ইয়াসের প্রভাব: মোরেলগঞ্জে শিশুর মৃত্যু, নদীতে মৃত হরিণ
jugantor
ইয়াসের প্রভাব: মোরেলগঞ্জে শিশুর মৃত্যু, নদীতে মৃত হরিণ

  বাগেরহাট প্রতিনিধি  

২৬ মে ২০২১, ২১:৩১:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে পড়ে জিনিয়া নামে (৪) এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সুন্দরবনের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি মৃত হরিণ। এছাড়া ঝড় ও পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাটের অন্তত ২০টি গ্রামে রাস্তা উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।

বুধবার দুপুরের পর থেকে কার্যত জেলার বলেশ্বর, পানগুছি, ভৈরবসহ বড় বড় নদ-নদীতে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। এছাড়া ফকিরহাট, মোংলা ও রামপালের অসংখ্য মৎস্য ঘের ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে।

বুধবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে খাউলিয়ার চালিতাবুনিয়া গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক কালাম গাজীর স্ত্রী লিজা বেগম তার শিশুকন্যা জিনিয়াকে ঘরে রেখে গরুকে পানি থেকে বাঁচাতে ছুটে যান। পরে ঘরে এসে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের পাশে পানির মধ্যে তাকে খুঁজে পেয়ে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় খাউলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দুপুরের দিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অসতর্কতার কারণে শিশুটি ঘরের কাছে পানিতে পড়ে মারা গেছে।

অপরদিকে বুধবার বিকালের দিকে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের বলেশ্বর নদীর তীরে একটি মৃত হরিণ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন মৃত হরিণটি উদ্ধার করেন।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো.জয়নুল আবেদীন জানান, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের ওই হরিণটি মারা যেতে পারে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের ফলে বুধবার দুপুরের পর বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদীর পানি উপচে সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা, রহিমাবাদ, বিষ্ণুপুর চরগ্রাম, গোটাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। ভৈরব নদীর অপর শাখা দড়াটানা নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বাসাবাড়ি, মারিয়া পল্লী, রাধাবল্লভ, বিসিক শিল্প এলাকা, বৈটপুর, ভদ্রপাড়া ও তালেশ্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

বাগেরহাট সদরের মাঝিডাঙ্গা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা দেখতে যান বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোছাব্বিরুল ইসলাম। ওই সময়ে তিনি পানিতে আটকে পড়াদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে তেমন ঝড়োহাওয়া না থাকলেও বিকাল পর্যন্ত বাগেরহাটে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শরণখোলা উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। জলমগ্ন হয়ে রয়েছে শরণখোলার কয়েকশ' পরিবার।

মঙ্গলবার গভীর রাতেই সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শরণখোলার রায়েন্দা, রাজৈর, খুড়িয়াখারী, কদমতলা ও জিলবুনিয়া গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। তবে ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান, রাতে রায়েন্দা এলাকার বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের কপাট না থাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

প্লাবিত এলাকাগুলোর বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তীব্র জোয়ারের চাপে কাজ করা কঠিন হচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় শুকনা খাবার সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

ইয়াসের প্রভাব: মোরেলগঞ্জে শিশুর মৃত্যু, নদীতে মৃত হরিণ

 বাগেরহাট প্রতিনিধি 
২৬ মে ২০২১, ০৯:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে পড়ে জিনিয়া নামে (৪) এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সুন্দরবনের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি মৃত হরিণ। এছাড়া ঝড় ও পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাটের অন্তত ২০টি গ্রামে রাস্তা উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।

বুধবার দুপুরের পর থেকে কার্যত জেলার বলেশ্বর, পানগুছি, ভৈরবসহ বড় বড় নদ-নদীতে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। এছাড়া ফকিরহাট, মোংলা ও রামপালের অসংখ্য মৎস্য ঘের ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে। 

বুধবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে খাউলিয়ার চালিতাবুনিয়া গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক কালাম গাজীর স্ত্রী লিজা বেগম তার শিশুকন্যা জিনিয়াকে ঘরে রেখে গরুকে পানি থেকে বাঁচাতে ছুটে যান। পরে ঘরে এসে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের পাশে পানির মধ্যে তাকে খুঁজে পেয়ে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় খাউলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দুপুরের দিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অসতর্কতার কারণে শিশুটি ঘরের কাছে পানিতে পড়ে মারা গেছে।

অপরদিকে বুধবার বিকালের দিকে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের বলেশ্বর নদীর তীরে একটি মৃত হরিণ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন মৃত হরিণটি উদ্ধার করেন।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো.জয়নুল আবেদীন জানান, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের ওই হরিণটি মারা যেতে পারে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের ফলে বুধবার দুপুরের পর বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদীর পানি উপচে সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা, রহিমাবাদ, বিষ্ণুপুর চরগ্রাম, গোটাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। ভৈরব নদীর অপর শাখা দড়াটানা নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বাসাবাড়ি, মারিয়া পল্লী, রাধাবল্লভ, বিসিক শিল্প এলাকা, বৈটপুর, ভদ্রপাড়া ও তালেশ্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

বাগেরহাট সদরের মাঝিডাঙ্গা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা দেখতে যান বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোছাব্বিরুল ইসলাম। ওই সময়ে তিনি পানিতে আটকে পড়াদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে তেমন ঝড়োহাওয়া না থাকলেও বিকাল পর্যন্ত বাগেরহাটে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শরণখোলা উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। জলমগ্ন হয়ে রয়েছে শরণখোলার কয়েকশ' পরিবার।

মঙ্গলবার গভীর রাতেই সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শরণখোলার রায়েন্দা, রাজৈর, খুড়িয়াখারী, কদমতলা ও জিলবুনিয়া গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। তবে ওই এলাকার স্থানীয়রা জানান, রাতে রায়েন্দা এলাকার বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের কপাট না থাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। 

প্লাবিত এলাকাগুলোর বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তীব্র জোয়ারের চাপে কাজ করা কঠিন হচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় শুকনা খাবার সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন