শিবালয়ে উদ্বোধন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ
jugantor
শিবালয়ে উদ্বোধন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ

  মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি  

১০ জুন ২০২১, ০৯:৫৪:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার অর্ধশত দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার এটি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে (টেপরা) অবস্থিত।

জেলা ও উপজেলা সদরসহ মানিকগঞ্জে আরও সাতটি মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বুধবার বিকালে এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

এ সময় মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক শফিক তালুকদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ সময় সাংসদ নাঈমুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এবং অন্যায়-কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে এই মডেল মসজিদ। আমার সংসদীয় আসনে মসজিদটি নির্মাণ করায় আমি গর্বিত, মুসল্লিরাও আনন্দিত।’

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, এই মসজিদ ইসলামিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রও হবে। এখানে ইসলামের প্রকৃত দীক্ষা গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি- সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত হবেন না। সামাজিক অবক্ষয় ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখতে এই মডেল মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মসজিদ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক শফিক বলেন, ইসলামিক আদর্শ, ভ্রাতৃত্ব ও মূল্যবোধের প্রচার এবং উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচার করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মসজিদ নির্মাণ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শিবালয় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

তিনতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মসজিদটিতে রয়েছে সুউচ্চ মিনার। প্রথম থেকে দ্বিতীয় তলায় ওঠার বিশাল সিঁড়ি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, তিনতলাবিশিষ্ট মসজিদের নামাজের ব্যবস্থা ছাড়াও থাকবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ওজুখানা ও নামাজ আদায়ের সুবিধা।

এ ছাড়া রয়েছে প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের শৌচাগারসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইমামদের ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামিক গবেষণা ও দ্বিনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা, মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের নিবন্ধনসহ প্রশিক্ষণ, ইমামের প্রশিক্ষণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থাসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা।

শিবালয়ে উদ্বোধন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ

 মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 
১০ জুন ২০২১, ০৯:৫৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার অর্ধশত দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার এটি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে (টেপরা) অবস্থিত।

জেলা ও উপজেলা সদরসহ মানিকগঞ্জে আরও সাতটি মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বুধবার বিকালে এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

এ সময় মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক শফিক তালুকদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ সময় সাংসদ নাঈমুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এবং অন্যায়-কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে এই মডেল মসজিদ। আমার সংসদীয় আসনে মসজিদটি নির্মাণ করায় আমি গর্বিত, মুসল্লিরাও আনন্দিত।’

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, এই মসজিদ ইসলামিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রও হবে। এখানে ইসলামের প্রকৃত দীক্ষা গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি- সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত হবেন না। সামাজিক অবক্ষয় ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখতে এই মডেল মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মসজিদ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক শফিক বলেন, ইসলামিক আদর্শ, ভ্রাতৃত্ব ও মূল্যবোধের প্রচার এবং উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচার করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মসজিদ নির্মাণ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শিবালয় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

তিনতলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মসজিদটিতে রয়েছে সুউচ্চ মিনার। প্রথম থেকে দ্বিতীয় তলায় ওঠার বিশাল সিঁড়ি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, তিনতলাবিশিষ্ট মসজিদের নামাজের ব্যবস্থা ছাড়াও থাকবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ওজুখানা ও নামাজ আদায়ের সুবিধা।

এ ছাড়া রয়েছে প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের শৌচাগারসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইমামদের ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামিক গবেষণা ও দ্বিনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা, মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের  নিবন্ধনসহ প্রশিক্ষণ, ইমামের প্রশিক্ষণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থাসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন