বিধবা ভাতার তালিকায় মোহাম্মদ আলী
jugantor
বিধবা ভাতার তালিকায় মোহাম্মদ আলী

  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

০৪ জুন ২০২১, ২১:২৯:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিধবা ভাতাভোগীদের তালিকায় মোহাম্মদ আলী নামে এক বয়স্ক পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সুস্থ নারী-পুরুষদের নাম। উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নে ঘটেছে এমন ঘটনা।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মানুষের মধ্যে চলছে নানারকম মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনা।

তারা বলছেন, কত অনিয়মের কথাই শুনেছি। কিন্তু এমন অনিয়মের কথা আগে আর শুনিনি। অথচ বাস্তবে এমন ঘটনাই কেন্দুয়াতে ঘটল। এটা মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মতে কেন্দুয়া উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক-বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রাপ্ত সব সুবিধাভোগীর মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গভর্নমেন্ট টু পাবলিক (জিটুপি) পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা পাঠানোর জন্য ভাতাভোগীদের অনলাইন (এমআইএস) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু ভাতাভোগীদের এমআইএসের আওতায় আনতে গিয়ে ঘটছে যতসব বিপত্তি। কারণ ভাতাভোগীদের সব তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বয়স কম প্রমাণিত হচ্ছে অনেকের। এ কারণে বাদ পড়ছেন অসংখ্য বয়স্ক ভাতাভোগী।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বয়স কম প্রমাণিত হওয়ায় ভাতাবঞ্চিতদের কাছ থেকে কতিপয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উৎকোচ গ্রহণ করে অবৈধপন্থায় কমবয়সী ওই সব নারী-পুরুষকে যে কোনো ভাতার আওতাভুক্ত করতে কৌশলে বয়স্ক ভাতাভোগী পুরুষদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে প্রতিবন্ধী বানানো হয়েছে এবং বয়স্ক ভাতাভোগী মহিলাদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে বিধবা বানানো হয়েছে।

আর এ কাজ করতে গিয়ে অবশেষে বয়স কম প্রমাণিত হওয়ায় বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকা থেকে বাদ পড়া উপজেলার ১০নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বিপ্রবর্গ গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে বিধবা ভাতাভোগী বানানো হয়েছে।

একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী মিন্টু দেবনাথ, রাঘবপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আজিজ, মো. মোসলিম, পালড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মন্নাফ ও বিঞ্চুপুর গ্রামের সিরাজ মিয়াকে কোড নম্বর পরিবর্তন করে বানানো হয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী এবং বয়স্ক ভাতাভোগী চৌমুরিয়া গ্রামের পরিমুন্নেছা, বিষ্ণুপুর গ্রামের সুলেমা ও জাহানারা আক্তারকে বানানো হয়েছে বিধবা ভাতাভোগী।

সম্প্রতি কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পাঠানো ভাতাভোগীর তালিকা যাচাই-বাছাইকালে এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজনের কাছে।

কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের কারিগরি প্রশিক্ষক এবং কান্দিউড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বয়স জালিয়াতি করে অনেকই বয়স্ক ভাতার কার্ড করেছিল। এখন ভাতাভোগীদের এমআইএসের আওতায় আনায় বয়স জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে। অনেকের কার্ড বাতিল হচ্ছে। কান্দিউড়া ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের এমআইএস করা তালিকায় এমন অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এখন সব ভাতাভোগীকে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে।

কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ভাতাভোগীদের এমআইএস তালিকা করেছে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রোমান আহমেদসহ কয়েকজন। তারা ভুলে হয়তো এমনটি করেছেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উদ্যোক্তা রোমান আহমেদ জানান, আমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র দুই দিনে ১ হাজার ভাতাভোগীদের তালিকা করেছি। হয়তো ভুলে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

নেত্রকোনা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। আমি কেন্দুয়া সমাজসেবা কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তা পাঠিয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। এমআইএস করা তালিকার সব অসঙ্গতি দ্রুত সমাধান করা হবে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধবা ভাতার তালিকায় মোহাম্মদ আলী

 কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
০৪ জুন ২০২১, ০৯:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিধবা ভাতাভোগীদের তালিকায় মোহাম্মদ আলী নামে এক বয়স্ক পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সুস্থ নারী-পুরুষদের নাম। উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নে ঘটেছে এমন ঘটনা।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মানুষের মধ্যে চলছে নানারকম মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনা।

তারা বলছেন, কত অনিয়মের কথাই শুনেছি। কিন্তু এমন অনিয়মের কথা আগে আর শুনিনি। অথচ বাস্তবে এমন ঘটনাই কেন্দুয়াতে ঘটল। এটা মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মতে কেন্দুয়া উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক-বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রাপ্ত সব সুবিধাভোগীর মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গভর্নমেন্ট টু পাবলিক (জিটুপি) পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা পাঠানোর জন্য ভাতাভোগীদের অনলাইন (এমআইএস) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু ভাতাভোগীদের এমআইএসের আওতায় আনতে গিয়ে ঘটছে যতসব বিপত্তি। কারণ ভাতাভোগীদের সব তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বয়স কম প্রমাণিত হচ্ছে অনেকের। এ কারণে বাদ পড়ছেন অসংখ্য বয়স্ক ভাতাভোগী।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বয়স কম প্রমাণিত হওয়ায় ভাতাবঞ্চিতদের কাছ থেকে কতিপয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উৎকোচ গ্রহণ করে অবৈধপন্থায় কমবয়সী ওই সব নারী-পুরুষকে যে কোনো ভাতার আওতাভুক্ত করতে কৌশলে বয়স্ক ভাতাভোগী পুরুষদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে প্রতিবন্ধী বানানো হয়েছে এবং বয়স্ক ভাতাভোগী মহিলাদের কোড নাম্বার পরিবর্তন করে বিধবা বানানো হয়েছে। 

আর এ কাজ করতে গিয়ে অবশেষে বয়স কম প্রমাণিত হওয়ায় বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকা থেকে বাদ পড়া উপজেলার ১০নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বিপ্রবর্গ গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে বিধবা ভাতাভোগী বানানো হয়েছে।

একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী মিন্টু দেবনাথ, রাঘবপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আজিজ, মো. মোসলিম, পালড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মন্নাফ ও বিঞ্চুপুর গ্রামের সিরাজ মিয়াকে কোড নম্বর পরিবর্তন করে বানানো হয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী এবং বয়স্ক ভাতাভোগী চৌমুরিয়া গ্রামের পরিমুন্নেছা, বিষ্ণুপুর গ্রামের সুলেমা ও জাহানারা আক্তারকে বানানো হয়েছে বিধবা ভাতাভোগী। 

সম্প্রতি কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পাঠানো ভাতাভোগীর তালিকা যাচাই-বাছাইকালে এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের লোকজনের কাছে।

কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের কারিগরি প্রশিক্ষক এবং কান্দিউড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বয়স জালিয়াতি করে অনেকই বয়স্ক ভাতার কার্ড করেছিল। এখন ভাতাভোগীদের এমআইএসের আওতায় আনায় বয়স জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে। অনেকের কার্ড বাতিল হচ্ছে। কান্দিউড়া ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের এমআইএস করা তালিকায় এমন অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এখন সব ভাতাভোগীকে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে।

কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ভাতাভোগীদের এমআইএস তালিকা করেছে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রোমান আহমেদসহ কয়েকজন। তারা ভুলে হয়তো এমনটি করেছেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উদ্যোক্তা রোমান আহমেদ জানান, আমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র দুই দিনে ১ হাজার ভাতাভোগীদের তালিকা করেছি। হয়তো ভুলে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

নেত্রকোনা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। আমি কেন্দুয়া সমাজসেবা কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তা পাঠিয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। এমআইএস করা তালিকার সব অসঙ্গতি দ্রুত সমাধান করা হবে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন