বাজারে এলো ফলের রাজা আম (ভিডিও)
jugantor
বাজারে এলো ফলের রাজা আম (ভিডিও)

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

১৫ মে ২০২১, ২৩:২৮:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ফলের রাজা আম বাজারে এলো। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়েই শনিবার থেকে রাজশাহীতে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে।

গুটিকে রাজশাহীতে জাত আম বা স্থানীয় জাত বলা হয়। গুটির পরে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের সঙ্গে অন্য জাতের আমও বাজারে দেখা যাবে পর্যায়ক্রমে।

বৃষ্টিহীনতার কারণে এবার আমের আকার ছোট হয়েছে বলে চাষিরা বলেছেন। ঝড়বৃষ্টি কম হওয়ায় রাজশাহীতে গাছে গাছে আম কম নষ্ট হয়েছে যদিও। তবে চৈত্র-বৈশাখজুড়ে তাপপ্রবাহ ও বৈরি আবহাওয়া বেশ কিছুদিন সক্রিয় থাকায় আমের বাড়ন্ত গুটি ঝরে পড়ে। ফলে আমের সংখ্যা এবার কম হয়েছে গাছে।

আম চাষীরা আরও বলছেন, প্রতি বছরই গাছে প্রচুর মুকুল আসে। স্বাভাবিক আবহাওয়া সক্রিয় থাকলে আমের সংখ্যা বেশি হয়। কিছু আম ঝড় বৃষ্টিতে ঝরে পড়লেও অবশিষ্ট আমই ভাল ফলন এনে দেয়। তবে এবার তা হচ্ছে না। ফলে রাজশাহীতে আমের মোট ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরেই নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আসছে। গত ৭ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসন এক সভা করে জেলায় আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেন। প্রশাসনের দেওয়া সময়ানুযায়ী গুটি জাতের আম পাড়ার শুরুর দিন ছিল ১৫ মে। নির্ধারিত সময়েই গুটি আম গাছ থেকে নামাতে শুরু করেছেন রাজশাহীর চাষীরা।

শনিবার দিনের শুরুতে জেলাজুড়ে চাষীরা গাছ থেকে গুটি আম পেড়ে বিকালেই বিভিন্ন বাজারে তোলেন। কিন্তু ঈদের ছুটি ও পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে রাজশাহীতে আমের মোকামগুলি এখনো ব্যাপারীশুণ্য। ফলে কেনা-বেচাও কম। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আম কিনতে রাজশাহীতে আসেন বিপুল সংখ্যক ব্যাপারী।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর বাজারে শনিবার কোনো ব্যাপারী ছিল না। তবে স্থানীয় ফড়িয়ারা কিছু কম দামে আম কিনে মজুদ করছেন আড়তে। এছাড়া স্থানীয়রা মৌসুমের প্রথম আম সীমিত পরিমাণে কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের আমচাষী মো. রুহুল আমিন বলেন, চলতি মৌসুমে খরার প্রকোপ বেশি থাকায় গুটি আমে রঙ ধরে গেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। প্রশাসনের সময়সীমার কারণে তারা এতদিন আম নামাতে পারছিলেন না। শনিবার থেকে আম পাড়া শুরু করেছেন। এসব আম রোববার থেকে তারা বানেশ্বর মোকামে পাঠাতে শুরু করবেন। গুটি আম ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বেচতে পারলেও তারা খুশি হবেন। কিছুটা টক ও আকারে ছোট-গুটি আমে আঁশ বেশি। এ কারণে দেশব্যাপী গুটি আমের বাজার নেই।

স্থানীয়ভাবে এসব আম বিক্রি হবে বলে আশাবাদী রাজশাহীর হরিদাগাছির আম চাষী মোকবুল হোসেন সেখ। তবে কিছু গুটি আম চালানও হবে।

এদিকে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন বিভিন্নজাতের আম নামানোর যে সময়সূচী আগেই ঘোষণা করেছেন। সে অনুযায়ী গুটির পর আগামী ২০ মে থেকে বাজারে আসতে শুরু করবে গোপালভোগ আম। ২৫ মে থেকে বাজারে আসবে লক্ষণভোগ এবং ২৮ মে থেকে পাড়া শুরু হবে খিরসাপাত বা হিমসাগর আম। আর সবচেয়ে লোভনীয় ন্যাংড়া জাতের আম বাজারে আসবে ৬ জুন, হাইব্রিড জাতের আম্রপালি ও আমের রাজা ফজলি আসবে ১৫ জুন থেকে। শেষে ১০ জুলাই থেকে পাওয়া যাবে জাত আম আশ্বিনা ও দেশে উদ্ভাবিত বারি-৪ জাতের আম।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল বলেন, কয়েক বছর আগে নির্ধারিত সময়ের আগে আম নামিয়ে বাজারে দেওয়ার ফলে রাজশাহীর আমের সুনাম নষ্ট হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসন এ কারণে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেন। এবারও করা হয়েছে। নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত হওয়ায় রাজশাহীর আমের সুনাম ও চাহিদা বেড়েছে দেশব্যাপী।

তবে তিনি বলেন, যদি আবহাওয়ার কারণে কারো বাগানে আম আগেই পেকে যায়, তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে তা আগেও নামানো যেতে পারে। চাষীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক তাও আমরা চাই না। তবে পরিপক্ক হওয়ার আগে আম পেড়ে ফরমালিন বা কেমিকেল দিয়ে আম পাকানোর অভিযোগ কোথাও পাওয়া গেলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে রাজশাহীতে আমের বাগান বেড়েছে গত কয়েক বছরে। এবার আমবাগান আছে ১৭ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।

বাজারে এলো ফলের রাজা আম (ভিডিও)

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
১৫ মে ২০২১, ১১:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফলের রাজা আম বাজারে এলো। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়েই শনিবার থেকে রাজশাহীতে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে।

গুটিকে রাজশাহীতে জাত আম বা স্থানীয় জাত বলা হয়। গুটির পরে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের সঙ্গে অন্য জাতের আমও বাজারে দেখা যাবে পর্যায়ক্রমে।

বৃষ্টিহীনতার কারণে এবার আমের আকার ছোট হয়েছে বলে চাষিরা বলেছেন। ঝড়বৃষ্টি কম হওয়ায় রাজশাহীতে গাছে গাছে আম কম নষ্ট হয়েছে যদিও। তবে চৈত্র-বৈশাখজুড়ে তাপপ্রবাহ ও বৈরি আবহাওয়া বেশ কিছুদিন সক্রিয় থাকায়  আমের বাড়ন্ত গুটি ঝরে পড়ে। ফলে আমের সংখ্যা এবার কম হয়েছে গাছে।

আম চাষীরা আরও বলছেন, প্রতি বছরই গাছে প্রচুর মুকুল আসে। স্বাভাবিক আবহাওয়া সক্রিয় থাকলে আমের সংখ্যা বেশি হয়। কিছু আম ঝড় বৃষ্টিতে ঝরে পড়লেও অবশিষ্ট আমই ভাল ফলন এনে দেয়। তবে এবার তা হচ্ছে না। ফলে রাজশাহীতে আমের মোট ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরেই নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আসছে। গত ৭ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসন এক সভা করে জেলায় আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেন। প্রশাসনের দেওয়া সময়ানুযায়ী গুটি জাতের আম পাড়ার শুরুর দিন ছিল ১৫ মে। নির্ধারিত সময়েই গুটি আম গাছ থেকে নামাতে শুরু করেছেন রাজশাহীর চাষীরা।

শনিবার দিনের শুরুতে জেলাজুড়ে চাষীরা গাছ থেকে গুটি আম পেড়ে বিকালেই বিভিন্ন বাজারে তোলেন। কিন্তু ঈদের ছুটি ও পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে রাজশাহীতে আমের মোকামগুলি এখনো ব্যাপারীশুণ্য। ফলে কেনা-বেচাও কম। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আম কিনতে রাজশাহীতে আসেন বিপুল সংখ্যক ব্যাপারী।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর বাজারে শনিবার কোনো ব্যাপারী ছিল না। তবে স্থানীয় ফড়িয়ারা কিছু কম দামে আম কিনে মজুদ করছেন আড়তে। এছাড়া স্থানীয়রা মৌসুমের  প্রথম আম সীমিত পরিমাণে কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের আমচাষী মো. রুহুল আমিন বলেন, চলতি মৌসুমে খরার প্রকোপ বেশি থাকায় গুটি আমে রঙ ধরে গেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। প্রশাসনের সময়সীমার কারণে তারা এতদিন আম নামাতে পারছিলেন না। শনিবার থেকে আম পাড়া শুরু করেছেন। এসব আম রোববার থেকে তারা বানেশ্বর মোকামে পাঠাতে শুরু করবেন। গুটি আম ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বেচতে পারলেও তারা খুশি হবেন। কিছুটা টক ও আকারে ছোট-গুটি আমে আঁশ বেশি। এ কারণে দেশব্যাপী গুটি আমের বাজার নেই।

স্থানীয়ভাবে এসব আম বিক্রি হবে বলে আশাবাদী রাজশাহীর হরিদাগাছির আম চাষী মোকবুল হোসেন সেখ। তবে কিছু গুটি আম চালানও হবে।

এদিকে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন বিভিন্নজাতের আম নামানোর যে সময়সূচী আগেই ঘোষণা করেছেন। সে অনুযায়ী গুটির পর আগামী ২০ মে থেকে বাজারে আসতে শুরু করবে গোপালভোগ আম। ২৫ মে থেকে বাজারে আসবে লক্ষণভোগ এবং ২৮ মে থেকে পাড়া শুরু হবে খিরসাপাত বা হিমসাগর আম। আর সবচেয়ে লোভনীয় ন্যাংড়া জাতের আম বাজারে আসবে ৬ জুন, হাইব্রিড জাতের আম্রপালি ও আমের রাজা ফজলি আসবে ১৫ জুন থেকে। শেষে ১০ জুলাই থেকে পাওয়া যাবে জাত আম আশ্বিনা ও দেশে উদ্ভাবিত বারি-৪ জাতের আম।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল বলেন, কয়েক বছর আগে নির্ধারিত সময়ের আগে আম নামিয়ে বাজারে দেওয়ার ফলে  রাজশাহীর আমের সুনাম নষ্ট হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসন এ কারণে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেন। এবারও করা হয়েছে। নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত হওয়ায় রাজশাহীর আমের সুনাম ও চাহিদা বেড়েছে দেশব্যাপী।

তবে তিনি বলেন, যদি আবহাওয়ার কারণে কারো বাগানে আম আগেই পেকে যায়, তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে তা আগেও নামানো যেতে পারে। চাষীরা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক তাও আমরা চাই না। তবে পরিপক্ক হওয়ার আগে আম পেড়ে ফরমালিন বা কেমিকেল দিয়ে আম পাকানোর অভিযোগ কোথাও পাওয়া গেলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে রাজশাহীতে আমের বাগান বেড়েছে গত কয়েক বছরে। এবার আমবাগান আছে ১৭ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন