বন্ধুত্ব করে মোটরসাইকেল বাগিয়ে নিত তারা
jugantor
বন্ধুত্ব করে মোটরসাইকেল বাগিয়ে নিত তারা

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

১৮ মে ২০২১, ২২:১৪:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে মোটরসাইকেল চুরির একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৎপর। লাগামহীনভাবে বেড়ে ওঠা এই চক্র দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ভূমিকাও বিগত দিনে দেখা যায়নি।

দীর্ঘদিন জেলার কলাপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা মামা-ভাগ্নে গ্রুপে কমিশনে কাজ করত একদল যুবক। তারা প্রথমে মোটরসাইকেল আছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত। পরে তারা সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল ছিনতাই করত।

এমন একটি দলের অনুসন্ধান করে নারীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি করা চারটি মোটরসাইকেল। আটককৃত ওই চক্রকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ এ দলের সূত্র ধরে গভীরে গেলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন হবে- এমন দাবি ভুক্তভোগীদের।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুকিত হাসান খানের অভিযানে চক্রটি আটক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, পুলিশ এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে।

ঘটনার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়- বন্ধুত্বের সূত্র ধরে গত ৯ মে রাকিব নামে এক যুবকের কাছে পটুয়াখালীতে আসেন বরিশাল জেলার গৌরনদীর বাসিন্দা জনৈক হুমায়ন মিঞা। কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসারের ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার (২৩)। রাকিব বর্তমানে পলাতক আছে। পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের কাছে পৌঁছতেই সাথে থাকা রাকিব কৌশলে হুমায়নের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি নিয়ে উধাও হয়।

মোটরসাইকেল না পেয়ে হুমায়ন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রথমে রাকিবের বাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু ঘটনার পরপরই রাকিব গা-ঢাকা দেয়।

মোবাইল ট্র্যাকিং করে রাকিবের সহযোগী রাসেল ওরফে দুলুকে (২৮) খুঁজে বের করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের ছোটভাই আল-আমিনকে সন্দেহ হলে তাকেও আটক করা হয়।

আটককৃত দুই ভাইয়ের দেয়া তথ্য ও সূত্রে তাদের মামা হালিম মুন্সির খোঁজ পায় এবং এ ঘটনার সঙ্গে মামা জড়িত বলে স্বীকার করে। অভিযানে পুলিশ হালিম মুন্সির পিছু নিলে গা-ঢাকা দেয় হালিম। পরে পটুয়াখালী জেলা শহরের ছোট চৌরাস্তায় হালিমের ভাড়া বাসায় হাজির হয় পুলিশের একটি দল।

এ সময় হালিমের বাসায় রক্ষিত একটি মোটরসাইকেল দেখে মালিকানা জানতে চায় পুলিশ। কিন্তু হালিমের স্ত্রী কারিমা বেগম (২২) পুলিশকে কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে পুলিশকে বাসা থেকে যেতে বাধ্য করে। রাতভর হালিমের বাসা পাহারায় বসিয়ে পরদিন সকালে কারিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

এ সময় পুলিশের কাছে কারিমা স্বীকার করে হুমায়নের মোটরসাইকেল সদর উপজেলার মাদারবুনিয়ার শংকরপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন চৌকিদারের ছেলে বাচ্চুর (৩২) কাছে রয়েছে। পরে আটক করা হয় বাচ্চুকে।

বাচ্চু পুলিশকে জানায়, হেতালিয়া বাধঘাট এলাকার নুর হোসেন শিকদারের ছেলে আল-আমিনকে (৩৫) হুমায়নের কাছ থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য দেয়া হয়েছে। কারিমা আরও জানায়, ওই দিন হুমায়নের মোটরসাইকেল নিয়ে রাকিব সটকে পড়ে চৌরাস্তায় পৌঁছে চক্রের অন্য সহযোগীর হাত পরিবর্তন হয়ে তাদের নিরাপদে চলে যায়। এভাবেই ওই চক্রটি কমিশন ভিত্তিতে কাজ করে আসছে।

পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত নারীসহ ছয়জন এবং পলাতক আরও চারজনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার মোটরসাইকেলের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। ধারণা করা হচ্ছে এসব মোটরসাইকেলগুলো চুরি করা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান জানান, মূলত এই চক্রের মূল হোতা কুয়াকাটা লতাচাপলি এলাকার আজিজ মুন্সির ছেলে হালিম মুন্সি ও তার দুই ভাগ্নে রাসেল ও আল-আমিন। অনুসন্ধানে আরও তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুরি থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত কমিশনের ভিত্তিতে তারা কাজ করত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান আরও বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত প্রধান আসামি হালিম মুন্সি ও তার ভাগ্নে রাসেলের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বন্ধুত্ব করে মোটরসাইকেল বাগিয়ে নিত তারা

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
১৮ মে ২০২১, ১০:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে মোটরসাইকেল চুরির একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৎপর। লাগামহীনভাবে বেড়ে ওঠা এই চক্র দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ভূমিকাও বিগত দিনে দেখা যায়নি।

দীর্ঘদিন জেলার কলাপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা মামা-ভাগ্নে গ্রুপে কমিশনে কাজ করত একদল যুবক। তারা প্রথমে মোটরসাইকেল আছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত। পরে তারা সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল ছিনতাই করত।

এমন একটি দলের অনুসন্ধান করে নারীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি করা চারটি মোটরসাইকেল। আটককৃত ওই চক্রকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ এ দলের সূত্র ধরে গভীরে গেলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন হবে- এমন দাবি ভুক্তভোগীদের।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুকিত হাসান খানের অভিযানে চক্রটি আটক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, পুলিশ এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে। 

ঘটনার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়- বন্ধুত্বের সূত্র ধরে গত ৯ মে রাকিব নামে এক যুবকের কাছে পটুয়াখালীতে আসেন বরিশাল জেলার গৌরনদীর বাসিন্দা জনৈক হুমায়ন মিঞা। কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসারের ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার (২৩)। রাকিব বর্তমানে পলাতক আছে। পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের কাছে পৌঁছতেই সাথে থাকা রাকিব কৌশলে হুমায়নের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি নিয়ে উধাও হয়।

মোটরসাইকেল না পেয়ে হুমায়ন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রথমে রাকিবের বাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু ঘটনার পরপরই রাকিব গা-ঢাকা দেয়।

মোবাইল ট্র্যাকিং করে রাকিবের সহযোগী রাসেল ওরফে দুলুকে (২৮) খুঁজে বের করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেলের ছোটভাই আল-আমিনকে সন্দেহ হলে তাকেও আটক করা হয়।

আটককৃত দুই ভাইয়ের দেয়া তথ্য ও সূত্রে তাদের মামা হালিম মুন্সির খোঁজ পায় এবং এ ঘটনার সঙ্গে মামা জড়িত বলে স্বীকার করে। অভিযানে পুলিশ হালিম মুন্সির পিছু নিলে গা-ঢাকা দেয় হালিম। পরে পটুয়াখালী জেলা শহরের ছোট চৌরাস্তায় হালিমের ভাড়া বাসায় হাজির হয় পুলিশের একটি দল।

এ সময় হালিমের বাসায় রক্ষিত একটি মোটরসাইকেল দেখে মালিকানা জানতে চায় পুলিশ। কিন্তু হালিমের স্ত্রী কারিমা বেগম (২২) পুলিশকে কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে পুলিশকে বাসা থেকে যেতে বাধ্য করে। রাতভর হালিমের বাসা পাহারায় বসিয়ে পরদিন সকালে কারিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

এ সময় পুলিশের কাছে কারিমা স্বীকার করে হুমায়নের মোটরসাইকেল সদর উপজেলার মাদারবুনিয়ার শংকরপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন চৌকিদারের ছেলে বাচ্চুর (৩২) কাছে রয়েছে। পরে আটক করা হয় বাচ্চুকে।

বাচ্চু পুলিশকে জানায়, হেতালিয়া বাধঘাট এলাকার নুর হোসেন শিকদারের ছেলে আল-আমিনকে (৩৫) হুমায়নের কাছ থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য দেয়া হয়েছে। কারিমা আরও জানায়, ওই দিন হুমায়নের মোটরসাইকেল নিয়ে রাকিব সটকে পড়ে চৌরাস্তায় পৌঁছে চক্রের অন্য সহযোগীর হাত পরিবর্তন হয়ে তাদের নিরাপদে চলে যায়। এভাবেই ওই চক্রটি কমিশন ভিত্তিতে কাজ করে আসছে।

পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত নারীসহ ছয়জন এবং পলাতক আরও চারজনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার মোটরসাইকেলের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। ধারণা করা হচ্ছে এসব মোটরসাইকেলগুলো চুরি করা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান জানান, মূলত এই চক্রের মূল হোতা কুয়াকাটা লতাচাপলি এলাকার আজিজ মুন্সির ছেলে হালিম মুন্সি ও তার দুই ভাগ্নে রাসেল ও আল-আমিন। অনুসন্ধানে আরও তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুরি থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত কমিশনের ভিত্তিতে তারা কাজ করত।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান আরও বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত প্রধান আসামি হালিম মুন্সি ও তার ভাগ্নে রাসেলের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন