দৌলতদিয়া ঘাটেও মানুষের ঢল, ছোট গাড়িই ভরসা তাদের (ভিডিও)
jugantor
দৌলতদিয়া ঘাটেও মানুষের ঢল, ছোট গাড়িই ভরসা তাদের (ভিডিও)

  রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিনিধি  

১২ মে ২০২১, ২৩:২২:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ভীতি উপেক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটে সবগুলো (১৬) ফেরি পুরো দমে চলছে। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সঙ্গে রয়েছে কিছু সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি।

দূরপাল্লার বাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে এসব মানুষের। ছোট ছোট যানবাহনই তাদের ভরসা হয়ে ওঠে। তবে সেসব যানবাহনেরও স্বল্পতা দেখা দেয়।

বুধবার সকাল থেকে সারাদিন নদী পাড় হয়ে এসে দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। কিন্তু দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় এবং মানুষের তুলনায় ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যাও কম থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, লকডাউনে মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকলেও রাজধানী ও আশপাশ এলাকা হতে ঘরমুখো মানুষ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও পণ্য পরিবহনের গাড়িতে বাড়ি ফিরছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের পথে পথে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ -তিনগুণ ভাড়া।

খোলা ট্রাক, পিকআপ এমনকি মাহেন্দ্রযোগে যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ঝিনাইদহ পর্যন্ত তপ্ত রোদ-গরমের মধ্যে মানুষ রওনা দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নদী দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ ফেরিযোগে পারাপার হয়েছে। সাথে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ছিল ছিল অনেক।

আলাপকালে বরিশালগামী রফিকুল ইসলাম, যশোরের আব্দুর রহিম, মাগুরার হাফিজুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার রেহেনা পারভিন, বিলকিস আক্তারসহ অনেকেই বলেন, কর্মস্থলে ছুটি হওয়ায় তাদের থাকার জায়গা নেই। এছাড়াও পরিবার-পরিজন আমাদের জন্য অপেক্ষায় আছেন। তাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও বাড়ি যেতে হচ্ছে। দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে।

তারা বলেন, সরকার যেহেতু মানুষকে আটকাতে পারছে না, তাহলে দূরপাল্লার গণপরিবহন আটকে লাভ কি? এতে বরং করোনা পথে পথে ছড়িয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে!

রাজবাড়ী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর তারক চন্দ্র পাল বলেন, ঢাকা থেকে ট্রাকে যাত্রী আসলে সেটা রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের কিছু করার নাই। ঘাটে থেকে কোন যাত্রী ট্রাকে উঠানো হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাছাড়া মহাসড়কে যানজটরোধ করতে পুলিশ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। করোনা প্রতিবোধ করতে যাত্রী বা চালক যাতে হোটেল রেস্তোরায় না থামে সেজন্য পার্কিং করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে বুধবার রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দমোড় এলাকায় হুড়োহুড়ি করে দুপুরের দিকে ছোট গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে।

ঢাকা ফেরত যাত্রী রুবেল বলেন, সকাল ৯টার দিকে নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠি, পথে পথে বাস বাধা পেয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে আর পাটুরিয়া ঘাটের পথ ভুলে যায়, পরে মানুষের কাছে ভালো করে রাস্তা চিনে পাটুরিয়া পর্যন্ত আসি। পাটুরিয়া আসতে আমার এ পর্যন্ত ১হাজার টাকা খরচ হয়েছে, ফরিদপুরের মধুখালী নিজের বাড়িতে যেতে কত যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তা বলে প্রকাশ করা যাবে না।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। সব ফেরিতেই যাত্রীদের চাপ রয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটেও মানুষের ঢল, ছোট গাড়িই ভরসা তাদের (ভিডিও)

 রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিনিধি 
১২ মে ২০২১, ১১:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা ভীতি উপেক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটে সবগুলো (১৬) ফেরি পুরো দমে চলছে। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সঙ্গে রয়েছে কিছু সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি।

দূরপাল্লার বাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে এসব মানুষের। ছোট ছোট যানবাহনই তাদের ভরসা হয়ে ওঠে। তবে সেসব যানবাহনেরও স্বল্পতা দেখা দেয়।

বুধবার সকাল থেকে সারাদিন নদী পাড় হয়ে এসে দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। কিন্তু দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায়  এবং মানুষের তুলনায় ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যাও কম থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের। 

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, লকডাউনে মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকলেও রাজধানী ও আশপাশ এলাকা হতে ঘরমুখো মানুষ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও পণ্য পরিবহনের গাড়িতে বাড়ি ফিরছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের পথে পথে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ -তিনগুণ ভাড়া।

খোলা ট্রাক, পিকআপ এমনকি মাহেন্দ্রযোগে যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ঝিনাইদহ পর্যন্ত তপ্ত রোদ-গরমের মধ্যে  মানুষ রওনা দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নদী দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ ফেরিযোগে পারাপার হয়েছে। সাথে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ছিল ছিল অনেক। 

আলাপকালে বরিশালগামী রফিকুল ইসলাম, যশোরের আব্দুর রহিম, মাগুরার হাফিজুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার রেহেনা পারভিন, বিলকিস আক্তারসহ অনেকেই বলেন, কর্মস্থলে ছুটি হওয়ায় তাদের থাকার জায়গা নেই। এছাড়াও পরিবার-পরিজন আমাদের জন্য অপেক্ষায় আছেন। তাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও বাড়ি যেতে হচ্ছে। দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকায় আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে।

তারা বলেন, সরকার যেহেতু মানুষকে আটকাতে পারছে না, তাহলে দূরপাল্লার গণপরিবহন আটকে লাভ কি? এতে বরং করোনা পথে পথে ছড়িয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে! 

রাজবাড়ী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর তারক চন্দ্র পাল বলেন, ঢাকা থেকে ট্রাকে যাত্রী আসলে সেটা রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের কিছু করার নাই। ঘাটে থেকে কোন যাত্রী ট্রাকে উঠানো হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাছাড়া মহাসড়কে যানজটরোধ করতে পুলিশ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। করোনা প্রতিবোধ করতে যাত্রী বা চালক যাতে হোটেল রেস্তোরায় না থামে সেজন্য পার্কিং করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে বুধবার রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দমোড় এলাকায় হুড়োহুড়ি করে দুপুরের দিকে ছোট গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে।
  
ঢাকা ফেরত যাত্রী রুবেল বলেন, সকাল ৯টার দিকে নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠি, পথে পথে বাস বাধা পেয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে আর পাটুরিয়া ঘাটের পথ ভুলে যায়, পরে মানুষের কাছে ভালো করে রাস্তা চিনে পাটুরিয়া পর্যন্ত আসি। পাটুরিয়া আসতে আমার এ পর্যন্ত ১হাজার টাকা খরচ হয়েছে, ফরিদপুরের মধুখালী নিজের বাড়িতে যেতে কত যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তা বলে প্রকাশ করা যাবে না।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। সব ফেরিতেই যাত্রীদের চাপ রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন