ইউএনওকে দেখে কেঁদে ফেললেন মতিলাল দম্পতি
jugantor
ইউএনওকে দেখে কেঁদে ফেললেন মতিলাল দম্পতি

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

১৩ মে ২০২১, ২০:৪৪:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নে প্লাস্টিকের ছাউনিতে বাস করেন অসহায় মতিলাল দম্পতি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাদের ছাউনিতে দেখে অঝোরে কাঁদলেন তারা।

এক সময়ের পরিচ্ছন্ন কর্মী যার তারুণ্য ও যৌবনের ছোঁয়ায় এলাকা থাকতো সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও শুভ্র। বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে এখন বেকার ও অসহায় হয়ে পড়েছে ৭১ বছর বয়সী মতিলাল। তার তিন ছেলের কেউ এখন বৃদ্ধ মা-বাবার খবর নেয় না।

বৃদ্ধ মতিলাল তার স্ত্রী তরুবালাকে (৬৫) নিয়ে অন্যের পুকুর পাড়ে এখন মানবেতর বসবাস করেন। প্লাস্টিকের ছাউনিতে বসবাস করা এ অসহায় দম্পতি এক বেলা খেলে তিন বেলা উপোষ কাটান। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত তাদের অসহায় অনুভূতিতে তীব্র সাড়া দেয়। বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সময় বৃষ্টির পানি তাদের গায়ের ওপর গড়ায়। না ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয় বসে বসে।

গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীর মঙ্গলবার দুপুরে ছুটে যান ঘটনাস্থল চরহাজারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মহন্ত ডাক্তার বাড়ির পুকুর পাড়ে প্লাস্টিকের ছাউনিতে আশ্রিত অসহায় এ দম্পতিকে দেখার জন্য। ইউএনওকে দেখে বৃদ্ধ মতিলাল ও তার স্ত্রী তরুবালা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে।

ইউএনও আবেগাপ্লুত হয়ে এ অসহায় দম্পতির নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তাৎক্ষনিক এ দম্পতিকে খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন। এ সময় বৃদ্ধ মতিলাল পরের পুকুর পাড়ে প্লাস্টিকের ছাউনিতে আর মানবেতর জীবন-যাপন করতে ভালো লাগে না, এর চাইতে মৃত্যুটা অনেক শ্রেয় বলে মন্তব্য করার পর ইউএনওর কাছে আবেগঘন কথায় বিড়-বিড় করে বলেন, যদি সরকারী ভাবে একটা আশ্রয়ের জন্য ঘর পেতাম।

এসময় ইউএনও মো. জিয়াউল হক মীর অসহায় দম্পতির অনুভূতি বুঝতে পেরে তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের একটি ঘর প্রদানের আশ্বাস দেন।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন অসহায় কেউ গৃহহীন থাকবে না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে অসহায় মতিলাল দম্পতিকে দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের অসহায় অবস্থা দেখে খাদ্য সামগ্রী প্রদান ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর প্রদানের আশ্বাস দিয়ে এসেছি ওই অসহায় দম্পতিকে।

মতিলাল জানান, তার বয়স ৭০ পেরিয়ে গেলেও ভোটার আইডি কার্ডে তার বয়স ৬৫ বছরের কম হওয়ায় সরকারি নিয়মে বয়স্ক ভাতার কার্ডটিও বাতিল হয়ে যায়। এখন পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়েই চলে তাদের সংসার।

তিনি আরও জানান, ইতোপূর্বে ভিজিডি কার্ডের চাল পেতাম। দুবছর পূর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এখন সেই চালও পাচ্ছেন না। ফলে থাকার জায়গা দূরে থাক খাওয়ার জোগান করাই এখন দুঃসাধ্য মতিলাল দম্পতির।

মতিলাল আক্ষেপ করে বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের ঘর দিচ্ছে, আমাকে একটা টিনের ঘর দিলে আমি উপোষ থেকেও শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। মানবিক ইউএনওর ঘর করে দেয়ার আশ্বাসে এ অসহায় দম্পতি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন বলেও তারা জানান।

ইউএনওকে দেখে কেঁদে ফেললেন মতিলাল দম্পতি

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
১৩ মে ২০২১, ০৮:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নে প্লাস্টিকের ছাউনিতে বাস করেন অসহায় মতিলাল দম্পতি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাদের ছাউনিতে দেখে অঝোরে কাঁদলেন তারা।

এক সময়ের পরিচ্ছন্ন কর্মী যার তারুণ্য ও যৌবনের ছোঁয়ায় এলাকা থাকতো সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও শুভ্র। বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে এখন বেকার ও অসহায় হয়ে পড়েছে ৭১ বছর বয়সী মতিলাল। তার তিন ছেলের কেউ এখন বৃদ্ধ মা-বাবার খবর নেয় না।

বৃদ্ধ মতিলাল তার স্ত্রী তরুবালাকে (৬৫) নিয়ে অন্যের পুকুর পাড়ে এখন মানবেতর বসবাস করেন। প্লাস্টিকের ছাউনিতে বসবাস করা এ অসহায় দম্পতি এক বেলা খেলে তিন বেলা উপোষ কাটান। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত তাদের অসহায় অনুভূতিতে তীব্র সাড়া দেয়। বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সময় বৃষ্টির পানি তাদের গায়ের ওপর গড়ায়। না ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয় বসে বসে। 

গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীর মঙ্গলবার দুপুরে ছুটে যান ঘটনাস্থল চরহাজারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মহন্ত ডাক্তার বাড়ির পুকুর পাড়ে প্লাস্টিকের ছাউনিতে আশ্রিত অসহায় এ দম্পতিকে দেখার জন্য। ইউএনওকে দেখে বৃদ্ধ মতিলাল ও তার স্ত্রী তরুবালা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে।

ইউএনও আবেগাপ্লুত হয়ে এ অসহায় দম্পতির নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তাৎক্ষনিক এ দম্পতিকে খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন। এ সময় বৃদ্ধ মতিলাল পরের পুকুর পাড়ে প্লাস্টিকের ছাউনিতে আর মানবেতর জীবন-যাপন করতে ভালো লাগে না, এর চাইতে মৃত্যুটা অনেক শ্রেয় বলে মন্তব্য করার পর ইউএনওর কাছে আবেগঘন কথায় বিড়-বিড় করে বলেন, যদি সরকারী ভাবে একটা আশ্রয়ের জন্য ঘর পেতাম।

এসময় ইউএনও মো. জিয়াউল হক মীর অসহায় দম্পতির অনুভূতি বুঝতে পেরে তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের একটি ঘর প্রদানের আশ্বাস দেন। 

ইউএনও জিয়াউল হক মীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন অসহায় কেউ গৃহহীন থাকবে না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে অসহায় মতিলাল দম্পতিকে দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের অসহায় অবস্থা দেখে খাদ্য সামগ্রী প্রদান ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর প্রদানের আশ্বাস দিয়ে এসেছি ওই অসহায় দম্পতিকে। 

মতিলাল জানান, তার বয়স ৭০ পেরিয়ে গেলেও ভোটার আইডি কার্ডে তার বয়স ৬৫ বছরের কম হওয়ায় সরকারি নিয়মে বয়স্ক ভাতার কার্ডটিও বাতিল হয়ে যায়। এখন পাড়া-প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়েই চলে তাদের সংসার।

তিনি আরও জানান, ইতোপূর্বে ভিজিডি কার্ডের চাল পেতাম। দুবছর পূর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এখন সেই চালও পাচ্ছেন না। ফলে থাকার জায়গা দূরে থাক খাওয়ার জোগান করাই এখন দুঃসাধ্য মতিলাল দম্পতির।

মতিলাল আক্ষেপ করে বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের ঘর দিচ্ছে, আমাকে একটা টিনের ঘর দিলে আমি উপোষ থেকেও শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। মানবিক ইউএনওর ঘর করে দেয়ার আশ্বাসে এ অসহায় দম্পতি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন বলেও তারা জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন