১০ গুন ভাড়া আদায়!
jugantor
১০ গুন ভাড়া আদায়!

  জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী  

২৭ মে ২০২১, ২০:০৭:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার সঙ্গে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আগুনমুখা নদী। প্রায় ৭-৯ কিলোমিটার খরস্রোতা নদী অতিক্রম করে মেলে দুই পাড়ের বন্ধন।

রাক্ষুসে এই নদীর ভয়াবহতায় প্রাণহানির ঘটনাও কম নয়। ২০২০ সালে ২২ অক্টোবরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় অধিক যাত্রীবোঝাই স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং এনজিও কর্মীসহ পাঁচজন।

সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অহরহ দুর্ঘটনার নজির রয়েছে এই আগুনমুখায়। চলমান করোনা প্রেক্ষাপটে নদী পারাপারে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়া। কর্ম সংকট পরিস্থিতিতে আগুনমুখা নদী পারাপার এখন উপকূলবাসীর মরণ ফাঁদ হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা এর প্রতিকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানালেও ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে ইজারাদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কারণে-অকারণে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। শুধু আগুনমুখা নয়, পটুয়াখালীর একাধিক নৌঘাটে চলছে এ জুলুমবাজি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। যেহেতু আমি এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছতে পাড়ি দিতে হয় খরস্রোতা পায়রা নদী। জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারায় জনপ্রতি ৭ টাকা নির্ধারণ হলেও করোনার অজুহাতে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। এছাড়া সূর্য ডুবলে ভাড়া ১০ গুনে গিয়ে ঠেকে।

বিগত দিনগুলোতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন পায়রা নদী পারাপারে খেয়াঘাটের ইজাদারকে অর্থদণ্ড দিলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ওই সব ইজারাদার ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রায়ই ইজারাদার কর্তৃক নাকাল হয় যাত্রীরা। অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ নির্বাহী শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নাই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের ইজারা বাতিল করা হবে।

নদীনির্ভর উপজেলা রাঙ্গাবালীর আগুনমুখা নদী পারাপারে রয়েছে ঘোর অভিযোগ। প্রতি স্পিডবোটে ১২ যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকলেও করোনা প্রোটকলে ৬ যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু বর্তমানে ১৮-২০ জন যাত্রী নেয়া হচ্ছে। ৮০ টাকার বদলে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার সূর্য ডুবলে দুই থেকে তিন হাজারে গিয়ে ঠেকে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্পিডবোট সমিতির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। গত বছর যেখানে অধিক যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে ৫ জন প্রাণ হারায়, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়ায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন-পুলিশ সদস্যরা এই নদী পার হলেও ভাড়া নিয়ে টু-শব্দটি নেই। মনে হয় সবাইকে ম্যানেজ করে চলছে এ অনিয়মের প্রতিযোগিতা।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গলাচিপা উপজেলা প্রান্তে বোয়ালিয়া ও পানপট্টি এবং রাঙ্গাবালীর প্রান্তে কোড়ালিয়া ঘাট। বিগত দিনে এই ঘাট থেকে প্রতি ঘণ্টায় লঞ্চ ছিল। যা নিম্নআয়ের মানুষ পুষিয়ে পার হতে পারতো। পরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কথিত ভিআইপিদের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থা করে। কিছুদিন না যেতেই লঞ্চ বনাম স্পিডবোট পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে বন্ধ হয় লঞ্চ চলাচল। এখন একচোটিয়া স্পিডবোটের জুলুমবাজি চলছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, করোনায় যাত্রী কম হয় বলে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় শুরু করে তারা। কিন্তু যাত্রী ও ভাড়া দুটোই দ্বিগুণ। ২০১৭ সালে খেয়াঘাটের এ জুলুমবাজি নিয়ে রাঙ্গাবালীর সংবাদকর্মীরা সংবাদ প্রকাশ করলে জুলুমবাজদের হাতে হামলা-মামলার শিকার হন তারা।

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি নয় কোনো ইজারাদার। বরং ওই সব ইজারাদের পক্ষ নিয়ে একাধিক মহল সংবাদ না করতে অনুরোধ করেন।

পটুয়াখালী নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। ইতোমধ্যে সেখানে আমাদের লোক পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য বলা হয়েছে।

১০ গুন ভাড়া আদায়!

 জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী 
২৭ মে ২০২১, ০৮:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার সঙ্গে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আগুনমুখা নদী। প্রায় ৭-৯ কিলোমিটার খরস্রোতা নদী অতিক্রম করে মেলে দুই পাড়ের বন্ধন।

রাক্ষুসে এই নদীর ভয়াবহতায় প্রাণহানির ঘটনাও কম নয়। ২০২০ সালে ২২ অক্টোবরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় অধিক যাত্রীবোঝাই স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং এনজিও কর্মীসহ পাঁচজন।

সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অহরহ দুর্ঘটনার নজির রয়েছে এই আগুনমুখায়। চলমান করোনা প্রেক্ষাপটে নদী পারাপারে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়া। কর্ম সংকট পরিস্থিতিতে আগুনমুখা নদী পারাপার এখন উপকূলবাসীর মরণ ফাঁদ হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা এর প্রতিকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানালেও ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে ইজারাদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কারণে-অকারণে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। শুধু আগুনমুখা নয়, পটুয়াখালীর একাধিক নৌঘাটে চলছে এ জুলুমবাজি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। যেহেতু আমি এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছতে পাড়ি দিতে হয় খরস্রোতা পায়রা নদী। জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারায় জনপ্রতি ৭ টাকা নির্ধারণ হলেও করোনার অজুহাতে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। এছাড়া সূর্য ডুবলে ভাড়া ১০ গুনে গিয়ে ঠেকে।

বিগত দিনগুলোতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন পায়রা নদী পারাপারে খেয়াঘাটের ইজাদারকে অর্থদণ্ড দিলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ওই সব ইজারাদার ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রায়ই ইজারাদার কর্তৃক নাকাল হয় যাত্রীরা। অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ নির্বাহী শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নাই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের ইজারা বাতিল করা হবে।

নদীনির্ভর উপজেলা রাঙ্গাবালীর আগুনমুখা নদী পারাপারে রয়েছে ঘোর অভিযোগ। প্রতি স্পিডবোটে ১২ যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকলেও করোনা প্রোটকলে ৬ যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু বর্তমানে ১৮-২০ জন যাত্রী নেয়া হচ্ছে। ৮০ টাকার বদলে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার সূর্য ডুবলে দুই থেকে তিন হাজারে গিয়ে ঠেকে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্পিডবোট সমিতির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। গত বছর যেখানে অধিক যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে ৫ জন প্রাণ হারায়, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়ায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন-পুলিশ সদস্যরা এই নদী পার হলেও ভাড়া নিয়ে টু-শব্দটি নেই। মনে হয় সবাইকে ম্যানেজ করে চলছে এ অনিয়মের প্রতিযোগিতা। 

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গলাচিপা উপজেলা প্রান্তে বোয়ালিয়া ও পানপট্টি এবং রাঙ্গাবালীর প্রান্তে কোড়ালিয়া ঘাট। বিগত দিনে এই ঘাট থেকে প্রতি ঘণ্টায় লঞ্চ ছিল। যা নিম্নআয়ের মানুষ পুষিয়ে পার হতে পারতো। পরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কথিত ভিআইপিদের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থা করে। কিছুদিন না যেতেই লঞ্চ বনাম স্পিডবোট পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে বন্ধ হয় লঞ্চ চলাচল। এখন একচোটিয়া স্পিডবোটের জুলুমবাজি চলছে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, করোনায় যাত্রী কম হয় বলে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় শুরু করে তারা। কিন্তু যাত্রী ও ভাড়া দুটোই দ্বিগুণ। ২০১৭ সালে খেয়াঘাটের এ জুলুমবাজি নিয়ে রাঙ্গাবালীর সংবাদকর্মীরা সংবাদ প্রকাশ করলে জুলুমবাজদের হাতে হামলা-মামলার শিকার হন তারা।

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি নয় কোনো ইজারাদার। বরং ওই সব ইজারাদের পক্ষ নিয়ে একাধিক মহল সংবাদ না করতে অনুরোধ করেন।

পটুয়াখালী নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। ইতোমধ্যে সেখানে আমাদের লোক পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন