ঈদের আনন্দ মাটি হতে চলেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
jugantor
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার খামখেয়ালি
ঈদের আনন্দ মাটি হতে চলেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা  

০৯ মে ২০২১, ২৩:৪৮:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ৩ মাস ধরে অর্থ ছাড় না করায় পাবনার বেড়া পৌরসভার সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণ কাজ মুখথুবড়ে পড়েছে।

শুধু তাই নয়, কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের বরাদ্দ করা তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসন্ন ঈদের আনন্দও মাটি হতে চলেছে। এ অবস্থায় পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বেড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, গত বছর বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠিতে বরখাস্ত করা হয়। মেয়রের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ওই চিঠির কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করলে তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত অপর এক আদেশে আগের স্থগিতাদেশ আরও ৩ মাস বর্ধিত করেন। এদিকে মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার চিঠি না পাওয়ার অজুহাতে পৌরসভার কোনো অর্থ ছাড় করছেন না।

এতে করে গত ৩ মাস ধরে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে কোভিড নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতি বছর পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন সহায়তা হিসেবে সরকার চার কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। ৩ মাস আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবারের তৃতীয় কিস্তির অর্থ বরাদ্দ আসে। এই অর্থ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড় করছেন না।

এছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন থোক বরাদ্দের অর্থ ছাড় না করায় রাস্তা ঘাট ড্রেনসহ চলমান উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের দেয়া ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাও তিনি ছাড় না করায় এ করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ কাজও মুখথুবড়ে পড়েছে।

বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি কোভিড নিয়ন্ত্রণের কাজ পরিচালনার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ছাড় না হওয়ায় চলমান সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কর্মচারীদের সরকারি বেতন সহায়তার অর্থও এই ঈদের আগে না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেড়া পৌরসভার মেয়রের উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এজন্য এসব অর্থ ছাড় করা যাচ্ছে না।

এদিকে পৌরসভার মেয়রের বরখাস্ত হওয়ার কোনো চিঠি তাকে দেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, কোনো চিঠি পাননি কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহল থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে পৌরসভার অর্থ ছাড় বন্ধ রাখা হয়।

এ ব্যাপারে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তার খামখেয়ালিপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বন্ধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার খামখেয়ালি

ঈদের আনন্দ মাটি হতে চলেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

 আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা 
০৯ মে ২০২১, ১১:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ৩ মাস ধরে অর্থ ছাড় না করায় পাবনার বেড়া পৌরসভার সব উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণ কাজ মুখথুবড়ে পড়েছে।

শুধু তাই নয়, কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের বরাদ্দ করা তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসন্ন ঈদের আনন্দও মাটি হতে চলেছে। এ অবস্থায় পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বেড়া পৌরসভা সূত্র জানায়, গত বছর বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে একই বছরের ১৩ অক্টোবর বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক চিঠিতে বরখাস্ত করা হয়। মেয়রের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ওই চিঠির কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করলে তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত অপর এক আদেশে আগের স্থগিতাদেশ আরও ৩ মাস বর্ধিত করেন। এদিকে মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার চিঠি না পাওয়ার অজুহাতে পৌরসভার কোনো অর্থ ছাড় করছেন না।

এতে করে গত ৩ মাস ধরে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে কোভিড নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতি বছর পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন সহায়তা হিসেবে সরকার চার কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। ৩ মাস আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবারের তৃতীয় কিস্তির অর্থ বরাদ্দ আসে। এই অর্থ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড় করছেন না।

এছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন থোক বরাদ্দের অর্থ ছাড় না করায় রাস্তা ঘাট ড্রেনসহ চলমান উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোভিড নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের দেয়া ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাও তিনি ছাড় না করায় এ করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ কাজও মুখথুবড়ে পড়েছে।

বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি কোভিড নিয়ন্ত্রণের কাজ পরিচালনার জন্য ভিজিএফ বরাদ্দের প্রায় ২১ লাখ টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ছাড় না হওয়ায় চলমান সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কর্মচারীদের সরকারি বেতন সহায়তার অর্থও এই ঈদের আগে না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেড়া পৌরসভার মেয়রের উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এজন্য এসব অর্থ ছাড় করা যাচ্ছে না।

এদিকে পৌরসভার মেয়রের বরখাস্ত হওয়ার কোনো চিঠি তাকে দেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বলেন, কোনো চিঠি পাননি কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহল থেকে জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে পৌরসভার অর্থ ছাড় বন্ধ রাখা হয়।

এ ব্যাপারে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তার খামখেয়ালিপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ বন্ধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন