শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া, শাশুড়িকে খুন
jugantor
শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া, শাশুড়িকে খুন

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  

৩১ মে ২০২১, ১৮:৫১:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পীরগঞ্জের পল্লীতে শ্বশুর কফিল উদ্দিনকে (৭১) তার পুত্রবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় লাশ হতে হলো শাশুড়ি পোশাগী বেগমকে (৬০)। ওই ঘটনায় পুলিশ কফিলকে গ্রেফতার করেছে। মামলাটির অন্য আসামিরা পালিয়ে গেছে।

সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত কফিলকে কোর্টহাজতে এবং পোশাগীর লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়।

উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামে ওই ঘটনায় নিহতের ছোটভাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ মধ্যপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ বছর আগে একই ইউনিয়নের পানেয়া গ্রামের পোশাগী বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছেলে বহুরুল ও ১ মেয়ে কোহিনুরের জন্ম হয়। কফিলের ছেলে বহুরুল ইসলাম (৩৫) তার স্ত্রী মনিরা বেগমকে তার বাড়িতে রেখে প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন বহুরুল।

ছেলে দীর্ঘদিন বাড়িতে না আসার সুযোগে কফিল তার পুত্রবধূ মনিরার সঙ্গে ৭ বছর ধরে পরকীয়ার জেরে দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার পারিবারিক সালিশে কফিল ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেন। কিন্তু তিনি ভালো হন না। এ ব্যাপারে বহুরুল ও তার মা পোশাগী বেগমসহ অনেককেই অবগত করলে তারাও তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি।

একপর্যায়ে গত ২৭ মে রাত ১১টার দিকে কফিল তার পুত্রবধূ মনিরার ঘরে ঢোকে। এ সময় কফিল ও পুত্রবধূকে পোশাগী বেগম আপত্তিকর অবস্থায় ধরেন। পরে কফিল লাঠি দিয়ে তার স্ত্রী পোশাগীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরদিন ২৮ মে স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ঘটনাটির বিচারও হয়।

অপরদিকে খবর পেয়ে ২৯ মে বহুরুল ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে ৩০ মে বিকালে তার বাড়িতেই সালিশ বসে। সালিশে অসুস্থ পোশাগী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতেই পোশাগী মারা যান। ওই ঘটনায় পোশাগীর ছোটভাই মীর মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে তার দুলাভাই কফিল, ভাগিনা বউ মনিরা ও ভাগিনা বহুরুলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মীর মোশারফ হোসেন বলেন, আমার জন্মের অনেক আগে পোশাগী বুবুর জন্ম হইছে। প্রায় ৪৫ বছর সংসার করার পর আমার বোনকে হত্যা করল। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ছেলের বউয়ের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটে!

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খায়রুল আলম বলেন, মামলা পেয়েই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছি। শিগগিরই অপর আসামিরা গ্রেফতার হবেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছি।

শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া, শাশুড়িকে খুন

 পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 
৩১ মে ২০২১, ০৬:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পীরগঞ্জের পল্লীতে শ্বশুর কফিল উদ্দিনকে (৭১) তার পুত্রবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় লাশ হতে হলো শাশুড়ি পোশাগী বেগমকে (৬০)। ওই ঘটনায় পুলিশ কফিলকে গ্রেফতার করেছে। মামলাটির অন্য আসামিরা পালিয়ে গেছে।

সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত কফিলকে কোর্টহাজতে এবং পোশাগীর লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়।

উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামে ওই ঘটনায় নিহতের ছোটভাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ মধ্যপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ বছর আগে একই ইউনিয়নের পানেয়া গ্রামের পোশাগী বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছেলে বহুরুল ও ১ মেয়ে কোহিনুরের জন্ম হয়। কফিলের ছেলে বহুরুল ইসলাম (৩৫) তার স্ত্রী মনিরা বেগমকে তার বাড়িতে রেখে প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন বহুরুল।

ছেলে দীর্ঘদিন বাড়িতে না আসার সুযোগে কফিল তার পুত্রবধূ মনিরার সঙ্গে ৭ বছর ধরে পরকীয়ার জেরে দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার পারিবারিক সালিশে কফিল ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেন। কিন্তু তিনি ভালো হন না। এ ব্যাপারে বহুরুল ও তার মা পোশাগী বেগমসহ অনেককেই অবগত করলে তারাও তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি।

একপর্যায়ে গত ২৭ মে রাত ১১টার দিকে কফিল তার পুত্রবধূ মনিরার ঘরে ঢোকে। এ সময় কফিল ও পুত্রবধূকে পোশাগী বেগম আপত্তিকর অবস্থায় ধরেন। পরে কফিল লাঠি দিয়ে তার স্ত্রী পোশাগীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরদিন ২৮ মে স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ঘটনাটির বিচারও হয়।

অপরদিকে খবর পেয়ে ২৯ মে বহুরুল ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে ৩০ মে বিকালে তার বাড়িতেই সালিশ বসে। সালিশে অসুস্থ পোশাগী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতেই পোশাগী মারা যান। ওই ঘটনায় পোশাগীর ছোটভাই মীর মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে তার দুলাভাই কফিল, ভাগিনা বউ মনিরা ও ভাগিনা বহুরুলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মীর মোশারফ হোসেন বলেন, আমার জন্মের অনেক আগে পোশাগী বুবুর জন্ম হইছে। প্রায় ৪৫ বছর সংসার করার পর আমার বোনকে হত্যা করল। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ছেলের বউয়ের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটে!

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খায়রুল আলম বলেন, মামলা পেয়েই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছি। শিগগিরই অপর আসামিরা গ্রেফতার হবেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন