‘লিচুবাড়িতে’ উন্নত জাতের আম ও লিচু
jugantor
‘লিচুবাড়িতে’ উন্নত জাতের আম ও লিচু

  সফিকুল ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী)  

০২ জুন ২০২১, ২২:২১:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় মিলছে উন্নত জাতের লিচু এবং আম। জলঢাকা পৌরসভা থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার গিয়ে সহজেই কিনে আনছেন ফরমালিন, কেমিক্যালমুক্ত এসব ফল।

বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে নয়, আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নে ২০১৩ সালে ১৫০ শতক জমিতে লিচু ও আমসহ কয়েকশ' প্রজাতির গাছ রোপণ করেন নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা পারভীন। সেই সঙ্গে বাগানের নাম দেন ‘লিচুবাড়ি’।

ঢাকায় অবস্থান করলেও স্বামীর এলাকায় এখন ফাতেমা পারভীন ব্যাপক পরিচিত একটি নাম। বছরের ৪ মাস থেকে ৫ মাস গ্রামে থেকে নিজ হাতে পরিচর্যা করেন লিচুবাড়ির। জলঢাকা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কয়েকবার শ্রেষ্ঠ ফলজ, বনজ উদ্যোক্তার পদক লাভ করেছেন তিনি।

বুধবার সরেজমিন লিচুবাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তার লিচুবাড়িতে কয়েকশ' লিচুগাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেদনা, চায়না-৩ ও সূর্যকুড়ি। এছাড়াও রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমসহ এ বাগানে রয়েছে হিমসাগর, গোপালভোগ, ফজলি, বারোমাসি আমের সমাহার। শুধু ফলের গাছ লাগিয়েই সন্তুষ্ট নন এই নারী উদ্যোক্তা। তার বাগানে ঔষধি গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন। এমনকি চেরীসহ কয়েকটি বিদেশি জাতের ফলগাছ রোপণ করে তাক লাগিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও লিচুবাড়িতে ফুলে ফুলে ভরিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। প্রতি মৌসুমে এ বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে জনগণের সমাগম ঘটে। অত্র এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে ফরমালিন এবং কেমিক্যালমুক্ত লিচুবাড়ির ফল এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাদৃত হচ্ছে।

লিচুবাড়ি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা পারভীন বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দিক চিন্তা করে নয়। আগামী প্রজন্মকে স্বাস্থ্যসম্মত ফরমালিন, কেমিক্যালমুক্ত রাখতে আমার এ প্রচেষ্টা। আমার এ লিচুবাড়িতে সুস্বাদু লিচু এবং আম এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে; যা এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এর আয় দিয়ে বাগানে নতুন নতুন ফল ও বনজ গাছ রোপণ করছি। সেই সঙ্গে এলাকার কিছু বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে আমার এ লিচুবাড়ি থেকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর হাসান আল বান্না বলেন, ফাতেমা পারভীন আধুনিক নারী কৃষকের একটি রোল মডেল। তিনি কৃষিতে আধুনিকতার বিপ্লব ঘটিয়েছেন; যা অনুকরণীয়। আগামীতে তার এ অনুপ্রেরণা অন্যান্য নারীদের আধুনিক কৃষিতে উৎসাহিত করবে বলে আমি মনে করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, আমি এ উপজেলায় আসার পর থেকে ফাতেমা পারভীনের নাম শুনেছি। সম্প্রতি আমি তার লিচুবাড়ি পরিদর্শন করেছি। দৃষ্টিনন্দন আধুনিক কৃষিতে তিনি যে ফলজ ও বনজ গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।

‘লিচুবাড়িতে’ উন্নত জাতের আম ও লিচু

 সফিকুল ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী) 
০২ জুন ২০২১, ১০:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নীলফামারীর জলঢাকায় মিলছে উন্নত জাতের লিচু এবং আম। জলঢাকা পৌরসভা থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার গিয়ে সহজেই কিনে আনছেন ফরমালিন, কেমিক্যালমুক্ত এসব ফল।

বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে নয়, আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নে ২০১৩ সালে ১৫০ শতক জমিতে লিচু ও আমসহ কয়েকশ' প্রজাতির গাছ রোপণ করেন নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা পারভীন। সেই সঙ্গে বাগানের নাম দেন ‘লিচুবাড়ি’।

ঢাকায় অবস্থান করলেও স্বামীর এলাকায় এখন ফাতেমা পারভীন ব্যাপক পরিচিত একটি নাম। বছরের ৪ মাস থেকে ৫ মাস গ্রামে থেকে নিজ হাতে পরিচর্যা করেন লিচুবাড়ির। জলঢাকা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কয়েকবার শ্রেষ্ঠ ফলজ, বনজ উদ্যোক্তার পদক লাভ করেছেন তিনি।

বুধবার সরেজমিন লিচুবাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তার লিচুবাড়িতে কয়েকশ' লিচুগাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেদনা, চায়না-৩ ও সূর্যকুড়ি। এছাড়াও রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আমসহ এ বাগানে রয়েছে হিমসাগর, গোপালভোগ, ফজলি, বারোমাসি আমের সমাহার। শুধু ফলের গাছ লাগিয়েই সন্তুষ্ট নন এই নারী উদ্যোক্তা। তার বাগানে ঔষধি গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন। এমনকি চেরীসহ কয়েকটি বিদেশি জাতের ফলগাছ রোপণ করে তাক লাগিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও লিচুবাড়িতে ফুলে ফুলে ভরিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। প্রতি মৌসুমে এ বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে জনগণের সমাগম ঘটে। অত্র এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে ফরমালিন এবং কেমিক্যালমুক্ত লিচুবাড়ির ফল এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাদৃত হচ্ছে।

লিচুবাড়ি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা পারভীন বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দিক চিন্তা করে নয়। আগামী প্রজন্মকে স্বাস্থ্যসম্মত ফরমালিন, কেমিক্যালমুক্ত রাখতে আমার এ প্রচেষ্টা। আমার এ লিচুবাড়িতে সুস্বাদু লিচু এবং আম এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে; যা এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এর আয় দিয়ে বাগানে নতুন নতুন ফল ও বনজ গাছ রোপণ করছি। সেই সঙ্গে এলাকার কিছু বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে আমার এ লিচুবাড়ি থেকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর হাসান আল বান্না বলেন, ফাতেমা পারভীন আধুনিক নারী কৃষকের একটি রোল মডেল। তিনি কৃষিতে আধুনিকতার বিপ্লব ঘটিয়েছেন; যা অনুকরণীয়। আগামীতে তার এ অনুপ্রেরণা অন্যান্য নারীদের আধুনিক কৃষিতে উৎসাহিত করবে বলে আমি মনে করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, আমি এ উপজেলায় আসার পর থেকে ফাতেমা পারভীনের নাম শুনেছি। সম্প্রতি আমি তার লিচুবাড়ি পরিদর্শন করেছি। দৃষ্টিনন্দন আধুনিক কৃষিতে তিনি যে ফলজ ও বনজ গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন