ঈদে জেলেদের চাল নিয়ে নয়-ছয়, ফেঁসে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান
jugantor
ঈদে জেলেদের চাল নিয়ে নয়-ছয়, ফেঁসে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

১৪ মে ২০২১, ১৯:২৯:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে প্রান্তিক মৎস্য জেলেদের বরাদ্দকৃত ও ভিজিএফ চাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে পটুয়াখালীর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আলতাব হাওলাদার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ছোটবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার চাল দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ হলে বিক্ষোভে ফেটে পরে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের একটি দল ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গরিবের চাল নিয়ে কেউ দুর্নীতি আশ্রয় নিয়ে তাকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ৪৫০ জন জেলের জন্য ৩৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত চাল বুধবার বিকালে পটুয়াখালী জেলা শহরের লাউকাঠি নদীর ওপারে খাদ্য গুদাম থেকে ছাড় করে ট্রলারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু পথিমধ্যে ৩৫ বস্তা চাল সরিয়ে বাকি চাল নিয়ে ওই ইউনিয়নের ভুতুমিয়া লঞ্চঘাটে ট্রলার নোঙ্গর করে রাখা হয়।

চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের নয়-ছয়ের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে বুধবার রাত থেকেই লঞ্চঘাট এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এসময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ বিক্ষুব্ধ হয়ে বিচারের দাবিও জানায়। এমন ঘটনা জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীকে অবহিত করা হয়।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদ, ট্যাগ অফিসার সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার এবং সদর থানা পুলিশের এসআই দিপায়ন বড়ালসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করে তাৎক্ষনিক তদন্ত চালায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি বলেন, চালের বস্তার সঙ্গে স্টক মিলিয়ে ১৩ বস্তা কম পেয়েছি। এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসলাম মৃধা ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাচ্চু প্যাদাসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, বুধবার পটুয়াখালী শহর থেকে ট্রলার যোগে মৎস্য ৭২০ এবং ভিজিডি ১৩২ বস্তা ৩০ কেজিসহ মোট ৮৫২ বস্তা চাল নিয়ে দুইটি ট্রলার ভুতুমিয়া ঘাটে নোঙ্গর করে।

চাল দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে ইউএনওকে চেয়ারম্যান জানান, পন্টুনে দায়িত্বরত ইউপি সদস্য মাসুদ অপর ইউপি সদস্য সাইফুদ্দিন ৫ বস্তা চাল দিয়েছে। কিন্তু ইউপি সদস্য সাইফুদ্দিন লিখিতভাবে ইউএনওর কাছে দাবি করেন তিনি কোনো চাল নেয়নি। এছাড়াও ১৫ বস্তা চাল গোডাউনে আছে বলে চেয়ারম্যান দাবি করেন। বাকি ১৩ বস্তার হিসাব দিতে পারেনি। মোট ৩৫ বস্তা চাল নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, বুধবার বিকালে পটুয়াখালী খাদ্য গুদামে গেলে তিনি ট্রলারে চাল উঠাতে দেখে।

এ সময় খাদ্য গুদামে দায়িত্বরতকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়-৮৫২ বস্তা চাল দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হাওলাদার বলেন, প্রথম দিন ট্রলারে জায়গা না থাকায় অতিরিক্ত ৩৫ বস্তা গোডাউনে রেখে আসছি। পর দিন তা গোডাউন থেকে নিয়ে আসছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাল ইউনিয়নে পৌঁছানোর পূর্বের ঘটনাস্থল থেকে চলে আসছেন। চাল কম নেই।

ঈদে জেলেদের চাল নিয়ে নয়-ছয়, ফেঁসে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
১৪ মে ২০২১, ০৭:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে প্রান্তিক মৎস্য জেলেদের বরাদ্দকৃত ও ভিজিএফ চাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে পটুয়াখালীর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আলতাব হাওলাদার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ছোটবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার চাল দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ হলে বিক্ষোভে ফেটে পরে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের একটি দল ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গরিবের চাল নিয়ে কেউ দুর্নীতি আশ্রয় নিয়ে তাকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ৪৫০ জন জেলের জন্য ৩৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত চাল বুধবার বিকালে পটুয়াখালী জেলা শহরের লাউকাঠি নদীর ওপারে খাদ্য গুদাম থেকে ছাড় করে ট্রলারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু পথিমধ্যে ৩৫ বস্তা চাল সরিয়ে বাকি চাল নিয়ে ওই ইউনিয়নের ভুতুমিয়া লঞ্চঘাটে ট্রলার নোঙ্গর করে রাখা হয়।

চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের নয়-ছয়ের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে বুধবার রাত থেকেই লঞ্চঘাট এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এসময় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ বিক্ষুব্ধ হয়ে বিচারের দাবিও জানায়। এমন ঘটনা জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীকে অবহিত করা হয়। 

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদ, ট্যাগ অফিসার সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার এবং সদর থানা পুলিশের এসআই দিপায়ন বড়ালসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করে তাৎক্ষনিক তদন্ত চালায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি বলেন, চালের বস্তার সঙ্গে স্টক মিলিয়ে ১৩ বস্তা কম পেয়েছি। এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসলাম মৃধা ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাচ্চু প্যাদাসহ সংশ্লিষ্টরা বলেন, বুধবার পটুয়াখালী শহর থেকে ট্রলার যোগে মৎস্য ৭২০ এবং ভিজিডি ১৩২ বস্তা ৩০ কেজিসহ মোট ৮৫২ বস্তা চাল নিয়ে দুইটি ট্রলার ভুতুমিয়া ঘাটে নোঙ্গর করে।

চাল দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে ইউএনওকে চেয়ারম্যান জানান, পন্টুনে দায়িত্বরত ইউপি সদস্য মাসুদ অপর ইউপি সদস্য সাইফুদ্দিন ৫ বস্তা চাল দিয়েছে। কিন্তু ইউপি সদস্য সাইফুদ্দিন লিখিতভাবে ইউএনওর কাছে দাবি করেন তিনি কোনো চাল নেয়নি। এছাড়াও ১৫ বস্তা চাল গোডাউনে আছে বলে চেয়ারম্যান দাবি করেন। বাকি ১৩ বস্তার হিসাব দিতে পারেনি। মোট ৩৫ বস্তা চাল নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, বুধবার বিকালে পটুয়াখালী খাদ্য গুদামে গেলে তিনি ট্রলারে চাল উঠাতে দেখে।

এ সময় খাদ্য গুদামে দায়িত্বরতকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়-৮৫২ বস্তা চাল দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হাওলাদার বলেন, প্রথম দিন ট্রলারে জায়গা না থাকায় অতিরিক্ত ৩৫ বস্তা গোডাউনে রেখে আসছি। পর দিন তা গোডাউন থেকে নিয়ে আসছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাল ইউনিয়নে পৌঁছানোর পূর্বের ঘটনাস্থল থেকে চলে আসছেন। চাল কম নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন