বুদ্ধিমত্তায় যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেল তরুণী
jugantor
বুদ্ধিমত্তায় যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেল তরুণী

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

০৯ জুন ২০২১, ২১:৪৫:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এক তরুণী (২০)। মঙ্গলবার দিনগত রাতে যৌনপল্লীর প্রধান গেট থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এইচএসসি পাশ ওই তরুণীর বাড়ী পঞ্চগড় সদর উপজেলায়।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে মনির হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজমহল গ্রামের মো. জালালের ছেলে। এ সময় একই উপজেলার বাদু মৃধা গ্রামের মো. শাহউদ্দিনের ছেলে মো. মাসুম (৩০) ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া তরুণীর বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হওয়ায় বাবা নতুন করে বিয়ে করেন। সৎ মা তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতো এবং ঠিকমতো খাবার দিত না। এ কষ্টের কথা সে মোবাইল ফোনে পূর্ব পরিচিত জনৈক মাসুমকে জানায়। মাসুম তাকে ভালো বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির কথা বলে ঢাকায় আসতে বলে।

ওই তরুণী সে কথা গত ৭ জুলাই সোমবার রাতে পঞ্চগড় থেকে বাসযোগে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় চলে আসে। এরপর সে মাসুমের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে মাসুম তাকে ঢাকা থেকে গোয়ালন্দে চলে আসার কথা বলে।

তরুণী এবারো সরল বিশ্বাসে গোয়ালন্দের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরি ঘাটে এসে পৌঁছায়। এখান থেকে মাসুম ও মনির তাকে সঙ্গে করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। এরপর রাত ৮টার দিকে তাকে বিক্রির জন্য যৌনপল্লীতে ঢোকানোর চেষ্টা করে।

এসময় পল্লীর মেয়েদের চলাচল ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে মনিরকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় মাসুম ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে ওই তরুণীকে উদ্ধার ও মনিরকে গ্রেফতার করে।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, এ ঘটনায় ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মনিরকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বুদ্ধিমত্তায় যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেল তরুণী

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
০৯ জুন ২০২১, ০৯:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এক তরুণী (২০)। মঙ্গলবার দিনগত রাতে যৌনপল্লীর প্রধান গেট থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এইচএসসি পাশ ওই তরুণীর বাড়ী পঞ্চগড় সদর উপজেলায়।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে মনির হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজমহল গ্রামের মো. জালালের ছেলে। এ সময় একই উপজেলার বাদু মৃধা গ্রামের মো. শাহউদ্দিনের ছেলে মো. মাসুম (৩০) ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া তরুণীর বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হওয়ায় বাবা নতুন করে বিয়ে করেন। সৎ মা তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতো এবং ঠিকমতো খাবার দিত না। এ কষ্টের কথা সে মোবাইল ফোনে পূর্ব পরিচিত জনৈক মাসুমকে জানায়। মাসুম তাকে ভালো বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির কথা বলে ঢাকায় আসতে বলে।

ওই তরুণী সে কথা গত ৭ জুলাই সোমবার রাতে পঞ্চগড় থেকে বাসযোগে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় চলে আসে। এরপর সে মাসুমের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে মাসুম তাকে ঢাকা থেকে গোয়ালন্দে চলে আসার কথা বলে।

তরুণী এবারো সরল বিশ্বাসে গোয়ালন্দের উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরি ঘাটে এসে পৌঁছায়। এখান থেকে মাসুম ও মনির তাকে সঙ্গে করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায়। এরপর রাত ৮টার দিকে তাকে বিক্রির জন্য যৌনপল্লীতে ঢোকানোর চেষ্টা করে।

এসময় পল্লীর মেয়েদের চলাচল ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে মনিরকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় মাসুম ও অজ্ঞাতনামা আরও একজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে ওই তরুণীকে উদ্ধার ও মনিরকে গ্রেফতার করে।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, এ ঘটনায় ওই তরুণী নিজেই বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মনিরকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন