নতুন আতঙ্ক বিটকয়েন অনলাইন জুয়া
jugantor
নতুন আতঙ্ক বিটকয়েন অনলাইন জুয়া

  কেএম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী (বরিশাল)  

১০ মে ২০২১, ২২:১১:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের মুলাদীতে বিটকয়েন অনলাইন জুয়া নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কিশোর ও যুবকরা অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সোনামদ্দিন বন্দর, মুন্সীর হাট, সফিপুর রাস্তার মাথাসহ বেশ কয়েকটি স্পটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইন জুয়া খেলা চলায় ওই এলাকার অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সফিপুর ইউনিয়নের বেয়ালিয়া গ্রামের আলমগীর খানের পুত্র নাহিদ খানের নেতৃত্বে একটি চক্র অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন অনলাইন জুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে অনায়েসে অনলাইন জুয়া খেলা সম্ভব হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে জুয়ার আসক্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিটকয়েন অনলাইন জুয়া খেলোয়াররা প্রথমে নিজের বিকাশ একাউন্টে টাকা রিচার্জ করে। পরে সেই টাকা ঢাকার একটি চক্রের কাছে পাঠায়। ওই চক্রটি বিকাশের টাকা ডলারে রূপান্তর করে একটি নতুন অনলাইন একাউন্ট তৈরি করে দেয় এবং সেখানে তাদের ডলার জমা হয়।

পরবর্তীতে জুয়ারিরা বিভিন্ন খেলা বিশেষ করে আইপিএল, বিপিএলসহ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দলের পক্ষে বাজী ধরে। দল জিতলে জুয়ারির অনলাইন অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হবে আর দল হেরে গেলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে। ডলার জমা হলে গ্রাহক ঢাকার ওই চক্রের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে টাকায় পরিণত করে বিকাশের মাধ্যমে ফেরত আনতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগে।

নাহিদ খান টেইলার্সের ব্যবসার আড়ালে তার দোকান ও সোনামদ্দিন বন্দর, মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর যুবকদের খেলায় উদ্বুদ্ধ করে এবং লাভের বিশেষ একটি অংশ নেয়। কিশোর যুবকরা জুয়া খেলার টাকা সংগ্রহের জন্য তাদের অভিভাবকদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এছাড়া ছিচকে চুরি, ছিনতাইয়ে মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

সোনামদ্দিন বন্দর এলাকার রহম আলী বেপারী জানান, তার ছেলে দিন রাত মোবাইল চালায় কিন্তু কী করে তার তিনি জানেন না। তবে কয়েক দিন পর পর বাসা থেকে টাকা নিচ্ছে। টাকা কী করছে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলে না।

এ ব্যাপারে নাহিদ খান জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলায় সহযোগিতা করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তার পিতার একটি টেইলার্স রয়েছে তিনি সেখানে ব্যবসা করেন। একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

মুলাদী থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, অনলাইন জুয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

নতুন আতঙ্ক বিটকয়েন অনলাইন জুয়া

 কেএম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী (বরিশাল) 
১০ মে ২০২১, ১০:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের মুলাদীতে বিটকয়েন অনলাইন জুয়া নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কিশোর ও যুবকরা অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সোনামদ্দিন বন্দর, মুন্সীর হাট, সফিপুর রাস্তার মাথাসহ বেশ কয়েকটি স্পটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইন জুয়া খেলা চলায় ওই এলাকার অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সফিপুর ইউনিয়নের বেয়ালিয়া গ্রামের আলমগীর খানের পুত্র নাহিদ খানের নেতৃত্বে একটি চক্র অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন অনলাইন জুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পরিবার। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে অনায়েসে অনলাইন জুয়া খেলা সম্ভব হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে জুয়ার আসক্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিটকয়েন অনলাইন জুয়া খেলোয়াররা প্রথমে নিজের বিকাশ একাউন্টে টাকা রিচার্জ করে। পরে সেই টাকা ঢাকার একটি চক্রের কাছে পাঠায়। ওই চক্রটি বিকাশের টাকা ডলারে রূপান্তর করে একটি নতুন অনলাইন একাউন্ট তৈরি করে দেয় এবং সেখানে তাদের ডলার জমা হয়।

পরবর্তীতে জুয়ারিরা বিভিন্ন খেলা বিশেষ করে আইপিএল, বিপিএলসহ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দলের পক্ষে বাজী ধরে। দল জিতলে জুয়ারির অনলাইন অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হবে আর দল হেরে গেলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে। ডলার জমা হলে গ্রাহক ঢাকার ওই চক্রের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে টাকায় পরিণত করে বিকাশের মাধ্যমে ফেরত আনতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগে।

নাহিদ খান টেইলার্সের ব্যবসার আড়ালে তার দোকান ও সোনামদ্দিন বন্দর, মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর যুবকদের খেলায় উদ্বুদ্ধ করে এবং লাভের বিশেষ একটি অংশ নেয়। কিশোর যুবকরা জুয়া খেলার টাকা সংগ্রহের জন্য তাদের অভিভাবকদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এছাড়া ছিচকে চুরি, ছিনতাইয়ে মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে।

সোনামদ্দিন বন্দর এলাকার রহম আলী বেপারী জানান, তার ছেলে দিন রাত মোবাইল চালায় কিন্তু কী করে তার তিনি জানেন না। তবে কয়েক দিন পর পর বাসা থেকে টাকা নিচ্ছে। টাকা কী করছে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলে না।

এ ব্যাপারে নাহিদ খান জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলায় সহযোগিতা করার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তার পিতার একটি টেইলার্স রয়েছে তিনি সেখানে ব্যবসা করেন। একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

মুলাদী থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, অনলাইন জুয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন