‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে ২ আত্মহত্যা!
jugantor
‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে ২ আত্মহত্যা!

  বগুড়া ব্যুরো  

২৬ মে ২০২১, ২০:০০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বগুড়ার শিক্ষার্থীদের মানসিক অবসাদ গ্রাস করছে। লেখাপড়া না থাকায় অনেকে মোবাইল ফোনে ফ্রি ফায়ারসহ নানা গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

অনেক কোমলমতি শিশু তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরকুনো হয়ে গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছে। এ গেম খেলতে মোবাইল ফোন না পেয়ে গত আট দিনে দুই স্কুলশিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়েছে।

তাই ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও ফোনে এসব গেম বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শাজাহানপুরে মোবাইল ফোনে ‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে মায়ের ওপর অভিমান করে উম্মে হাবিবা বর্ষা (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বি-ব্লক রহিমাবাদ এলাকার ভাড়া বাড়ির শয়ন ঘরে এ ঘটনার আগে সে একটি চিরকুট লিখে রাখে। মঙ্গলবার সকালে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ গেম খেলতে মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় গত ১৬ মে রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর এরুলিয়া গ্রামে ঘরে আড়ার সঙ্গে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে আখিরুল ইসলাম (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

শাজাহানপুর থানার এসআই সোহেল রানা জানান, মৃত্যুর আগে ছাত্রী বর্ষা খাতায় লিখে গেছে- ‘আমি ফ্রি ফায়ার গেম খেলে নামি খেলোয়াড় হতে চাই। বাবা-মা গেম খেলতে দিতো না; বকাঝকা করত। তাই আমি চলে গেলাম। আমাকে আর বকাঝকা করতে হবে না। গুডবাই বাবা, গুডবাই মা।'

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, উম্মে হাবিবা বর্ষা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সেনা সার্জেন্ট রওশন হাবিবের মেয়ে। সে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চাকরির সুবাদে বাবা ঢাকা সেনানিবাসে থাকেন। মা দুই মেয়ে নিয়ে স্কুলের কাছে শাজাহানপুরে ভাড়া বাড়িতে আছেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বর্ষা মোবাইল ফোনে ফ্রি ফায়ার গেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সোমবার রাতে মায়ের কাছে মোবাইল ফোন চায়। মা ফোন না দেওয়ায় সে অভিমান করে নিজের শয়ন ঘরে চলে যায়।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মা ডাকতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের জানালা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্কুলছাত্রীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এক বছরের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিরক্ত হয়ে গেছে। অনেকে মোবাইল ফোনে খেলাধুলা ও কোচিং করে সময় কাটাচ্ছে। আবার কেউ কেউ জনপ্রিয় ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন। অনেক ছাত্রছাত্রী বাবা-মায়ের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে ২ আত্মহত্যা!

 বগুড়া ব্যুরো 
২৬ মে ২০২১, ০৮:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বগুড়ার শিক্ষার্থীদের মানসিক অবসাদ গ্রাস করছে। লেখাপড়া না থাকায় অনেকে মোবাইল ফোনে ফ্রি ফায়ারসহ নানা গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

অনেক কোমলমতি শিশু তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরকুনো হয়ে গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে যাচ্ছে। এ গেম খেলতে মোবাইল ফোন না পেয়ে গত আট দিনে দুই স্কুলশিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়েছে।

তাই ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও ফোনে এসব গেম বন্ধ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শাজাহানপুরে মোবাইল ফোনে ‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে মায়ের ওপর অভিমান করে উম্মে হাবিবা বর্ষা (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বি-ব্লক রহিমাবাদ এলাকার ভাড়া বাড়ির শয়ন ঘরে এ ঘটনার আগে সে একটি চিরকুট লিখে রাখে। মঙ্গলবার সকালে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ গেম খেলতে মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় গত ১৬ মে রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদিপুর এরুলিয়া গ্রামে ঘরে আড়ার সঙ্গে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে আখিরুল ইসলাম (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

শাজাহানপুর থানার এসআই সোহেল রানা জানান, মৃত্যুর আগে ছাত্রী বর্ষা খাতায় লিখে গেছে- ‘আমি ফ্রি ফায়ার গেম খেলে নামি খেলোয়াড় হতে চাই। বাবা-মা গেম খেলতে দিতো না; বকাঝকা করত। তাই আমি চলে গেলাম। আমাকে আর বকাঝকা করতে হবে না। গুডবাই বাবা, গুডবাই মা।'

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, উম্মে হাবিবা বর্ষা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সেনা সার্জেন্ট রওশন হাবিবের মেয়ে। সে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চাকরির সুবাদে বাবা ঢাকা সেনানিবাসে থাকেন। মা দুই মেয়ে নিয়ে স্কুলের কাছে শাজাহানপুরে ভাড়া বাড়িতে আছেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বর্ষা মোবাইল ফোনে ফ্রি ফায়ার গেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সোমবার রাতে মায়ের কাছে মোবাইল ফোন চায়। মা ফোন না দেওয়ায় সে অভিমান করে নিজের শয়ন ঘরে চলে যায়।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মা ডাকতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের জানালা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্কুলছাত্রীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এক বছরের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিরক্ত হয়ে গেছে। অনেকে মোবাইল ফোনে খেলাধুলা ও কোচিং করে সময় কাটাচ্ছে। আবার কেউ কেউ জনপ্রিয় ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন। অনেক ছাত্রছাত্রী বাবা-মায়ের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন