সেই ‘৫ টাকায় ভরপেট খাবার’ কার্যক্রমে ওসির বাধা
jugantor
সেই ‘৫ টাকায় ভরপেট খাবার’ কার্যক্রমে ওসির বাধা

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৮ জুন ২০২১, ০০:১৩:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত নারায়ণগঞ্জে মাত্র ৫ টাকায় ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরপেট খাবারের সংবাদটি দেশব্যাপী আলোড়ন ফেললেও তাতে বাধ সেধেছেন সদর থানার ওসি শাহ জামান। গত রোববার বিকালে ৫ টাকায় ভরপেট খাবারের আয়োজন শেষে নগরীর শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গনে এসে আয়োজকদের সেখানে কার্যক্রম না করতে নির্দেশ দেন ওসি শাহ জামান।

একদল উদ্যোমী ও সাহসী শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা সংগঠন ‘মুক্ততরী’র উদ্যোগে ‘পঞ্চে তৃপ্তি’ নামে এই আয়োজনে মাত্র ৫টাকায় ছিন্নমূল শিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভরপেট খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় জিয়া হল প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম চলার ষষ্ঠ দিনে সোমবার পুলিশি বাধার কারণে সংগঠনের সদস্যরা বাধ্য হয়ে নগরীর চাষাড়া রেল স্টেশনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এদিকে সাহসী এই তরুণদের এমন মহতী উদ্যোগে পুলিশের বাধা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে অভিযোগে ব্যাপারে সদর থানার ওসি দাবি করেন, ওই সংগঠনের সদস্যরা জিয়া হলের ভিতর গান বাজনা করছিল বিধায় তাদেরকে সরকারি স্থাপনায় অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পরামর্শ দিয়েছি।

এদিকে দৈনিক যুগান্তরে মুক্ততরী সংগঠনের এই ৫টাকায় ভরপেট খাবারের সংবাদটি দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশের পর সোমবার দেশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে হৃদয়বান ব্যক্তিরা এই প্রতিবেদককে ফোন করে ওই সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেছেন । তারা এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সংগঠনের সমন্বয়ক রুবাইদ হাসান সায়মন জানিয়েছেন, যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। অনেকে ফোন করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন, অনেকে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সামর্থবানরাই নন, একটি প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড (নৈশ প্রহরী) এসে আমাদের হাতে সোমবার ৩শ টাকা দিয়ে গেছেন, যা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।

অপরদিকে মুক্ততরী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক জয় দত্ত জানান, রোববার কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বৃষ্টির জন্যে আমরা জিয়া হলের ভিতরে গিয়ে বসি। সে সময় ফুটপাতে থাকা হকারদের উচ্ছেদ করতে আসেন সদর মডেল থানার ওসি শাহ্ জামান। ভেতরে আমাদের দেখে ডাক দেন উনি। সে ডাক আমরা শুনতে পাইনি। তখন সে ভেতরে এসে আমাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে এবং আমাদের এখানে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে।

আমরা আমাদের নিজ নিজ পরিচয় এবং এখানে আমাদের কার্যক্রম বিষয়ে তাকে বললে তিনি আমাদের বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের খাওয়ানোর জন্যে রাষ্ট্র আছে। তোমরা এ কাজ কেন করতে গেছো? আর এই করোনার সময়ে এভাবে গ্যাদারিং হয়ে বসে আছো কেন? আর এখানে কার অনুমতি নিয়ে তোমরা এসব করছো?’ আমরা বলি যে, আমরা কোনো অনুমতি নেই নাই। তখন উনি বলেন, তোমরা যে এখানে অনুমতি না নিয়ে বসেছো এর জন্যে তোমাদের নামে মামলাও করতে পারি। পরে আমাদের বের হতে বললে আমরা সবাই বের হয়ে আসি।

জয় আরও বলেন, আজকে এসে জিয়া হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চাইলে দেখি গেটে তালা। চাবি আনতে গেলে দারোয়ান বলে, এনডিসি স্যারের নিষেধ আছে। আপনারা অনুমতি নিয়ে আসেন তারপর চাবি পাবেন। সেজন্য আজকের (সোমবার) কার্যক্রম চাষাঢ়া প্লাটফর্মে রেখেছি। কালকে ডিসির অনুমতি এনে তারপর এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ওসি মো. শাহ্ জামান বলেন, খাবার বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবার পরও তারা জিয়া হলের ভেতর বসে গান-বাজনা করছিল। সরকারি স্থাপনায় অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পরামর্শ দিয়েছি তাদের। একজন ওসি হিসেবে তাদেরকে বিষয়টি জানানো আমার দায়িত্ব।

সেই ‘৫ টাকায় ভরপেট খাবার’ কার্যক্রমে ওসির বাধা

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৮ জুন ২০২১, ১২:১৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত নারায়ণগঞ্জে মাত্র ৫ টাকায় ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরপেট খাবারের সংবাদটি দেশব্যাপী আলোড়ন ফেললেও তাতে বাধ সেধেছেন সদর থানার ওসি শাহ জামান। গত রোববার বিকালে ৫ টাকায় ভরপেট খাবারের আয়োজন শেষে নগরীর শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গনে এসে আয়োজকদের সেখানে কার্যক্রম না করতে নির্দেশ দেন ওসি শাহ জামান। 

একদল উদ্যোমী ও সাহসী শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা সংগঠন ‘মুক্ততরী’র উদ্যোগে ‘পঞ্চে তৃপ্তি’ নামে এই আয়োজনে মাত্র ৫টাকায় ছিন্নমূল শিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভরপেট খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় জিয়া হল প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম চলার ষষ্ঠ দিনে সোমবার পুলিশি বাধার কারণে সংগঠনের সদস্যরা বাধ্য হয়ে নগরীর চাষাড়া রেল স্টেশনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এদিকে সাহসী এই তরুণদের এমন মহতী উদ্যোগে পুলিশের বাধা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

তবে অভিযোগে ব্যাপারে সদর থানার ওসি দাবি করেন, ওই সংগঠনের সদস্যরা জিয়া হলের ভিতর গান বাজনা করছিল বিধায় তাদেরকে সরকারি স্থাপনায় অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পরামর্শ দিয়েছি। 

এদিকে দৈনিক যুগান্তরে মুক্ততরী সংগঠনের এই ৫টাকায় ভরপেট খাবারের সংবাদটি দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশের পর সোমবার দেশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে হৃদয়বান ব্যক্তিরা এই প্রতিবেদককে ফোন করে ওই সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেছেন । তারা এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। 

সংগঠনের সমন্বয়ক রুবাইদ হাসান সায়মন জানিয়েছেন, যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। অনেকে ফোন করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন, অনেকে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সামর্থবানরাই নন, একটি প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড (নৈশ প্রহরী) এসে আমাদের হাতে সোমবার ৩শ টাকা দিয়ে গেছেন, যা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।  

অপরদিকে মুক্ততরী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক জয় দত্ত জানান, রোববার কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বৃষ্টির জন্যে আমরা জিয়া হলের ভিতরে গিয়ে বসি। সে সময় ফুটপাতে থাকা হকারদের উচ্ছেদ করতে আসেন সদর মডেল থানার ওসি শাহ্ জামান। ভেতরে আমাদের দেখে ডাক দেন উনি। সে ডাক আমরা শুনতে পাইনি। তখন সে ভেতরে এসে আমাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে এবং আমাদের এখানে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করে। 

আমরা আমাদের নিজ নিজ পরিচয় এবং এখানে আমাদের কার্যক্রম বিষয়ে তাকে বললে তিনি আমাদের বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের খাওয়ানোর জন্যে রাষ্ট্র আছে। তোমরা এ কাজ কেন করতে গেছো? আর এই করোনার সময়ে এভাবে গ্যাদারিং হয়ে বসে আছো কেন? আর এখানে কার অনুমতি নিয়ে তোমরা এসব করছো?’ আমরা বলি যে, আমরা কোনো অনুমতি নেই নাই। তখন উনি বলেন, তোমরা যে এখানে অনুমতি না নিয়ে বসেছো এর জন্যে তোমাদের নামে মামলাও করতে পারি। পরে আমাদের বের হতে বললে আমরা সবাই বের হয়ে আসি।

জয় আরও বলেন, আজকে এসে জিয়া হলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চাইলে দেখি গেটে তালা। চাবি আনতে গেলে দারোয়ান বলে, এনডিসি স্যারের নিষেধ আছে। আপনারা অনুমতি নিয়ে আসেন তারপর চাবি পাবেন। সেজন্য আজকের (সোমবার) কার্যক্রম চাষাঢ়া প্লাটফর্মে রেখেছি। কালকে ডিসির অনুমতি এনে তারপর এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করবো। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ওসি মো. শাহ্ জামান বলেন, খাবার বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবার পরও তারা জিয়া হলের ভেতর বসে গান-বাজনা করছিল। সরকারি স্থাপনায় অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পরামর্শ দিয়েছি তাদের। একজন ওসি হিসেবে তাদেরকে বিষয়টি জানানো আমার দায়িত্ব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন