাই কষ্ট, আবার দুধ-সেমাই কিনব ক্যামনে। যুগান্তর স্বজনদের ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে একটু নিশ্চিন্ত হলাম। অন্তত ঈদের দিন সন্তানের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব। মা হিসেবে আমার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই।’

বিশ্ব মা দিবসে ঢাকার সাভারে দৈনিক যুগান্তরের স্বজন সমাবেশের স্বজনদের ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে পঙ্গুত্ব বরণ করা ইয়ানুর (২২)।

একজন মায়ের এমন মর্মস্পর্শী কথাগুলো স্বজন সমাবেশের স্বজনদের হৃদয়কেও নাড়া দিয়ে যায়।

ইয়ানুর বরিশাল জেলার হিজলা থানার মুলাদি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড়। সংসারে অভাবের তাড়নায় কৈশোরে তাকে কর্মের উদ্দেশ্যে বের হতে হয়। সাভার পৌর এলাকার আড়াপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থেকে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রানা প্লাজায় ৬ তলার ইথারট্রেক্স নামক একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ভবনের ভিতরে চাপা পড়েন তিনি। ভাগ্যক্রমে ওই মৃত্যুকূপ থেকে জীবিত ফিরে আসেন কিন্তু তাকে বরণ করতে হয় পঙ্গুত্ব। এখন ক্র্যাচ তার আরেক সঙ্গী। ঘর থেকে বের হলেই ক্র্যাচে ভর করে চলতে হয়।

তিনি বলেন, আমিও আপনাদের মতোই বাঁচতে চাই। মানুষের কাছে হাত পেতে নয়। কেউ যদি একটা কর্মব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে সন্তান নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার সকালে রানা প্লাজা ও আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনের ট্র্যাজেডিতে আহত ৬০ জন শ্রমিক পরিবারের হাতে ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন স্বজনরা।

এদের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে ইয়ানুরের মতো মর্মস্পর্শী গল্প। নিত্য অভাব-অনটন, তার ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব তাদের প্রত্যেকের জীবনকে করে তুলেছে বিষাদময়। করোনার প্রাদুর্ভাবে স্বজনদের ঈদ উপহার হাতে পেয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে অনেকেই। উপহারের মধ্যে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি চিনি, মসুর ডাল, লবণ, সেমাই, দুধ, আলু ও পেঁয়াজ।

স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- সাভার স্বজন সমাবেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ, উপদেষ্টা আশরাফ হোসেন চৌধুরী মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নোমান মাহমুদ, অর্থ-বিষয়ক সম্পাদক মাসুদা ইয়াসমিন, আকাশ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টা ও যুগান্তর প্রতিবেদক মতিউর রহমান ভাণ্ডারী।

‘ঈদের দিন অন্তত সন্তানের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব’

 যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার 
০৯ মে ২০২১, ০৮:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈদের দিন দেড় বছরের সন্তানের মুখে এক চামচ সেমাই তুলে দিতে পারব কিনা। ঘরে নিয়মিত বাজার করাই কষ্ট, আবার দুধ-সেমাই কিনব ক্যামনে। যুগান্তর স্বজনদের ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে একটু নিশ্চিন্ত হলাম। অন্তত ঈদের দিন সন্তানের মুখে একটু সেমাই তুলে দিতে পারব। মা হিসেবে আমার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই।’

বিশ্ব মা দিবসে ঢাকার সাভারে দৈনিক যুগান্তরের স্বজন সমাবেশের স্বজনদের ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে পঙ্গুত্ব বরণ করা ইয়ানুর (২২)।

একজন মায়ের এমন মর্মস্পর্শী কথাগুলো স্বজন সমাবেশের স্বজনদের হৃদয়কেও নাড়া দিয়ে যায়।

ইয়ানুর বরিশাল জেলার হিজলা থানার মুলাদি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড়। সংসারে অভাবের তাড়নায় কৈশোরে তাকে কর্মের উদ্দেশ্যে বের হতে হয়। সাভার পৌর এলাকার আড়াপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থেকে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রানা প্লাজায় ৬ তলার ইথারট্রেক্স নামক একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ভবনের ভিতরে চাপা পড়েন তিনি। ভাগ্যক্রমে ওই মৃত্যুকূপ থেকে জীবিত ফিরে আসেন কিন্তু তাকে বরণ করতে হয় পঙ্গুত্ব। এখন ক্র্যাচ তার আরেক সঙ্গী। ঘর থেকে বের হলেই ক্র্যাচে ভর করে চলতে হয়।

তিনি বলেন, আমিও আপনাদের মতোই বাঁচতে চাই। মানুষের কাছে হাত পেতে নয়। কেউ যদি একটা কর্মব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে সন্তান নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার সকালে রানা প্লাজা ও আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনের ট্র্যাজেডিতে আহত ৬০ জন  শ্রমিক পরিবারের হাতে ঈদ উপহার খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন স্বজনরা।

এদের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে ইয়ানুরের মতো মর্মস্পর্শী গল্প। নিত্য অভাব-অনটন, তার ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব তাদের প্রত্যেকের জীবনকে করে তুলেছে বিষাদময়। করোনার প্রাদুর্ভাবে স্বজনদের ঈদ উপহার হাতে পেয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে অনেকেই। উপহারের মধ্যে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি তেল,  ১ কেজি চিনি, মসুর ডাল, লবণ, সেমাই, দুধ, আলু ও পেঁয়াজ।

স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- সাভার স্বজন সমাবেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ, উপদেষ্টা আশরাফ হোসেন চৌধুরী মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন খান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নোমান মাহমুদ, অর্থ-বিষয়ক সম্পাদক মাসুদা ইয়াসমিন, আকাশ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টা ও যুগান্তর প্রতিবেদক মতিউর রহমান ভাণ্ডারী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন