‘মেধাবী ছাত্রী তুষ্টি বংশের গৌরব ছিল’
jugantor
‘মেধাবী ছাত্রী তুষ্টি বংশের গৌরব ছিল’

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

০৬ জুন ২০২১, ১৬:১৩:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইসরাত জাহান তুষ্টির (২১) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

রোববার সকালে রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

অসুস্থতাজনিত কারণে তুষ্টি বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, তুষ্টির অ্যাজমা (হাঁপানি) ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। শনিবার বৃষ্টিতে ভিজে তার শরীর খারাপ হয়েছিল।

তুষ্টির গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আলতু মিয়া।

তুষ্টির মৃত্যুর খবর শুনে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কেউই মেনে নিতে পারছেন না এই মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যু।

তুষ্টির চাচা ঈমাম হোসেন বলেন, তুষ্টি ধর্মরায় রামধনু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ-৫) পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এরপর মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ-৫) এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

তিনি বলেন, সে খুব মেধাবী ছিল। তারা তিন ভাই এক বোন। সে ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই মাসুদ মিয়া সৌদি আরবে থাকেন। তুর্জয় মিয়া অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আরেক ভাই মাহির বয়স ছয় বছর। মা হেনা আক্তার গৃহিনী। বাবা আলতু মিয়া ধান চালের ব্যবসা করেন।

তুষ্টির আরেক চাচা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তুষ্টি আমাদের বংশের গৌরব ছিল। তার মতো মেধাবী সন্তান আর কেউ নেই।

মেয়ে মৃত্যুর খবর শুনে তার মা হেনা আক্তার বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘এত কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করাইছিলাম। আমার সন্তানের কেন এমন হলো? কেন এই সর্বনাশ হল আমার! আমার মেয়েকে এনে দাও।’

নেত্রকোণার আটপাড়া থানার ওসি জাফর ইকবাল বলেন, তুষ্টির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। তার পরিবার ঢাকার লালবাগ থানায় পৌঁছেছে।

তুষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। তবে হল বন্ধ থাকায় তিনি আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন।

‘মেধাবী ছাত্রী তুষ্টি বংশের গৌরব ছিল’

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
০৬ জুন ২০২১, ০৪:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইসরাত জাহান তুষ্টির (২১) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

রোববার সকালে রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

অসুস্থতাজনিত কারণে তুষ্টি বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, তুষ্টির অ্যাজমা (হাঁপানি) ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। শনিবার বৃষ্টিতে ভিজে তার শরীর খারাপ হয়েছিল। 

তুষ্টির গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আলতু মিয়া।

তুষ্টির মৃত্যুর খবর শুনে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কেউই মেনে নিতে পারছেন না এই মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যু। 

তুষ্টির চাচা ঈমাম হোসেন বলেন, তুষ্টি ধর্মরায় রামধনু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ-৫) পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এরপর মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে (জিপিএ-৫) এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। 

তিনি বলেন, সে খুব মেধাবী ছিল। তারা তিন ভাই এক বোন। সে ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই মাসুদ মিয়া সৌদি আরবে থাকেন। তুর্জয় মিয়া অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আরেক ভাই মাহির বয়স ছয় বছর। মা হেনা আক্তার গৃহিনী। বাবা আলতু মিয়া ধান চালের ব্যবসা করেন।  

তুষ্টির আরেক চাচা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তুষ্টি আমাদের বংশের গৌরব ছিল। তার মতো মেধাবী সন্তান আর কেউ নেই। 
 
মেয়ে মৃত্যুর খবর শুনে তার মা হেনা আক্তার বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘এত কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করাইছিলাম। আমার সন্তানের কেন এমন হলো? কেন এই সর্বনাশ হল আমার! আমার মেয়েকে এনে দাও।’

নেত্রকোণার আটপাড়া থানার ওসি জাফর ইকবাল বলেন, তুষ্টির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। তার পরিবার ঢাকার লালবাগ থানায় পৌঁছেছে। 

তুষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। তবে হল বন্ধ থাকায় তিনি আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন