গরু-ছাগলের দখলে বিদ্যালয় (ভিডিও)
jugantor
গরু-ছাগলের দখলে বিদ্যালয় (ভিডিও)

  বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

০৩ জুন ২০২১, ১৭:৩৪:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন খালি পড়ে আছে। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ। বরগুনার বেতাগীতে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে গো-শালায়।

জানা যায়, বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে স্কুল, কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে।

সদ্য সরকার ঘোষিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, আগামী ১৩ জুন যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হারে (আক্রান্তের হার ৭ শতাংশের নিচে) থাকে তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। এমন প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে প্রতিবেদক বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়- অনেক বিদ্যালয় ভবনের কক্ষ গোয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলার ৯৯নং ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি কক্ষ গরুর ঘর করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দারা। প্রতিষ্ঠানের চারদিক ঘুরে দেখা যায়, ঝোপঝাড় আর ময়লা আবর্জনায় আচ্ছন্ন। প্রতিটি কক্ষই গরু, ছাগলের দখলে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৩-৫টি করে গরু বাঁধা রয়েছে। ছাদের ওপরে চলে তাস খেলার আড্ডা।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারমিন জাহান বলেন, করোনার পর থেকে বিদ্যালয়ের খোঁজখবর তেমন নেয়া হয়নি। আর কিছুদিন আগে বন্যার কারণে গরু ছাগল রেখেছিল আমি বাধা দিয়েছি তবে তারা এলাকার প্রভাবশালী ও প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা হওয়ার কারণে কাউকে পরোয়া করে না।

বেতাগী উপজেলার ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের পরিবেশ নোংরা আর দুর্গন্ধ।

উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা একই রকম। এছাড়াও উপজেলার কাইয়ালঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিবিচিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার বারান্দা গরুর গোয়ালে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গির আলম ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ঢিলেঢালা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তারা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গরু-ছাগলের দখলে বিদ্যালয় (ভিডিও)

 বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
০৩ জুন ২০২১, ০৫:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন খালি পড়ে আছে। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ। বরগুনার বেতাগীতে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে গো-শালায়।

জানা যায়, বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে স্কুল, কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে।

সদ্য সরকার ঘোষিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, আগামী ১৩ জুন যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হারে (আক্রান্তের হার ৭ শতাংশের নিচে) থাকে তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। এমন প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে প্রতিবেদক বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়- অনেক বিদ্যালয় ভবনের কক্ষ গোয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলার ৯৯নং ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি কক্ষ গরুর ঘর করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দারা। প্রতিষ্ঠানের চারদিক ঘুরে দেখা যায়, ঝোপঝাড় আর ময়লা আবর্জনায় আচ্ছন্ন। প্রতিটি কক্ষই গরু, ছাগলের দখলে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৩-৫টি করে গরু বাঁধা রয়েছে। ছাদের ওপরে চলে তাস খেলার আড্ডা।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারমিন জাহান বলেন, করোনার পর থেকে বিদ্যালয়ের খোঁজখবর তেমন নেয়া হয়নি। আর কিছুদিন আগে বন্যার কারণে গরু ছাগল রেখেছিল আমি বাধা দিয়েছি তবে তারা এলাকার প্রভাবশালী ও প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা হওয়ার কারণে কাউকে পরোয়া করে না।

বেতাগী উপজেলার ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের পরিবেশ নোংরা আর দুর্গন্ধ।

উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা একই রকম। এছাড়াও উপজেলার কাইয়ালঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিবিচিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার বারান্দা গরুর গোয়ালে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গির আলম ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ঢিলেঢালা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তারা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন