লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ ক্রেতারা 
jugantor
লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ ক্রেতারা 

  মো. আব্দুর রাজ্জাক ও আতিউর রহমান, বীরগঞ্জ ও বিরল প্রতিনিধি   

২৬ মে ২০২১, ২১:২২:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

ফলন বিপর্যয়ে লিচু চাষীদের হতাশার পর এখন বাজারে লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলায় বাজারে লিচু উঠলেও গত বছরের তুলনায় এবার দাম দ্বিগুণ।

গত বছরের তুলনায় এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন প্রায় ৭০ শতাংশ কম হওয়ায় আকাশচুম্বি দামে লিচুর স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা। তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লিচুর স্বাদ ও মানও কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বুধবার দেশের সর্ববৃহৎ লিচুর বাজার দিনাজপুরের বড় ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে লিচু উঠেছে তবে অন্যবারের তুলনায় বেশ কম। বাজারের অনেক দোকানই লিচুর অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেদানা জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিশ' প্রকারভেদে ৫শ' টাকা থেকে ৭শ' টাকার উপরে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিশ' প্রকারভেদে ২শ' টাকা থেকে ৩শ' টাকার উপরে।

গত বছর বেদানা জাতের লিচু বিক্রি হয় প্রকারভেদে ৩শ' টাকা থেকে ৫শ' টাকার মধ্যে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচু বিক্রি হয় ১শ' থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে (প্রতিশ')। পরিপক্ব চায়না-থ্রিসহ অন্যান্য জাতের লিচু এখনও তেমন বাজারে উঠেনি। আর বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন এবার একেবারেই হয়নি।

দামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বড়মাঠ লিচু বাজারের ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, বাগানগুলোতে এবার লিচু নেই। বাগান মালিকরা যে স্বল্প পরিমাণ লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন, প্রতিযোগিতার মুখে তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণেই বেশি দামে কিনে সামান্য লাভ রেখে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

তিনি স্বীকার করেন, দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই লিচু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানান, এবার বাগানে লিচু নেই। যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, তা সপ্তাহান্তেই শেষ হয়ে যাবে।

বাজারে লিচু কিনতে আসা আজাহার আলী নামে এক ক্রেতা জানান, দিনাজপুরের লিচুর সুখ্যাতি থাকায় প্রতি বছর ঢাকায় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছে লিচু পাঠাতে হয়। কিন্তু বাজারে গত বছরের তুলনায় দাম দ্বিগুণ। ঝুড়ি, প্যাকিং আর কুরিয়ার খরচ দিয়ে প্রতিশ' বেদানা লিচুর দাম পড়বে প্রায় এক হাজার টাকা। তার মানে একটি লিচুর দাম ১০ টাকা। এই দামে এবার ঢাকায় লিচু পাঠানো সম্ভব নয়। শুধু ঢাকায় নয়, এ দামে লিচু কিনে পরিবারের মুখেও দেয়া অসম্ভব। তাই পরখ করে নয়, দেখেই লিচুর স্বাদ মেটাতে হবে।

বাজারে রমজান আলী নামে আরেক ক্রেতা জানালেন, যে দামে লিচু বিক্রি হচ্ছে, তা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এই দামে শুধু উচ্চবিত্ত ও সরকারি কর্মকর্তারাই লিচু কিনছেন। এ অবস্থায় লিচু কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন তিনি।

বাজারে লিচু কিনতে আসা আব্দুস সালাম জানান, এবার দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও গত বছরের মতো লিচুর স্বাদ ও মান নেই। তাই বেশি দামে কিনেও লিচুর প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছেন না তারা।

বড়মাঠ বাজারে লিচু বিক্রি করতে আসা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী এলাকার লিচু চাষী মো. মোসলেম উদ্দীন জানান, তার বাগানে মোট ১০০টি লিচুর গাছ রয়েছে। কিন্তু ফল ধরেছে মাত্র ২৫টি গাছে। অধিকাংশ গাছেই লিচুর ফলন না হওয়ায় হতাশ তিনি।

তিনি বলেন, এমনিতে লোকসান। তার ওপর যেটুকু লিচুর ফলন এসেছে, সেটুকুর একটু বেশি দাম না পেলে তিনি চলবেন কীভাবে?

বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচু চাষী নুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার লিচুর ফলন নেই বললেই চলে। বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব কষতে হয় এ লিচুকে ঘিরেই। কিন্তু এবার লিচুর ফলন না হওয়ায় আয়-ব্যয়ের অংকটা কষবেন কীভাবে-এ নিয়ে হতাশ তিনি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, বাংলাদেশের যে কয়টি জেলায় লিচু উৎপাদন হয় তার সিংহভাগই উৎপাদন হয় দিনাজপুর জেলায়। তাছাড়া এ জেলার লিচুর বেশ সুখ্যাতিও রয়েছে। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়াগত কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি জানান, দিনাজপুরে এবার মাত্র ৩০ শতাংশ গাছে ফলন হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৬শ' হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে বলে জানান তিনি।

লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ ক্রেতারা 

 মো. আব্দুর রাজ্জাক ও আতিউর রহমান, বীরগঞ্জ ও বিরল প্রতিনিধি  
২৬ মে ২০২১, ০৯:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফলন বিপর্যয়ে লিচু চাষীদের হতাশার পর এখন বাজারে লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলায় বাজারে লিচু উঠলেও গত বছরের তুলনায় এবার দাম দ্বিগুণ। 

গত বছরের তুলনায় এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন প্রায় ৭০ শতাংশ কম হওয়ায় আকাশচুম্বি দামে লিচুর স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা। তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লিচুর স্বাদ ও মানও কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। 

বুধবার দেশের সর্ববৃহৎ লিচুর বাজার দিনাজপুরের বড় ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে লিচু উঠেছে তবে অন্যবারের তুলনায় বেশ কম। বাজারের অনেক দোকানই লিচুর অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে। 

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেদানা জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিশ' প্রকারভেদে ৫শ' টাকা থেকে ৭শ' টাকার উপরে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিশ' প্রকারভেদে ২শ' টাকা থেকে ৩শ' টাকার উপরে। 

গত বছর বেদানা জাতের লিচু বিক্রি হয় প্রকারভেদে ৩শ' টাকা থেকে ৫শ' টাকার মধ্যে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচু বিক্রি হয় ১শ' থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে (প্রতিশ')। পরিপক্ব চায়না-থ্রিসহ অন্যান্য জাতের লিচু এখনও তেমন বাজারে উঠেনি। আর বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন এবার একেবারেই হয়নি। 

দামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বড়মাঠ লিচু বাজারের ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, বাগানগুলোতে এবার লিচু নেই। বাগান মালিকরা যে স্বল্প পরিমাণ লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন, প্রতিযোগিতার মুখে তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণেই বেশি দামে কিনে সামান্য লাভ রেখে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। 

তিনি স্বীকার করেন, দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই লিচু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। 

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানান, এবার বাগানে লিচু নেই। যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, তা সপ্তাহান্তেই শেষ হয়ে যাবে। 

বাজারে লিচু কিনতে আসা আজাহার আলী নামে এক ক্রেতা জানান, দিনাজপুরের লিচুর সুখ্যাতি থাকায় প্রতি বছর ঢাকায় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছে লিচু পাঠাতে হয়। কিন্তু বাজারে গত বছরের তুলনায় দাম দ্বিগুণ। ঝুড়ি, প্যাকিং আর কুরিয়ার খরচ দিয়ে প্রতিশ' বেদানা লিচুর দাম পড়বে প্রায় এক হাজার টাকা। তার মানে একটি লিচুর দাম ১০ টাকা। এই দামে এবার ঢাকায় লিচু পাঠানো সম্ভব নয়। শুধু ঢাকায় নয়, এ দামে লিচু কিনে পরিবারের মুখেও দেয়া অসম্ভব। তাই পরখ করে নয়, দেখেই লিচুর স্বাদ মেটাতে হবে।

বাজারে রমজান আলী নামে আরেক ক্রেতা জানালেন, যে দামে লিচু বিক্রি হচ্ছে, তা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। এই দামে শুধু উচ্চবিত্ত ও সরকারি কর্মকর্তারাই লিচু কিনছেন। এ অবস্থায় লিচু কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন তিনি।  

বাজারে লিচু কিনতে আসা আব্দুস সালাম জানান, এবার দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও গত বছরের মতো লিচুর স্বাদ ও মান নেই। তাই বেশি দামে কিনেও লিচুর প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছেন না তারা। 

বড়মাঠ বাজারে লিচু বিক্রি করতে আসা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী এলাকার লিচু চাষী মো. মোসলেম উদ্দীন জানান, তার বাগানে মোট ১০০টি লিচুর গাছ রয়েছে। কিন্তু ফল ধরেছে মাত্র ২৫টি গাছে। অধিকাংশ গাছেই লিচুর ফলন না হওয়ায় হতাশ তিনি। 

তিনি বলেন, এমনিতে লোকসান। তার ওপর যেটুকু লিচুর ফলন এসেছে, সেটুকুর একটু বেশি দাম না পেলে তিনি চলবেন কীভাবে?

বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচু চাষী নুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার লিচুর ফলন নেই বললেই চলে। বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব কষতে হয় এ লিচুকে ঘিরেই। কিন্তু এবার লিচুর ফলন না হওয়ায় আয়-ব্যয়ের অংকটা কষবেন কীভাবে-এ নিয়ে হতাশ তিনি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, বাংলাদেশের যে কয়টি জেলায় লিচু উৎপাদন হয় তার সিংহভাগই উৎপাদন হয় দিনাজপুর জেলায়। তাছাড়া এ জেলার লিচুর বেশ সুখ্যাতিও রয়েছে। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়াগত কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। 

তিনি জানান, দিনাজপুরে এবার মাত্র ৩০ শতাংশ গাছে ফলন হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৬শ' হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন