মোবাইলে সিম লাগাতে না পারায় পুত্রবধূকে কোপালেন শাশুড়ি
jugantor
মোবাইলে সিম লাগাতে না পারায় পুত্রবধূকে কোপালেন শাশুড়ি

  বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

১০ জুন ২০২১, ২২:২৭:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে সিম লাগাতে না পারায় প্রিয়া (২৪) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করেছেন তার শাশুড়ি। বুধবার বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সংলগ্ন তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রিয়া ওই বাড়ির সোহেল তালুকদারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

ওই গৃহবধূ জানান, গত সোমবার শাশুড়ির মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে চার্জ হয়নি। পরে ফোনটি খুলে ব্যাটারি পুনরায় লাগান ওই গৃহবধূ। তখন সিম উল্টে যায় এবং শাশুড়ি খাদিজা বেগম (৪৫) টের পেয়ে পুত্রবধূকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে দুই দিন আটকে রেখে মেয়ের বাড়ি চলে যায়। স্বামী চাকরির উদ্দেশ্যে দূরে থাকায় এবং নিজের কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় ও লজ্জার কারণে কাউকে জানাতে পারেননি।

বুধবার ঘরের মধ্যে ডাক-চিৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির পাশের লোকজন দৌড়ে এসে দেখেন- শাশুড়ি খাদিজা বেগম ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন তার পুত্রবধূকে।

এ সময় তার হাত ও পায়ে প্রায় অর্ধশত কোপ মারে তার শাশুড়ি। পরে এলাকাবাসী শাশুড়ির কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

দৈনিক যুগান্তরের মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধির মাধ্যমে জানা যায়, ওই গৃহবধূর শরীরে প্রায় শতাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে। দুই দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দুটি সন্তানকে নিয়ে কাতরাচ্ছেন ওই গৃহবধূ। দুটি সন্তানের একটির বয়স দেড় বছর ও অপরটির তিন বছর। দুই হাতে ও পায়ে জখম নিয়ে সন্তান বুকে জড়িয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। বাবার বাড়িতে সক্ষম কেউ না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। খোঁজ নেয়নি স্বামীর পরিবারের কেউ।

এলাকা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এর আগেও একাধিকবার এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক না থাকায় শাশুড়ি ব্যাপক নির্যাতন করে ওই গৃহবধূকে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীর পরিবারের কেউ মুখ খোলেননি। ঘটনার পর থেকে শাশুড়ি খাদিজা বেগম লাপাত্তা ও স্বামীকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আমি দুই দিন না খেয়ে থাকায় দুর্বলতার কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না, আইনের আশ্রয় নেব কীভাবে।

বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইলে সিম লাগাতে না পারায় পুত্রবধূকে কোপালেন শাশুড়ি

 বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১০ জুন ২০২১, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে সিম লাগাতে না পারায় প্রিয়া (২৪) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করেছেন তার শাশুড়ি। বুধবার বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সংলগ্ন তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রিয়া ওই বাড়ির সোহেল তালুকদারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

ওই গৃহবধূ জানান, গত সোমবার শাশুড়ির মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে চার্জ হয়নি। পরে ফোনটি খুলে ব্যাটারি পুনরায় লাগান ওই গৃহবধূ। তখন সিম উল্টে যায় এবং শাশুড়ি খাদিজা বেগম (৪৫) টের পেয়ে পুত্রবধূকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে দুই দিন আটকে রেখে মেয়ের বাড়ি চলে যায়। স্বামী চাকরির উদ্দেশ্যে দূরে থাকায় এবং নিজের কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় ও লজ্জার কারণে কাউকে জানাতে পারেননি।

বুধবার ঘরের মধ্যে ডাক-চিৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির পাশের লোকজন দৌড়ে এসে দেখেন- শাশুড়ি খাদিজা বেগম ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন তার পুত্রবধূকে।

এ সময় তার হাত ও পায়ে প্রায় অর্ধশত কোপ মারে তার শাশুড়ি। পরে এলাকাবাসী শাশুড়ির কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

দৈনিক যুগান্তরের মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধির মাধ্যমে জানা যায়, ওই গৃহবধূর শরীরে প্রায় শতাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে। দুই দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দুটি সন্তানকে নিয়ে কাতরাচ্ছেন ওই গৃহবধূ। দুটি সন্তানের একটির বয়স দেড় বছর ও অপরটির তিন বছর। দুই হাতে ও পায়ে জখম নিয়ে সন্তান বুকে জড়িয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। বাবার বাড়িতে সক্ষম কেউ না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। খোঁজ নেয়নি স্বামীর পরিবারের কেউ।

এলাকা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এর আগেও একাধিকবার এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক না থাকায় শাশুড়ি ব্যাপক নির্যাতন করে ওই গৃহবধূকে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীর পরিবারের কেউ মুখ খোলেননি। ঘটনার পর থেকে শাশুড়ি খাদিজা বেগম লাপাত্তা ও স্বামীকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আমি দুই দিন না খেয়ে থাকায় দুর্বলতার কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। 

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না, আইনের আশ্রয় নেব কীভাবে।

বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন