মেয়েদের সঙ্গে নাচতে না দেয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুট
jugantor
মেয়েদের সঙ্গে নাচতে না দেয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুট

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

১৯ মে ২০২১, ০১:৫৯:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে মেয়েদের সঙ্গে নাচতে না দেয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাংচুর মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর।

বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের নাচগান করতে না দেয়ার আক্রোশে এ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও ধামরাই থানা পুলিশ সূত্র। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি নিরাপত্তায় ওই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের সুঙ্গর গ্রামের মো. চান মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুঙ্গর গ্রামের মো. চান মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে উপলক্ষে কন্যাদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মঙ্গলবার। প্রায় তিন সহস্রাধিক আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীকে আমন্ত্রণ দেয়া হয় ওই কন্যাদান অনুষ্ঠানে।

এ উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাড়িতে আমন্ত্রিত অতিথিদের (মেয়েরা) নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পাশের গ্রামের মো. সুলতান উদ্দিনের বখাটে ছেলে সূর্য্যল মিয়া বিনা আমন্ত্রণে তার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনাধিকার উপস্থিত হয়।

এরপর মেয়েদের সঙ্গে নাচানাচি শুরু করলে মো. চানমিয়ার ছেলে মো. শাওন এসে তাদেরকে নাচানাচি করতে বারণ করে। এরপরও জোর করে নাচানাচি করতে থাকলে চরথাপ্পর মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ খবর সূর্য্যলদের বাড়িতে পৌঁছলে কথিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. মেছের আলী ও আক্কাজ আলীর পরিবারের অপরাপর সদস্য ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা লাঠিসোটা, দা, খুন্তি ও লোহার রডসহ দেশীয় নিয়ে ওই বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

এ সময় হামলাকারীদের দায়ের কোপে আব্দুল বারেকের ছেলে সাহেব আলীর (৪০) হাতের হাড়, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবু হাসানের (৩৫) কান দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এছাড়া জমাত আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৪৩) ও আরফান আলসহী (৪৫) কমপক্ষে ১০ জন গুরুত্বর আহত হন।

অবস্থা বেগতিক দেখে চান মিয়া ৯৯৯ ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে ধামরাই থানা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ও এসআই মো. সেলিম রেজার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় রাতে ওই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

আহতদের উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মো. চান মিয়া বলেন, ট্রিপল নাইনে ফোন করা হলে ধামরাই থানা পুলিশের সহায়তায় ও নিরাপত্তায় আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। আমি এ ব্যাপারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।

এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সেলিম রেজা বলেন, ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।

মেয়েদের সঙ্গে নাচতে না দেয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুট

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
১৯ মে ২০২১, ০১:৫৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে মেয়েদের সঙ্গে নাচতে না দেয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা ভাংচুর মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর।

বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদের নাচগান  করতে না দেয়ার আক্রোশে এ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও ধামরাই থানা পুলিশ সূত্র। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি নিরাপত্তায় ওই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের সুঙ্গর গ্রামের মো. চান মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুঙ্গর গ্রামের মো. চান মিয়ার মেয়ে  শারমিন আক্তারের বিয়ে উপলক্ষে কন্যাদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মঙ্গলবার। প্রায়  তিন সহস্রাধিক আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীকে আমন্ত্রণ দেয়া হয় ওই কন্যাদান অনুষ্ঠানে।

এ উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাড়িতে আমন্ত্রিত অতিথিদের (মেয়েরা) নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পাশের গ্রামের মো. সুলতান উদ্দিনের বখাটে ছেলে সূর্য্যল মিয়া বিনা আমন্ত্রণে তার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনাধিকার উপস্থিত হয়।

এরপর মেয়েদের সঙ্গে নাচানাচি শুরু করলে মো. চানমিয়ার ছেলে মো. শাওন এসে তাদেরকে নাচানাচি করতে বারণ করে। এরপরও জোর করে নাচানাচি করতে থাকলে চরথাপ্পর মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ খবর সূর্য্যলদের বাড়িতে পৌঁছলে কথিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. মেছের আলী ও আক্কাজ আলীর পরিবারের অপরাপর সদস্য ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা লাঠিসোটা, দা, খুন্তি ও লোহার রডসহ দেশীয় নিয়ে ওই বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

এ সময় হামলাকারীদের দায়ের কোপে আব্দুল বারেকের ছেলে সাহেব আলীর (৪০) হাতের হাড়, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবু হাসানের (৩৫) কান দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এছাড়া জমাত আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৪৩) ও আরফান আলসহী (৪৫) কমপক্ষে ১০ জন গুরুত্বর আহত হন।

অবস্থা বেগতিক দেখে চান মিয়া ৯৯৯ ফোন করে বিষয়টি অবহিত করলে ধামরাই থানা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ও এসআই মো. সেলিম রেজার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় রাতে ওই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

আহতদের উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মো. চান মিয়া বলেন, ট্রিপল নাইনে ফোন করা হলে ধামরাই থানা পুলিশের সহায়তায় ও নিরাপত্তায় আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। আমি এ ব্যাপারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।

এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সেলিম রেজা বলেন, ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন