যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্নপূরণ বৃষ্টির
jugantor
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্নপূরণ বৃষ্টির

  অনলাইন ডেস্ক  

১৮ মে ২০২১, ১১:১৯:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

দরিদ্র বাবার মেধাবী মেয়ে সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের দিনমজুর শহীদুল ইসলামের মেয়ে তিনি।

এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছিল বৃষ্টির। দারিদ্র্যতার কারণে সুযোগ পেয়েও চিকিৎসক হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েন তার বাবা-মা। বৃষ্টির চোখেমুখে নেমে আসে হতাশা।

কিন্তু দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বদলে যায় দিন। মেধাবী এ ছাত্রীর স্বপ্ন পূরণে অনেকেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অবশেষে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে বৃষ্টির।

আগামী ২২ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে বগুড়া মেডিকেল কলেজে। আগামী ২৬ তারিখ ওই মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন বৃষ্টি।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম এ জন্য যুগান্তরকে ফোন করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যারা এ দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভর্তি ও বইকেনা বাবদ প্রথম দফায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এ পর্যন্ত তাকে দুজন ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন মেয়ের মেডিকেলে ভর্তির জন্য।

আরও অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন। সবার সহযোগিতা পেলে বৃষ্টি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে এবং চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের সেবা করবে।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করে চলেছেন বৃষ্টি। তবু লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। নিজের চেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম হয়েছিলেন। এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। বৃষ্টির বড়ভাইয়ের আয়ে চলে সংসার। মা নাসিমা বেগম গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। অভাবের কারণে বড়ভাই নাসির ও বোন হাসিকে পড়ালেখা করাতে পারেনি পরিবার। তবে জমি বলতে বাড়ির ভিটাটুকু। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছিল বৃষ্টির।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। মেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার।

স্কুলজীবন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা বৃষ্টি ডাক্তার হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়।

সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি বলেন, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ালেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।

পড়াশোনায় সহযোগিতার জন্য বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে এই মোবাইল নম্বরে ‘০১৭৪৫২৫১৩৬৩’ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্নপূরণ বৃষ্টির

 অনলাইন ডেস্ক 
১৮ মে ২০২১, ১১:১৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দরিদ্র বাবার মেধাবী মেয়ে সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের দিনমজুর শহীদুল ইসলামের মেয়ে তিনি।

এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছিল বৃষ্টির। দারিদ্র্যতার কারণে সুযোগ পেয়েও চিকিৎসক হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েন তার বাবা-মা। বৃষ্টির চোখেমুখে নেমে আসে হতাশা।

কিন্তু দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বদলে যায় দিন। মেধাবী এ ছাত্রীর স্বপ্ন পূরণে অনেকেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অবশেষে মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে বৃষ্টির।

আগামী ২২ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে বগুড়া মেডিকেল কলেজে।  আগামী ২৬ তারিখ ওই মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন বৃষ্টি।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম এ জন্য যুগান্তরকে ফোন করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যারা এ দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভর্তি ও বইকেনা বাবদ প্রথম দফায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এ পর্যন্ত তাকে দুজন ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন মেয়ের মেডিকেলে ভর্তির জন্য।

আরও অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন। সবার সহযোগিতা পেলে বৃষ্টি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে এবং চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের সেবা করবে।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করে চলেছেন বৃষ্টি। তবু লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। নিজের চেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম হয়েছিলেন। এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। বৃষ্টির বড়ভাইয়ের আয়ে চলে সংসার। মা নাসিমা বেগম গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। অভাবের কারণে বড়ভাই নাসির ও বোন হাসিকে পড়ালেখা করাতে পারেনি পরিবার। তবে জমি বলতে বাড়ির ভিটাটুকু। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছিল বৃষ্টির।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। মেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার।

স্কুলজীবন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা বৃষ্টি ডাক্তার হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়।

সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি বলেন, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ালেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।

পড়াশোনায় সহযোগিতার জন্য বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে এই মোবাইল নম্বরে ‘০১৭৪৫২৫১৩৬৩’ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন