চাল বিতরণ করেও মামলা খেলেন চেয়ারম্যান!
jugantor
চাল বিতরণ করেও মামলা খেলেন চেয়ারম্যান!

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

৩১ মে ২০২১, ১৯:২৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণের পরও দ্রুতবিচার মামলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে জেলে যেতে হয়েছে। চাল কেলেঙ্কারির সাজানো ঘটনা, মামলা ও গ্রেফতারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন সংশ্লিষ্ট ছোটবিঘাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এমন ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী শিবলী নাহার সুলতানাসহ ১১ ইউপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের পক্ষে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। বর্তমানে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জামিনে রয়েছেন।

পটুয়াখালী সদর ইউনিয়নের ১১ চেয়ারম্যানের দাবি ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪৫০ জেলের দ্বিতীয় কিস্তির চাল দেয়ার জন্য গত ১২ মে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাদ্যগুদাম থেকে ৩৬ মেট্রিক টন চাল ছাড় করে চালান কপি নিয়ে এলাকায় পৌঁছান। চাল নেয়ার জন্য ভাড়াকৃত ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফায় ২৮ বস্তা চাল ট্রলার থেকে নামিয়ে গুদামের সামনে রেখে বাকি চাল নিয়ে ট্রলার এলাকায় পৌঁছায়। বাকি চাল নিয়ে ইউপি সদস্য মাসুদ আলম গুদামের ঘাট ত্যাগ করেন।

ইউপি সদস্য মাসুদ আলম বলেন, ওই দিন আল-আমিন ও আমার ট্রলারে চাল আসে। ইউএনও স্যার যে চাল কম পাইছে তার ট্রলার লোড না হওয়ায় গুদামে রেখে আসছে ট্রলার চালকরা। পরে ওই চাল এনে বিতরণ করা হয়। আমাগো চেয়ারম্যান একটু ঘার ত্যারা, চোর নয়।

পটুয়াখালী সদর খাদ্য গুদামের ইনচার্জ শাহদাৎ হোসেন বলেন, ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফায় ২৮ বস্তা চাল গুদামের সামনে নামিয়ে রাখা হয়।

এদিকে ১৩ মে চাল বিতরণ শুরু হলে বাধা দেয় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বাচ্চু প্যাদা ও আসলাম মৃধার সমর্থকরা। চাল বিতরণের পূর্বেই চাল কম আছে এমন খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সদর ইউএনও লতিফা জান্নাতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদ, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার পুলিশ সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউএনও চাল কম হওয়ার কৈফিয়ত জানতে চাইলে চেয়ারম্যান দাবি করেন ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফা চাল খাদ্যগুদামে রাখা হয়েছে। ওই দিন সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ হয়। শেষ বিকালে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বাকি চাল গুদাম থেকে এনে বিতরণের মৌখিক নির্দেশনাও দেয়া হয় ইউএনওর পক্ষ থেকে।

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, চাল বিতরণের পরে মাস্টার রোলে ট্যাগ অফিসার সই করে জমাও দেয়া হয়। আবার ট্যাগ অফিসারকে মামলার সাক্ষীও করেছে।

সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার সুভাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, সম্পূর্ণ চাল বিতরণ শেষে মাস্টার রোলে সই করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি। কী কারণে যে মামলা হলো আমি অবগত নই।

উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার বলেন, গত ১৪ মে এডিশনাল এসপির বাসার সামনে চেয়ারম্যানকে একটি মহল লাঞ্ছিত করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করেছে। কারা পাকড়াও করে চেয়ারম্যানকে পুলিশে দিয়েছে তা খতিয়ে দেখলেই সব কিছু স্পষ্ট হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরও বলেন, চাল বিতরণ হয়েছে আবার মামলাও হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন এই মামলার জন্য প্রশাসন-পুলিশকে কোনো মহল চাপ দিয়েছে। তাছাড়া ১৩ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকার জন্য কোনো চেয়ারম্যান তার সুনাম নষ্ট করবেন না।

মামলার বাদী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৩ বস্তা চাল কম পাওয়ার সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগের পর ওই চাল বিতরণ করে ট্যাগ অফিসার সই দিয়েছেন। এ কারণে ট্যাগ অফিসারকে মামলার বিষয়টি জানানো হয়নি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করেছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ মামলা হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, ভিজিএফ চাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত ১৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়। ১৬ মে বশাক এলাকা থেকে একটি মহল পাকড়াও করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই মামলায় পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠালে গত ২৫ মে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

চাল বিতরণ করেও মামলা খেলেন চেয়ারম্যান!

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
৩১ মে ২০২১, ০৭:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীতে জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণের পরও দ্রুতবিচার মামলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে জেলে যেতে হয়েছে। চাল কেলেঙ্কারির সাজানো ঘটনা, মামলা ও গ্রেফতারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন সংশ্লিষ্ট ছোটবিঘাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। 

এমন ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী শিবলী নাহার সুলতানাসহ ১১ ইউপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের পক্ষে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। বর্তমানে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জামিনে রয়েছেন।

পটুয়াখালী সদর ইউনিয়নের ১১ চেয়ারম্যানের দাবি ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪৫০ জেলের দ্বিতীয় কিস্তির চাল দেয়ার জন্য গত ১২ মে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাদ্যগুদাম থেকে ৩৬ মেট্রিক টন চাল ছাড় করে চালান কপি নিয়ে এলাকায় পৌঁছান। চাল নেয়ার জন্য ভাড়াকৃত ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফায় ২৮ বস্তা চাল ট্রলার থেকে নামিয়ে গুদামের সামনে রেখে বাকি চাল নিয়ে ট্রলার এলাকায় পৌঁছায়। বাকি চাল নিয়ে ইউপি সদস্য মাসুদ আলম গুদামের ঘাট ত্যাগ করেন।

ইউপি সদস্য মাসুদ আলম বলেন, ওই দিন আল-আমিন ও আমার ট্রলারে চাল আসে। ইউএনও স্যার যে চাল কম পাইছে তার ট্রলার লোড না হওয়ায় গুদামে রেখে আসছে ট্রলার চালকরা। পরে ওই চাল এনে বিতরণ করা হয়। আমাগো চেয়ারম্যান একটু ঘার ত্যারা, চোর নয়।

পটুয়াখালী সদর খাদ্য গুদামের ইনচার্জ শাহদাৎ হোসেন বলেন, ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফায় ২৮ বস্তা চাল গুদামের সামনে নামিয়ে রাখা হয়।

এদিকে ১৩ মে চাল বিতরণ শুরু হলে বাধা দেয় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বাচ্চু প্যাদা ও আসলাম মৃধার সমর্থকরা। চাল বিতরণের পূর্বেই চাল কম আছে এমন খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সদর ইউএনও লতিফা জান্নাতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদ, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার পুলিশ সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউএনও চাল কম হওয়ার কৈফিয়ত জানতে চাইলে চেয়ারম্যান দাবি করেন ট্রলারে জায়গা সংকুলান না হলে দুই দফা চাল খাদ্যগুদামে রাখা হয়েছে। ওই দিন সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ হয়। শেষ বিকালে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বাকি চাল গুদাম থেকে এনে বিতরণের মৌখিক নির্দেশনাও দেয়া হয় ইউএনওর পক্ষ থেকে। 

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, চাল বিতরণের পরে মাস্টার রোলে ট্যাগ অফিসার সই করে জমাও দেয়া হয়। আবার ট্যাগ অফিসারকে মামলার সাক্ষীও করেছে।

সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার সুভাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, সম্পূর্ণ চাল বিতরণ শেষে মাস্টার রোলে সই করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি। কী কারণে যে মামলা হলো আমি অবগত নই।

উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার বলেন, গত ১৪ মে এডিশনাল এসপির বাসার সামনে চেয়ারম্যানকে একটি মহল লাঞ্ছিত করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করেছে। কারা পাকড়াও করে চেয়ারম্যানকে পুলিশে দিয়েছে তা খতিয়ে দেখলেই সব কিছু স্পষ্ট হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরও বলেন, চাল বিতরণ হয়েছে আবার মামলাও হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন এই মামলার জন্য প্রশাসন-পুলিশকে কোনো মহল চাপ দিয়েছে। তাছাড়া ১৩ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকার জন্য কোনো চেয়ারম্যান তার সুনাম নষ্ট করবেন না।  

মামলার বাদী সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৩ বস্তা চাল কম পাওয়ার সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগের পর ওই চাল বিতরণ করে ট্যাগ অফিসার সই দিয়েছেন। এ কারণে ট্যাগ অফিসারকে মামলার বিষয়টি জানানো হয়নি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করেছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ মামলা হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, ভিজিএফ চাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত ১৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়। ১৬ মে বশাক এলাকা থেকে একটি মহল পাকড়াও করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই মামলায় পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠালে গত ২৫ মে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন