কিশোরগঞ্জের প্রিয়মুখ খেলু পাগলা আর নেই 
jugantor
কিশোরগঞ্জের প্রিয়মুখ খেলু পাগলা আর নেই 

  এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো  

০৫ জুন ২০২১, ০০:৩৮:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ছবি-খেলু পাগলা ওরফে খেলু বাউল

‘মাছ খাইনা মাংস খাইনা জাতে দিলাম মই তোরে লইয়া বৈরাগী হইয়া যাবগা লো সই’ - গানের জন্য বিখ্যাত কিশোরগঞ্জবাসীর প্রিয়মুখ খেলু পাগলা আর নেই।

শুক্রবার সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দুটি মাদক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছিল।

এক তারায় আঙুলের নিপুণ স্পর্শে সুরের যাদু তুলে দেশের ভাটি বাংলার পথে-প্রান্তরে গান গেয়ে বেড়ানো কিংবা গানের আসরে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এভাবেই এ অঞ্চলের সৃষ্টিশীল অসাম্প্রদায়িক মানুষের হৃদয়ের গভীরে ঠাঁই নিয়েছিলেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন গুণগ্রাহী ও শুভার্থী রেখে গেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. বজলুর রশিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ কারাগারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাজতিদের প্রিয় মুখ দু'টি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন।

কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ অণ্ডকোষজনিত গুরুতর জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারারক্ষীদের প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদানের অনুরোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সাধের জঙ্গল গ্রামের অধিবাসী খেলু পাগলা হিসাবে পরিচিত ভাটি বাংলার এই জনপ্রিয় বাউল খেলু দু্টি মাদক (গাজা) মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্দি জীবনযাপন করছিলেন। আর গানে গানে মাতিয়ে রাখতেন সব কারাবন্দিদের।

তার মৃত্যুর খবরে কিশোরগঞ্জ ও করিমগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কিশোরগঞ্জের প্রিয়মুখ খেলু পাগলা আর নেই 

 এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 
০৫ জুন ২০২১, ১২:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছবি-খেলু পাগলা ওরফে খেলু বাউল
ছবি-খেলু পাগলা ওরফে খেলু বাউল। ফাইল ছবি

‘মাছ খাইনা মাংস খাইনা জাতে দিলাম মই তোরে লইয়া বৈরাগী হইয়া যাবগা লো সই’ - গানের জন্য বিখ্যাত কিশোরগঞ্জবাসীর প্রিয়মুখ খেলু পাগলা আর নেই।  

শুক্রবার সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দুটি মাদক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছিল।   

এক তারায় আঙুলের নিপুণ স্পর্শে সুরের যাদু তুলে দেশের ভাটি বাংলার পথে-প্রান্তরে গান গেয়ে বেড়ানো কিংবা গানের আসরে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এভাবেই এ অঞ্চলের সৃষ্টিশীল অসাম্প্রদায়িক মানুষের হৃদয়ের গভীরে ঠাঁই নিয়েছিলেন তিনি।                       

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন গুণগ্রাহী ও শুভার্থী রেখে গেছেন।              

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. বজলুর রশিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় তিনি আরও  জানান, কিশোরগঞ্জ কারাগারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাজতিদের প্রিয় মুখ দু'টি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। 

কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ অণ্ডকোষজনিত গুরুতর জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারারক্ষীদের প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদানের অনুরোধ করা হয়। 

সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সাধের জঙ্গল গ্রামের অধিবাসী খেলু পাগলা হিসাবে পরিচিত ভাটি বাংলার এই জনপ্রিয় বাউল খেলু দু্টি মাদক (গাজা) মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্দি জীবনযাপন করছিলেন। আর গানে গানে মাতিয়ে রাখতেন সব কারাবন্দিদের।           

তার মৃত্যুর খবরে কিশোরগঞ্জ ও করিমগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন