বয়স বাড়িয়ে ভাতার কার্ড, বাদ পড়েছেন ১৪৭ জন
jugantor
বয়স বাড়িয়ে ভাতার কার্ড, বাদ পড়েছেন ১৪৭ জন

  প্রান্ত সাহা বিভাস, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা)  

২৪ মে ২০২১, ২০:০৮:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ১৪৭ জন জালিয়াতি করে বয়স্ক ভাতার তালিকায় এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-ঠিকানা সঠিক থাকলেও বয়সের গরমিল পাওয়া গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীদের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন এসব ভাতাভোগীর নাম বাতিল করে নতুনদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আর সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা অর্থ ফেরত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বয়স্ক ভাতা পেতে নারীদের বয়স কমপক্ষে ৬২ ও পুরুষদের ৬৫ বছর হতে হয়। একজন ভাতাভোগী মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ভাতাভোগীদের নামে বই ইস্যু করা হয়।

ভাতাভোগীরা নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাতার টাকা পান। আর এসব ভাতাভোগীর তালিকা জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের এলাকা থেকে তৈরি করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের সঠিক বয়স নির্ধারণ করে ভাতার আওতায় আনেন সমাজসেবা কার্যালয়।

এ উপজেলায় বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছেন মোট ৮ হাজার ৭৮ জন। তার মধ্যে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নে ৯, নাজিরপুর ইউনিয়নে ২৪ জন, বড়খাপন ইউনিয়নে ২১ জন, খারনৈ ইউনিয়নে ১২ জন, কৈলাটী ইউনিয়নে ১৮ জন, পোগলা ইউনিয়নে ২৩ জন, রংছাতি ইউনিয়নে ১৭ জন, লেংগুরা ইউনিয়নে ২২ জন বয়স্ক ভাতাভোগীর বয়স জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এলাকার সচেতন মহলের কয়েকজন জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজনের যোগসাজশে ১৪৭ জন তাদের বয়স জালিয়াতি করে ভাতাভুক্ত হয়েছেন। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখে ঘষামাজা অথবা ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে ভাতাভুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে এ সুবিধা পেয়ে আসছেন।

বয়স জালিয়াতি করে ভাতার তালিকাভুক্ত হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বয়স নিয়ে সমস্যা থাকায় অনলাইনে তাদের ডাটা এন্ট্রি হয়নি। এখন তারা ভাতার টাকা পাচ্ছেন না।

ভাতা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম যুগান্তরকে বলেন, বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন। যারা বয়স চুরি করে ভাতাভোগী হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বয়স বাড়িয়ে ভাতার কার্ড, বাদ পড়েছেন ১৪৭ জন

 প্রান্ত সাহা বিভাস, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) 
২৪ মে ২০২১, ০৮:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ১৪৭ জন জালিয়াতি করে বয়স্ক ভাতার তালিকায় এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-ঠিকানা সঠিক থাকলেও বয়সের গরমিল পাওয়া গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীদের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন এসব ভাতাভোগীর নাম বাতিল করে নতুনদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আর সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা অর্থ ফেরত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বয়স্ক ভাতা পেতে নারীদের বয়স কমপক্ষে ৬২ ও পুরুষদের ৬৫ বছর হতে হয়। একজন ভাতাভোগী মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ভাতাভোগীদের নামে বই ইস্যু করা হয়।

ভাতাভোগীরা নিজেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাতার টাকা পান। আর এসব ভাতাভোগীর তালিকা জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের এলাকা থেকে তৈরি করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের সঠিক বয়স নির্ধারণ করে ভাতার আওতায় আনেন সমাজসেবা কার্যালয়।

এ উপজেলায় বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছেন মোট ৮ হাজার ৭৮ জন। তার মধ্যে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নে ৯, নাজিরপুর ইউনিয়নে ২৪ জন, বড়খাপন ইউনিয়নে ২১ জন, খারনৈ ইউনিয়নে ১২ জন, কৈলাটী ইউনিয়নে ১৮ জন, পোগলা ইউনিয়নে ২৩ জন, রংছাতি ইউনিয়নে ১৭ জন, লেংগুরা ইউনিয়নে ২২ জন বয়স্ক ভাতাভোগীর বয়স জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এলাকার সচেতন মহলের কয়েকজন জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজনের যোগসাজশে ১৪৭ জন তাদের বয়স জালিয়াতি করে ভাতাভুক্ত হয়েছেন। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখে ঘষামাজা অথবা ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে ভাতাভুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে এ সুবিধা পেয়ে আসছেন।

বয়স জালিয়াতি করে ভাতার তালিকাভুক্ত হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বয়স নিয়ে সমস্যা থাকায় অনলাইনে তাদের ডাটা এন্ট্রি হয়নি। এখন তারা ভাতার টাকা পাচ্ছেন না।

ভাতা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম যুগান্তরকে বলেন, বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন। যারা বয়স চুরি করে ভাতাভোগী হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন