পরকীয়া জেনে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ‘আত্মহত্যায় বাধ্য’ করালেন প্রবাসীর স্ত্রী
jugantor
পরকীয়া জেনে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ‘আত্মহত্যায় বাধ্য’ করালেন প্রবাসীর স্ত্রী

  নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  

১৯ মে ২০২১, ০১:০৬:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পরকীয়া সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় গৃহশিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে চোরের অপবাদ দিয়ে ‘আত্মহত্যায় বাধ্য’ করালেন প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিরকুট (চিঠি) লিখে রেখে গেছেন ওই ছাত্র।

ঘটনার শিকার উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের চারাবাগ গ্রামের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আজাদ মিয়া (২৪)।

মঙ্গলবার দুপুরে চারাবাগ গ্রামে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মো. মেহের আলীর ছেলে। মৃত্যুর আগে আত্মহত্যার কারণ নিজ হস্তে চিরকুটে লেখে গেছেন ওই ছাত্র।

এলাকাবাসী জানান, অনার্স পড়ুয়া ছাত্র আজাদ এক প্রবাসীর ছোট ছেলেকে প্রাইভেট পড়াত। ওই গৃহকর্তা প্রবাসী হওয়ায় তার স্ত্রী একই গ্রামের রাসেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করে আসছে। অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় আজাদকে চোরের অপবাদ দেয়। এতে লোকলজ্জায় আজাদ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

আজাদ মিয়া নিজ হাতে লেখা চিঠি তুলে ধরা হলো:

‘মৃত্যু আগে কেউ মিথ্যে কথা বলে না, এখন আমি সত্য কথা বলে দুনিয়ার বুক থেকে চলে যাব। রাসেলের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক। কিন্তু প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাসেলের অবৈধ সম্পর্ক আছে। মাঝে মধ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাসেল অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হত যা আমি দেখে ফেলি। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য মাঝে মধ্যে আমাকে টাকা দিত রাসেল।

এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী পাশের এলাকার তোফার স্ত্রী গেন্দির কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার আনে। গেন্দি টাকা ফেরত পেতে চাপ দেন প্রবাসীর স্ত্রীকে। টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি রাসেলকে জানান প্রবাসীর স্ত্রী। তোফার স্ত্রীর টাকা যাতে ফেরত দেয়া না লাগে রাসেল ও প্রবাসীর স্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেল আমাকে ফোন দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যেতে বলে। যাবার পরে রাসেল বলে, প্রবাসীর স্ত্রীর ফোন কিছুক্ষণের জন্য তোর কাছে রাখবি। পরে প্রবাসীর স্ত্রী ফোন খোঁজাখুঁজি করলে তুই বলবি যে তোফার স্ত্রী গেন্দি তোরে ফোনটা দিয়েছে। তখন গেন্দিকে চোর অপবাদ দিব যাতে টাকা ফেরত দিতে না হয়। কিন্তু পরে মোবাইল চোরের অপবাদটা আমার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।

আমার মা বাবা ও সমাজের কথা চিন্তা করে আমি তা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। শুধু তাই নয় রাসেল একজন ইয়াবা খোর। মাঝে মধ্যে প্রবাসীর ছেলে ও রাসেল ইয়াবা সেবনসহ মেয়ে এনে রাতভর বাড়িতে ফুর্তি করে এবং আজানের সময় বিদায় করে দেয়। ভোরে মেয়েটিকে বিদায় করার সময় আবু তালেবের ছেলে রাকিব দেখে ফেলে। চোরের অপবাদ সইতে না পেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলাম।’

মৃত্যুর আগে এমনটাই লিখে যান আজাদ।

নাগরপুর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরকীয়া জেনে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ‘আত্মহত্যায় বাধ্য’ করালেন প্রবাসীর স্ত্রী

 নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
১৯ মে ২০২১, ০১:০৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পরকীয়া সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় গৃহশিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে চোরের অপবাদ দিয়ে ‘আত্মহত্যায় বাধ্য’ করালেন প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিরকুট (চিঠি) লিখে রেখে গেছেন ওই ছাত্র।

ঘটনার শিকার উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের চারাবাগ গ্রামের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আজাদ মিয়া (২৪)।

মঙ্গলবার দুপুরে চারাবাগ গ্রামে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মো. মেহের আলীর ছেলে। মৃত্যুর আগে আত্মহত্যার কারণ নিজ হস্তে  চিরকুটে লেখে গেছেন ওই ছাত্র।

এলাকাবাসী জানান, অনার্স পড়ুয়া ছাত্র আজাদ এক প্রবাসীর  ছোট ছেলেকে প্রাইভেট পড়াত। ওই গৃহকর্তা প্রবাসী হওয়ায় তার স্ত্রী একই গ্রামের রাসেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করে আসছে। অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় আজাদকে চোরের অপবাদ দেয়। এতে লোকলজ্জায় আজাদ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

আজাদ মিয়া নিজ হাতে লেখা চিঠি তুলে ধরা হলো:

‘মৃত্যু আগে কেউ মিথ্যে কথা বলে না, এখন আমি সত্য কথা বলে দুনিয়ার বুক থেকে চলে যাব। রাসেলের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক। কিন্তু প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাসেলের অবৈধ সম্পর্ক আছে। মাঝে মধ্যে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রাসেল অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হত যা আমি দেখে ফেলি। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য মাঝে মধ্যে আমাকে টাকা দিত রাসেল।

এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী পাশের এলাকার তোফার স্ত্রী গেন্দির কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার আনে। গেন্দি টাকা ফেরত পেতে চাপ দেন প্রবাসীর স্ত্রীকে। টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি রাসেলকে জানান প্রবাসীর স্ত্রী। তোফার স্ত্রীর টাকা যাতে ফেরত দেয়া না লাগে রাসেল ও প্রবাসীর স্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেল আমাকে ফোন দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে যেতে বলে। যাবার পরে রাসেল বলে, প্রবাসীর স্ত্রীর ফোন কিছুক্ষণের জন্য তোর কাছে রাখবি। পরে প্রবাসীর স্ত্রী ফোন খোঁজাখুঁজি করলে তুই বলবি যে তোফার স্ত্রী গেন্দি তোরে ফোনটা দিয়েছে। তখন গেন্দিকে চোর অপবাদ দিব যাতে টাকা ফেরত দিতে না হয়। কিন্তু পরে মোবাইল চোরের অপবাদটা আমার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়।

আমার মা বাবা ও সমাজের কথা চিন্তা করে আমি তা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। শুধু তাই নয় রাসেল একজন ইয়াবা খোর। মাঝে মধ্যে প্রবাসীর ছেলে ও রাসেল ইয়াবা সেবনসহ মেয়ে এনে রাতভর বাড়িতে ফুর্তি  করে এবং আজানের সময় বিদায় করে দেয়। ভোরে মেয়েটিকে বিদায় করার সময় আবু তালেবের ছেলে রাকিব দেখে ফেলে। চোরের অপবাদ সইতে না পেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলাম।’

মৃত্যুর আগে এমনটাই লিখে যান আজাদ। 

নাগরপুর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন