যমুনাপাড়ে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল
jugantor
যমুনাপাড়ে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল

  রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)  

২৩ মে ২০২১, ১১:১৭:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

যমুনাপাড়ে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল

করোনা মহামারির এই প্রতিকূল সময়েও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর যমুনা স্পার বাঁধ এলাকায় ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নেমেছে।

ঈদপরবর্তী সময়ে যমুনাপাড়ের নির্মল পরিবেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ভিড়। বেড়াতে আসা বেশিরভাগ মানুষের মুখেই মাস্ক নেই।

জানা যায়, যমুনা তীরে বিশ্বমানের ৮০০ শয্যাবিশিষ্ট খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, দৃষ্টিনন্দন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কারুকাজ খচিত বিশ্বশান্তি মঞ্জিলে মাজার শরিফ অবস্থিত। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকায় এলাকাটি সবার কাছে প্রিয়।

বিশেষ করে মাজার দেখতে সারাবছরই ভক্তবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের হাজার মানুষের ঢল নামলেও ঈদ-পূজাসহ অন্যান্য পার্বণে এসব দেখতে ভ্রমণপিপাসুদের পদচালনায় মুখরিত হয় পুরো এলাকা। এবার ঈদেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই এই এলাকায় শত শত মানুষ বেড়াতে আসছেন। দিনভর মাজার শরিফ, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা। বিকালে যমুনা স্পার বাঁধ এলাকায় বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসের অবিরত দৃষ্টি জুড়ানো যমুনা নদীতে পা ভেজানো ও আড্ডায় জমে ওঠে।

এদিকে দক্ষিণ সিরাজগঞ্জে কোনো পরিকল্পিত বিনোদন স্পট না থাকায় যমুনাপাড় বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। যমুনা পাড়ে শত শত মানুষ মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে চড়ে বেড়াতে এসেছে।

মানুষের এমন ভিড় উপলক্ষ্যে এখানে চটপটি, হালিম, ফাস্টফুডসহ মৌসুমি ফল ও ভাজা বাদাম বিক্রেতাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। বিনোদনের জন্য রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা।

অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েছেন। আবার তরুণরা বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে যমুনা তীরে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। শুধু এনায়েতপুর নয়, পার্শ্ববর্তী বেলকুচি, শাহাজাদপুর, চৌহালী, জেলা সদরসহ দূর থেকেও লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে আসছে।

তবে এবার করোনার দীর্ঘ ঘরবন্দি অবস্থায় থাকা দূরদূরান্তের লোকজন যমুনাপাড়ে এসে পিকনিক করছে।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, যমুনার অপরূপ সৌন্দর্য্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। বহুলোক এসেছে নদী মোহনায় নির্মল বিনোদন পেতে। তবে নদীর দুপাড়ের তীব্র ভাঙন ও দূষণ ভ্রমণপিপাসুদের কষ্ট ও হতাশায় ফেলে দিচ্ছে।
দ্রুত ভাঙন ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

এদিকে এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যমুনা স্পার বাঁধে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে বেড়াতে আসা সবাইকে মাস্ক পড়ে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

যমুনাপাড়ে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল

 রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) 
২৩ মে ২০২১, ১১:১৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যমুনাপাড়ে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল
ছবি: যুগান্তর

করোনা মহামারির এই প্রতিকূল সময়েও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর যমুনা স্পার বাঁধ এলাকায় ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নেমেছে।

ঈদপরবর্তী সময়ে যমুনাপাড়ের নির্মল পরিবেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ভিড়।  বেড়াতে আসা বেশিরভাগ মানুষের মুখেই মাস্ক নেই।

জানা যায়, যমুনা তীরে বিশ্বমানের ৮০০ শয্যাবিশিষ্ট খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, দৃষ্টিনন্দন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কারুকাজ খচিত বিশ্বশান্তি মঞ্জিলে মাজার শরিফ অবস্থিত। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকায় এলাকাটি সবার কাছে প্রিয়।

বিশেষ করে মাজার দেখতে সারাবছরই ভক্তবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের হাজার মানুষের ঢল নামলেও ঈদ-পূজাসহ অন্যান্য পার্বণে এসব দেখতে ভ্রমণপিপাসুদের পদচালনায় মুখরিত হয় পুরো এলাকা। এবার ঈদেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই এই এলাকায় শত শত মানুষ বেড়াতে আসছেন। দিনভর মাজার শরিফ, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা। বিকালে যমুনা স্পার বাঁধ এলাকায় বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসের অবিরত দৃষ্টি জুড়ানো যমুনা নদীতে পা ভেজানো ও আড্ডায় জমে ওঠে।

এদিকে দক্ষিণ সিরাজগঞ্জে কোনো পরিকল্পিত বিনোদন স্পট না থাকায় যমুনাপাড় বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। যমুনা পাড়ে শত শত মানুষ মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে চড়ে বেড়াতে এসেছে।

মানুষের এমন ভিড় উপলক্ষ্যে এখানে চটপটি, হালিম, ফাস্টফুডসহ মৌসুমি ফল ও ভাজা বাদাম বিক্রেতাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। বিনোদনের জন্য রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা।

অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েছেন। আবার তরুণরা বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে যমুনা তীরে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।  শুধু এনায়েতপুর নয়, পার্শ্ববর্তী বেলকুচি, শাহাজাদপুর, চৌহালী, জেলা সদরসহ দূর থেকেও লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে আসছে।

তবে এবার করোনার দীর্ঘ ঘরবন্দি অবস্থায় থাকা দূরদূরান্তের লোকজন যমুনাপাড়ে এসে পিকনিক করছে।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, যমুনার অপরূপ সৌন্দর্য্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে।  বহুলোক এসেছে নদী মোহনায় নির্মল বিনোদন পেতে। তবে নদীর দুপাড়ের তীব্র ভাঙন ও দূষণ ভ্রমণপিপাসুদের কষ্ট ও হতাশায় ফেলে দিচ্ছে।
দ্রুত ভাঙন ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

এদিকে এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যমুনা স্পার বাঁধে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে বেড়াতে আসা সবাইকে মাস্ক পড়ে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন