জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশুর জন্ম
jugantor
জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশুর জন্ম

  গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি  

০৩ জুন ২০২১, ২২:৩৭:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক প্রসূতি মা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দিয়েছেন। বুধবার উপজেলার মৌয়ুরী ক্লিনিকে এ জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন প্রসূতি মা হালিমা বেগম (২১)।

হালিমা বেগম সুস্থ থাকায় ওই ক্লিনিকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে অর্থাভাবে ঢাকায় যেতে না পেরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার ওই ক্লিনিকে এনে জোড়া লাগানো যমজ নবজাতক ২টি কন্যাসন্তানকে মায়ের কাছে রাখেন স্বজনরা।

ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. তানজিদ হোসেন জানান, মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর গ্রামের আবু জাফরের স্ত্রী হালিমা বেগমের (২১) প্রসব বেদনা শুরু হলে বুধবার সকাল ৮টার দিকে গৌরনদী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেনারেল সার্জন ডা. প্রশান্ত রায় ওই প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এতে প্রসূতি মা হালিমা বেগম জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন।

তিনি জানান, পিঠে জোড়া লাগানো যমজ নবজাতক শিশু ২টি কন্যাসন্তান। নবজাতক শিশুর ৪ হাত, ৪ পা, ২টি মাথা আলাদা থাকলেও পিঠ জোড়া লাগানো রয়েছে। জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে ওই দিন দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে প্রসূতি মা হালিমা সুস্থ থাকায় তাকে ক্লিনিকেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নবজাতকের বাবা আবু জাফর জানান, তার নবজাতক জোড়া লাগানো যমজ কন্যাসন্তান ২টিকে বুধবার বিকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

সেখানে জোড়া লাগানো যমজ শিশু আলাদা করার চিকিৎসা না থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন ডাক্তাররা।

তিনি বলেন, আমি অর্থাভাবে ঢাকায় যেতে না পেরে নবজাতক জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে দুপুরে ওই ক্লিনিকে এনে স্ত্রী হালিমার কাছে রাখা হয়েছে।

নবজাতকের বাবা আবু জাফর আরও বলেন, পুরান ঢাকায় আমার মুদি দোকান ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তার মুদি দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভ্যানগাড়ি চালিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এর আগেও তার ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে।

আবু জাফর বলেন, আমার নবজাতক কন্যাসন্তান দুটি বাঁচাতে হলে অপারেশন করতে হবে। এই অপারেশন ব্যয়বহুল বলে শুনেছি। আমার একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বৃত্তবান সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

নবজাতক ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক মি. সৌরভ জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া নবজাতক দুইজন এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছে। তাদের আলাদা করার অপারেশন বরিশালে হয় না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো শিশু দেশে আলাদা করা হয়। এর আগেও দেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো মাথা আলাদা করা হয়েছে। আমি আশা করি এই শিশু দুজনকেও আলাদা করা সম্ভব। এজন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

নবজাতকদের নানি মৌলি বেগম জানান, দুই মাস আগে স্থানীয় ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যমজ সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। কিন্তু তারা যে জোড়া লাগানো তা বলেননি। মৌলি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তার নাতনি দুজন সুস্থ থাকে। একই সাথে আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকদের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় বলে সরকার ও বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশুর জন্ম

 গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
০৩ জুন ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক প্রসূতি মা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দিয়েছেন। বুধবার উপজেলার মৌয়ুরী ক্লিনিকে এ জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন প্রসূতি মা হালিমা বেগম (২১)।

হালিমা বেগম সুস্থ থাকায় ওই ক্লিনিকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে অর্থাভাবে ঢাকায় যেতে না পেরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার ওই ক্লিনিকে এনে জোড়া লাগানো যমজ নবজাতক ২টি কন্যাসন্তানকে মায়ের কাছে রাখেন স্বজনরা।

ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. তানজিদ হোসেন জানান, মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর গ্রামের আবু জাফরের স্ত্রী হালিমা বেগমের (২১) প্রসব বেদনা শুরু হলে বুধবার সকাল ৮টার দিকে গৌরনদী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেনারেল সার্জন ডা. প্রশান্ত রায় ওই প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এতে প্রসূতি মা হালিমা বেগম জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন।

তিনি জানান, পিঠে জোড়া লাগানো যমজ নবজাতক শিশু ২টি কন্যাসন্তান। নবজাতক শিশুর ৪ হাত, ৪ পা, ২টি মাথা আলাদা থাকলেও পিঠ জোড়া লাগানো রয়েছে। জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে ওই দিন দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে প্রসূতি মা হালিমা সুস্থ থাকায় তাকে ক্লিনিকেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নবজাতকের বাবা আবু জাফর জানান, তার নবজাতক জোড়া লাগানো যমজ কন্যাসন্তান ২টিকে বুধবার বিকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
 
সেখানে জোড়া লাগানো যমজ শিশু আলাদা করার চিকিৎসা না থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন ডাক্তাররা।

তিনি বলেন, আমি অর্থাভাবে ঢাকায় যেতে না পেরে নবজাতক জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে দুপুরে ওই ক্লিনিকে এনে স্ত্রী হালিমার কাছে রাখা হয়েছে।

নবজাতকের বাবা আবু জাফর আরও বলেন, পুরান ঢাকায় আমার মুদি দোকান ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তার মুদি দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভ্যানগাড়ি চালিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এর আগেও তার ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে।

আবু জাফর বলেন, আমার নবজাতক কন্যাসন্তান দুটি বাঁচাতে হলে অপারেশন করতে হবে। এই অপারেশন ব্যয়বহুল বলে শুনেছি। আমার একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বৃত্তবান সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

নবজাতক ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক মি. সৌরভ জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া নবজাতক দুইজন এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছে। তাদের আলাদা করার অপারেশন বরিশালে হয় না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো শিশু দেশে আলাদা করা হয়। এর আগেও দেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো মাথা আলাদা করা হয়েছে। আমি আশা করি এই শিশু দুজনকেও আলাদা করা সম্ভব। এজন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

নবজাতকদের নানি মৌলি বেগম জানান, দুই মাস আগে স্থানীয় ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যমজ সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। কিন্তু তারা যে জোড়া লাগানো তা বলেননি। মৌলি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তার নাতনি দুজন সুস্থ থাকে। একই সাথে আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকদের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় বলে সরকার ও বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন