প্রতিবন্ধী নারীকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ
jugantor
প্রতিবন্ধী নারীকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ

  ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী)  

২৭ মে ২০২১, ১৬:৩৩:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর তানোরে এক প্রতিবন্ধী আদিবাসী নারী জীবিত থাকার পরও তাকে মৃত দেখিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারী জন্ম থেকে কথা বলতে পারে না। তার নাম শ্রীমতি মার্শিলা সরেন (৩২)।

তার বাবা সুপল সরেন ও মা শ্রীমতি মতি ফুলমনি মূর্মূ মারা যাবার পর থেকে বড় ভাই জুয়েল সরেনের অভাবী সংসারে থাকেন মার্শিলা। মার্শিলা সরেনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের যোগীশো আদিবাসী পাড়ায়।

মার্শিলার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ দেয়া হয়েছে ১২ অক্টোবর ১৯৮৮ সাল।

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পরিশোধ বইয়ের আলোকে জানা গেছে, মার্শিলা সরেন ২০১৯ সাল এবং ২০২০ সালে জুলাই হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ২২৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধীর ভাতা পেয়েছেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণের বই নম্বর- ৯২৩। ব্যাংক হিসাব নং- ২৫৭। ২০২১ সালে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে সে ২০২০ সালের জুলাই হতে সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে আর কোনো প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি। মার্শিলার সরেনের বড় ভাই দিনের পর দিন তানোর সমাজসেবা অফিসের ঘুরে বোনের প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়ে কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

সরেজমিনে যোগীশো আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, দুপুরবেলা রোদের মধ্যে মার্শিলা সরেন বসে আছেন। কথা হয় তার বড় ভাই জুয়েল সরেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অভাবের সংসার আমাদের। কাজ না করলে পেটের ভাত জোটে না। বাবা-মা মারা যাবার পর থেকে মার্শিলা আমি ও আমার বৌ দেখভাল করি। ছোটের বোনের প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে অফিসের বড় বাবুরা। আমার বোন নাকি মরে গেছে।

আমার বোন জীবিত আছে এ মর্মে পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। কিন্তু সমাজসেবা অফিসের বড় বড় বাবুরা বলছে আমার বোন মরে গেছে। ভোটার তালিকায় তোমার বোনের নাম নেই। সে জন্য তোমার বোনের প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

তানোর উপজেলা পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার যোগীশো গ্রামের শ্রী মতি মার্শিলা সরেন জীবিত আছে। এ মর্মে আমি মার্শিলার ভাই জুয়েল সরেনকে প্রত্যায়ন দিয়েছি। আমার পরিষদ থেকে মাশিলা সরেনকে মৃত ঘোষণা করিনি। তাহলে সমাজসেবার কর্মকর্তারা কিভাবে তাকে মৃত বলেন। সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা এর জন্য দায়ী।

তানোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ হোসেন খাঁন বলেন, ভোটার তালিকায় শ্রী মতি মার্শিলা সরেনের নাম নেই। তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। সে জন্য তার প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।

তাহলে ইর্তিপূর্বে মার্শিলা সরেন কিভাবে ভাতা তুললেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে কিভাবে প্রতিবন্ধীর টাকা উত্তোলন করেছে আমার জানা নেই। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনের মাধ্যমে সব দেখে ভাতা প্রদান করা হয়। নির্বাচন অফিসকে বলুন বিষয়টি ঠিক করতে বলে এড়িয়ে যান তিনি।

প্রতিবন্ধী নারীকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ

 ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) 
২৭ মে ২০২১, ০৪:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর তানোরে এক প্রতিবন্ধী আদিবাসী নারী জীবিত থাকার পরও তাকে মৃত দেখিয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারী জন্ম থেকে কথা বলতে পারে না। তার নাম শ্রীমতি মার্শিলা সরেন (৩২)।

তার বাবা সুপল সরেন ও মা শ্রীমতি মতি ফুলমনি মূর্মূ মারা যাবার পর থেকে বড় ভাই জুয়েল সরেনের অভাবী সংসারে থাকেন মার্শিলা। মার্শিলা সরেনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের যোগীশো আদিবাসী পাড়ায়।

মার্শিলার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ দেয়া হয়েছে ১২ অক্টোবর ১৯৮৮ সাল।

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পরিশোধ বইয়ের আলোকে জানা গেছে, মার্শিলা সরেন ২০১৯ সাল এবং ২০২০ সালে জুলাই হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ২২৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধীর ভাতা পেয়েছেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণের বই নম্বর- ৯২৩। ব্যাংক হিসাব নং- ২৫৭। ২০২১ সালে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে সে ২০২০ সালের জুলাই হতে সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে আর কোনো প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি। মার্শিলার সরেনের বড় ভাই দিনের পর দিন তানোর সমাজসেবা অফিসের ঘুরে বোনের প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়ে কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

সরেজমিনে যোগীশো আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, দুপুরবেলা রোদের মধ্যে মার্শিলা সরেন বসে আছেন। কথা হয় তার বড় ভাই জুয়েল সরেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অভাবের সংসার আমাদের। কাজ না করলে পেটের ভাত জোটে না। বাবা-মা মারা যাবার পর থেকে মার্শিলা আমি ও আমার বৌ দেখভাল করি। ছোটের বোনের প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে অফিসের বড় বাবুরা। আমার বোন নাকি মরে গেছে।

আমার বোন জীবিত আছে এ মর্মে পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। কিন্তু সমাজসেবা অফিসের বড় বড় বাবুরা বলছে আমার বোন মরে গেছে। ভোটার তালিকায় তোমার বোনের নাম নেই। সে জন্য তোমার বোনের প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

তানোর উপজেলা পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার যোগীশো গ্রামের শ্রী মতি মার্শিলা সরেন জীবিত আছে। এ মর্মে আমি মার্শিলার ভাই জুয়েল সরেনকে প্রত্যায়ন দিয়েছি। আমার পরিষদ থেকে মাশিলা সরেনকে মৃত ঘোষণা করিনি। তাহলে সমাজসেবার কর্মকর্তারা কিভাবে তাকে মৃত বলেন। সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা এর জন্য দায়ী।

তানোর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ হোসেন খাঁন বলেন, ভোটার তালিকায় শ্রী মতি মার্শিলা সরেনের নাম নেই। তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। সে জন্য তার প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।

তাহলে ইর্তিপূর্বে মার্শিলা সরেন কিভাবে ভাতা তুললেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে কিভাবে প্রতিবন্ধীর টাকা উত্তোলন করেছে আমার জানা নেই। বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনের মাধ্যমে সব দেখে ভাতা প্রদান করা হয়। নির্বাচন অফিসকে বলুন বিষয়টি ঠিক করতে বলে এড়িয়ে যান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন