গৃহবধূকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল
jugantor
গৃহবধূকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল

  যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৭ মে ২০২১, ২২:২৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিমের (৩৫) বিরুদ্ধে মারধর করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে পারভীন আক্তার নামে এক গৃহবধূ মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে গৃহবধূকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

অভিযুক্ত মো. জসিম সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাবলা উচ্চ গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার পর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন।

এ ঘটনায় হামলার শিকার গৃহবধূ পারভীন আক্তার বাদী হয়ে বুধবার বিকালে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিম, তার ছোটভাই মো. সুজন (২৫) ও তার পিতা মো. বাবুল মিয়াকে আসামি করে (তিনজনের বিরুদ্ধে) সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী পারভীন আক্তার কসবা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি গ্রামের আবদুল মোতালিবের স্ত্রী।

মামলার এজাহারে পারভীন আক্তার বলেন, তিনি গত সোমবার তার অন্তঃসত্ত্বা কন্যা নারগিস আক্তার পিংকিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলী ডায়াবেটিক সেন্টারে চিকিৎসা করিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাউতলী মোড় থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করেন। তার বাড়ি কসবা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা যাত্রীবেশী এক যুবক জরুরি প্রয়োজনে কসবা যাওয়ার কথা বলে তার ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে চাইলে তিনি মানবিক কারণে ওই যুবককে অটোরিকশায় উঠার অনুমতি দেন। পরে ওই যুবক অটোরিকশায় উঠে চালকের পাশের সিটে বসেন।

একপর্যায়ে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধিকা এলাকায় পৌঁছলে যাত্রীবেশী অজ্ঞাতনামা ওই যুবক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীন আক্তারের গলায় থাকা আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে দৌড় দেয়।

এ সময় পারভীন আক্তার এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই যুবককে আটক করেন। রাধিকা বাজারের ব্যবসায়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিম, তার ভাই সুজন ও পিতা বাবুল মিয়া তাদের সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ছিনতাইকারীর পক্ষে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে তারা গৃহবধূ পারভীন আক্তার ও তার অন্তঃসত্ত্বা কন্যা নারগিস আক্তার পিংকিকে মারধর করে তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওই গৃহবধূকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে।

পরে পারভীন আক্তার ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। এজাহারে গৃহবধূ পারভীন আক্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও মামলার প্রধান আসামি মো. জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জসিমকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গৃহবধূকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল

 যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া  
২৭ মে ২০২১, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিমের (৩৫) বিরুদ্ধে মারধর করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে পারভীন আক্তার নামে এক গৃহবধূ মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে গৃহবধূকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

অভিযুক্ত মো. জসিম সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাবলা উচ্চ গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার পর দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন। 

এ ঘটনায় হামলার শিকার গৃহবধূ পারভীন আক্তার বাদী হয়ে বুধবার বিকালে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিম, তার  ছোটভাই মো. সুজন (২৫) ও তার পিতা মো. বাবুল মিয়াকে আসামি করে (তিনজনের বিরুদ্ধে) সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী পারভীন আক্তার কসবা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি গ্রামের আবদুল মোতালিবের স্ত্রী।

মামলার এজাহারে পারভীন আক্তার বলেন, তিনি গত সোমবার তার অন্তঃসত্ত্বা কন্যা নারগিস আক্তার পিংকিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলী ডায়াবেটিক সেন্টারে চিকিৎসা করিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাউতলী মোড় থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করেন। তার বাড়ি কসবা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা যাত্রীবেশী এক যুবক জরুরি প্রয়োজনে কসবা যাওয়ার কথা বলে তার ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে চাইলে তিনি মানবিক কারণে ওই যুবককে অটোরিকশায় উঠার অনুমতি দেন। পরে ওই যুবক অটোরিকশায় উঠে চালকের পাশের সিটে বসেন।

একপর্যায়ে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধিকা এলাকায় পৌঁছলে যাত্রীবেশী অজ্ঞাতনামা ওই যুবক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীন আক্তারের গলায় থাকা আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে দৌড় দেয়।

এ সময় পারভীন আক্তার এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই যুবককে আটক করেন। রাধিকা বাজারের ব্যবসায়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিম, তার ভাই সুজন ও পিতা বাবুল মিয়া তাদের সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ছিনতাইকারীর পক্ষে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে তারা গৃহবধূ পারভীন আক্তার ও তার অন্তঃসত্ত্বা কন্যা নারগিস আক্তার পিংকিকে মারধর করে তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওই গৃহবধূকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে।

পরে পারভীন আক্তার ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। এজাহারে গৃহবধূ পারভীন আক্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও মামলার প্রধান আসামি মো. জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জসিমকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন