৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!
jugantor
৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

২৭ মে ২০২১, ২০:২৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে লকডাউনসহ সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় এবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে না উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতীয় বৃহত্তর কুম্ভমেলা। ফলে মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে হচ্ছে রক্তক্ষরণ।

প্রতি বছর ২৮ মে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। করোনার কারণে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ বছরও মেলা স্থগিত ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।

এতে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে দুই সহস্রাধিক হরেকরকম পণ্যের ব্যবসায়ী। আর পরপর দুই বছর কুম্ভমেলায় আসতে না পারায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ লাখ ভক্তের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। ১৬৭ একর জমিতে এক রাতের জন্য দেড়শ' বছরের ঐতিহাসিক কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হলেও মেলায় বেচাকেনা হয় তিন-চার দিন।

এলাকার সুধীজন ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনে যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভপাত্রে ভারতের হরিদ্বার, প্রয়াগ, উজ্জয়িনী ও নাসিক- এ চারটি স্থানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে মুনি-ঋষিরা কুম্ভমেলার আয়োজন করে আসছেন।

১৪০ বছর পূর্বে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এক রাতের মেলা হলেও মেলা চলে তিন দিন পর্যন্ত।

প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুরো একটি এলাকার বাড়ি-ঘর, মাঠ-ঘাট ও ক্ষেত-খামারে কোনো জায়গা খালি থাকে না মানুষের পদচারণায়। বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে কুম্ভমেলায় ভক্তরা আসেন।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও বহু ভক্ত আসেন এতিহ্যবাহী কুম্ভমেলায়। এ মেলায় আসা হাজার হাজার সাধু-সন্ন্যাসী ও তার ভক্তরা একতারা আর দোতারায় সুর দিয়ে সারা রাত মেতে থাকেন।

মেলায় দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভক্তের উপস্থিতিতে আর দলে দলে জয়-ডঙ্কা বাজিয়ে ও জয় হরিবোল ধ্বনি করতে করতে সাধু সন্ন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে ও পদব্রজে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে।

দেশ-বিদেশ থেকে আসা এসব সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তরা ১০৮টি মন্দিরের প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা, আরাধনা, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় সঙ্গীত, নৃত্য-বাদ্য বাজনা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করেন।

এ মেলা উপলক্ষে ৭ দিন পূর্ব থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন দোকানিরা। বাঁশ বেতের শিল্প কারুকাজ খচিত গৃহস্থালি মালামাল, মৃৎশিল্প বা মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাহারি মিষ্টি, দৃষ্টি আকর্ষণীয় খেলনা ও বাহারি প্রসাধনী পণ্য দিয়ে সাজে কমপক্ষে ২ সহস্রাধিক বিভিন্ন ধরনের স্টল।

মাদারীপুরের নিউ বরিশাল হোটেলের মালিক বিকাশ চন্দ্র মজুমদার জানান, তিনি কদমবাড়ী গণেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘের কুম্ভমেলায় প্রায় ১০ বছর যাবত হোটেল ব্যবসা করে আসছেন। এক রাতের মেলা হলেও তাদের হোটেলে বেচাকেনা তিন দিন পর্যন্ত চলে। বেচাকেনাও ভালো হয়। কিন্তু করোনার কারণে পরপর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা।

মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব বিশ্বাস বলেন, করোনার কারণে গত বছরও কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি, এ বছরও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না। প্রায় ১৪০ বছর যাবত ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন। করোনার কারণে পরপর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এলাকার মানুষ ও ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার কর্তৃক বিধি নিষেধ আরোপ থাকার কারণে ২৮ মে কদমবাড়ীর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি।

৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!

 টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
২৭ মে ২০২১, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে লকডাউনসহ সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় এবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে না উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতীয় বৃহত্তর কুম্ভমেলা। ফলে মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে হচ্ছে রক্তক্ষরণ।

প্রতি বছর ২৮ মে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। করোনার কারণে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ বছরও মেলা স্থগিত ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা।

এতে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে দুই সহস্রাধিক হরেকরকম পণ্যের ব্যবসায়ী। আর পরপর দুই বছর কুম্ভমেলায় আসতে না পারায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ লাখ ভক্তের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। ১৬৭ একর জমিতে এক রাতের জন্য দেড়শ' বছরের ঐতিহাসিক কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হলেও মেলায় বেচাকেনা হয় তিন-চার দিন।

এলাকার সুধীজন ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনে যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভপাত্রে ভারতের হরিদ্বার, প্রয়াগ, উজ্জয়িনী ও নাসিক- এ চারটি স্থানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে মুনি-ঋষিরা কুম্ভমেলার আয়োজন করে আসছেন।

১৪০ বছর পূর্বে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এক রাতের মেলা হলেও মেলা চলে তিন দিন পর্যন্ত।

প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুরো একটি এলাকার বাড়ি-ঘর, মাঠ-ঘাট ও ক্ষেত-খামারে কোনো জায়গা খালি থাকে না মানুষের পদচারণায়। বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে কুম্ভমেলায় ভক্তরা আসেন।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও বহু ভক্ত আসেন এতিহ্যবাহী কুম্ভমেলায়। এ মেলায় আসা হাজার হাজার সাধু-সন্ন্যাসী ও তার ভক্তরা একতারা আর দোতারায় সুর দিয়ে সারা রাত মেতে থাকেন।

মেলায় দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫ থেকে  ৩০ লাখ ভক্তের উপস্থিতিতে আর দলে দলে জয়-ডঙ্কা বাজিয়ে ও জয় হরিবোল ধ্বনি করতে করতে সাধু সন্ন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে ও পদব্রজে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে।

দেশ-বিদেশ থেকে আসা এসব সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তরা ১০৮টি মন্দিরের প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা, আরাধনা, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় সঙ্গীত, নৃত্য-বাদ্য বাজনা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করেন।

এ মেলা উপলক্ষে ৭ দিন পূর্ব থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন দোকানিরা। বাঁশ বেতের শিল্প কারুকাজ খচিত গৃহস্থালি মালামাল, মৃৎশিল্প বা মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাহারি মিষ্টি, দৃষ্টি আকর্ষণীয় খেলনা ও বাহারি প্রসাধনী পণ্য দিয়ে সাজে কমপক্ষে ২ সহস্রাধিক বিভিন্ন ধরনের স্টল।

মাদারীপুরের নিউ বরিশাল হোটেলের মালিক বিকাশ চন্দ্র মজুমদার জানান, তিনি কদমবাড়ী গণেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘের কুম্ভমেলায় প্রায় ১০ বছর যাবত হোটেল ব্যবসা করে আসছেন। এক রাতের মেলা হলেও তাদের হোটেলে বেচাকেনা তিন দিন পর্যন্ত চলে। বেচাকেনাও ভালো হয়। কিন্তু করোনার কারণে পরপর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা। 

মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব বিশ্বাস বলেন, করোনার কারণে গত বছরও কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি, এ বছরও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না। প্রায় ১৪০ বছর যাবত ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন। করোনার কারণে পরপর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এলাকার মানুষ ও ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার কর্তৃক বিধি নিষেধ আরোপ থাকার কারণে ২৮ মে কদমবাড়ীর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন