শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন, দম্পতি গ্রেফতার
jugantor
শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন, দম্পতি গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও গাজীপুর প্রতিনিধি  

১৯ মে ২০২১, ০০:৩৪:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরে ফারজানা আক্তার মিম নামের ৯ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দেলোয়ার হোসেন এবং জেসমিন দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।

ওই দম্পতি মহানগরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়ির ভাড়া বাসায় বসবাস করে ওই এলাকায় পরিবহন (ট্রাক) ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক উত্তম কুমার সূত্রধর জানান, মিম গৃহকর্মী হিসাবে ওই দম্পতির কাছে ছিল। প্রাথমিকভাবে মিমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফারজানার পিতা আনিসুর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার বাজরা গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করে।

সেখানে ফারজানা আক্তার মিমের পিতা জানান, মিমের কপালে ৭টি সেলাইয়ের চিহ্ন রয়েছে। ডান হাতে কব্জির উপরে ভাঙার পর একটু বেকে গেছে। ঘাড়ের কাছে মারের চোটে কালো জখম। একইভাবে কোমরে ও কালো জখম রয়েছে। মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ কালো জখম করেছে।

তিনি আরও জানান, দেলোয়ার দম্পতি মিমকে দীর্ঘদিন যাবত অত্যাচার করে আসছিল। কাঠ দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। কিছুদিন আগে কাঠের আঘাতে কপালে গভীর ভাবে জখম হয়। পরে ৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শিশু বাচ্চার গোপনাঙ্গসহ শরীরে অমানবিক নির্যাতন করেছে।

আনিসুর রহমান জানান, তিনি করোনাকালে দুই মেয়েকে নিয়ে অভাবে ছিলেন। তাই গত বছর তাদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মিমকে দেলোয়ার দম্পতির কাছে দেন। তাদের বলা হয়েছিল মিমকে তাদের মেয়ের মতো রাখবে। দেলোয়ারের সমবয়সী মেয়ের খেলার সঙ্গী হিসাবে থাকবে। বিনিময়ে কোনো টাকা পয়সাও নেননি। মিমকে স্কুলেও ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু তারা শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি খাবারেও কষ্ট দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঈদের পরদিন তার শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন) ঝর্ণার কাছে মিমকে দিয়ে আসেন দেলোয়ার। তখন মিমের শরীরের এইসব চিহ্ন দেখে নির্যাতনের বিষয় জানতে পারেন এবং মিম একে একে সব নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। মেয়ের খোঁজ খবর নিতে দেলোয়ারকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি কখনো কোনো উত্তর দিতেন না।

জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, শিশুটির কপাল ঘাড় ও কোমরে নির্যাতনের জখম রয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন, দম্পতি গ্রেফতার

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও গাজীপুর প্রতিনিধি 
১৯ মে ২০২১, ১২:৩৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরে ফারজানা আক্তার মিম নামের ৯ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দেলোয়ার হোসেন এবং জেসমিন দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।

ওই দম্পতি মহানগরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়ির ভাড়া বাসায় বসবাস করে ওই এলাকায় পরিবহন (ট্রাক) ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক উত্তম কুমার সূত্রধর জানান, মিম গৃহকর্মী হিসাবে ওই দম্পতির কাছে ছিল। প্রাথমিকভাবে মিমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফারজানার পিতা আনিসুর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার বাজরা গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করে।

সেখানে ফারজানা আক্তার মিমের পিতা জানান, মিমের কপালে ৭টি সেলাইয়ের চিহ্ন রয়েছে। ডান হাতে কব্জির উপরে ভাঙার পর একটু বেকে গেছে। ঘাড়ের কাছে মারের চোটে কালো জখম। একইভাবে কোমরে ও কালো জখম রয়েছে। মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ কালো জখম করেছে।

তিনি আরও জানান, দেলোয়ার দম্পতি মিমকে দীর্ঘদিন যাবত অত্যাচার করে আসছিল। কাঠ দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। কিছুদিন আগে কাঠের আঘাতে কপালে গভীর ভাবে জখম হয়। পরে ৭টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শিশু বাচ্চার গোপনাঙ্গসহ শরীরে অমানবিক নির্যাতন করেছে।

আনিসুর রহমান জানান, তিনি করোনাকালে দুই মেয়েকে নিয়ে অভাবে ছিলেন। তাই গত বছর তাদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মিমকে দেলোয়ার দম্পতির কাছে দেন। তাদের বলা হয়েছিল মিমকে তাদের মেয়ের মতো রাখবে। দেলোয়ারের সমবয়সী মেয়ের খেলার সঙ্গী হিসাবে থাকবে। বিনিময়ে কোনো টাকা পয়সাও নেননি। মিমকে স্কুলেও ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু তারা শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি খাবারেও কষ্ট দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঈদের পরদিন তার শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন) ঝর্ণার কাছে মিমকে দিয়ে আসেন দেলোয়ার। তখন মিমের শরীরের এইসব চিহ্ন দেখে নির্যাতনের বিষয় জানতে পারেন এবং মিম একে একে সব নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। মেয়ের খোঁজ খবর নিতে দেলোয়ারকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি কখনো কোনো উত্তর দিতেন না।

জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, শিশুটির কপাল ঘাড় ও কোমরে নির্যাতনের জখম রয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন