আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আমের আড়ত!
jugantor
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আমের আড়ত!

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

১২ জুন ২০২১, ২০:৫৪:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ড়তে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়

মৌসুমি ফলের আড়তে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়। প্রায় আট বছর ধরে নেতা-কর্মীরা সেখানে যান না। খোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকই জানেন না, কার্যালয়টি এখন আমের আড়ত।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, অফিসের বাইরে বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ‘ আর নিচে ছোট করে লেখা ‘বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়’। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, সারি সারি আম বিছানো। অফিসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো থাকলেও নেই কোনো চেয়ার, টেবিল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময় কার্যালয়টিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, কমিটির সভা হয়ে আসছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত রয়েছে।

দলের ত্যাগী কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন্দর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড কমিটিতে নেতা হওয়ার জন্য লোকের অভাব হয়না, ইউনিয়ন শাখায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে নেতার অভাব হয়না, কিন্তু দলের অফিসে বাতি দেওয়ার মানুষ পাওয়া যায় না।

এলাকা আওয়ামী লীগের প্রবীণ সমর্থকরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বন্দরে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি চর্চা নেই। স্থানীয় এমপি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির হলেও তিনি ঐহিত্যবাহী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান,তাই তাকে ঘিরেই সকলের রাজনীতি। পাশাপাশি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তবে বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ নিজেই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাই ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন কমিটির নেতা হতে সবাই ঘুরে ফিরে তার সানিধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন। সেখানে দলের অফিস তালাবদ্ধ না আমের আড়ত হয়ে গেছে সেটি তাদের কাছে মূখ্য নয়। আমরা গত ১০ বছরে স্থানীয় নির্বাচন ছাড়া বন্দর ইউনিয়ন কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিও করতে দেখিনি।

এ ব্যাপারে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহর মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। শহিদুল্লাহর ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,বাবা অসুস্থ। করোনাসহ বার্ধক্যজনিত কারণে আমরা তাকে বাইরে যেতে দেই না। তাছাড়া অসুস্থতার জন্য তিনি এখন ঠিকভাবে কথা বলতেও পারেন না। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কে বা কারা আম রেখেছে সেটা বলতে পারেন না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদে দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা রফিকুল ইসলাম জানান, দল ক্ষমতায় থাকায় অফিস ভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নেই। তাছাড়া দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরেও গত দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দলের অনেকের সরাসরি অসহযোগিতায় নৌকা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে অসহযোগিতা করেছে কিংবা দলের জন্য ন্যূনতম ত্যাগ নেই তারাই এখন নেতা হতে মরিয়া। কর্মীদের কষ্ট প্রকাশ করার জায়গাটুকুও আমাদের নেই।

বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন পনির প্রথমে অস্বীকার করে বলেন, তাদের নিজেদের কোনো কার্যালয় নেই। পরে অবশ্য স্বীকার করে তিনি বলেন, একটি কার্যালয় আছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় যুবলীগের নেতারা সেটা দেখাশোনা করেন। তবে সেটা আমের গোডাউন হয়েছে আমি জানি না। আগামীকাল সকালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আম রাখার ভিডিও ভাইরাল হয়। কয়েকজন তরুণের করা ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে আমের ব্যবসা চলছে।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আমের আড়ত!

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
১২ জুন ২০২১, ০৮:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ড়তে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়
আমের আড়তে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়। ছবি: যুগান্তর

মৌসুমি ফলের আড়তে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়। প্রায় আট বছর ধরে নেতা-কর্মীরা সেখানে যান না। খোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকই জানেন না, কার্যালয়টি এখন আমের আড়ত।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, অফিসের বাইরে বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ‘ আর নিচে ছোট করে লেখা ‘বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়’। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, সারি সারি আম বিছানো। অফিসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো থাকলেও নেই কোনো চেয়ার, টেবিল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময় কার্যালয়টিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, কমিটির সভা হয়ে আসছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত রয়েছে।

দলের ত্যাগী কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন্দর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড কমিটিতে নেতা হওয়ার জন্য লোকের অভাব হয়না, ইউনিয়ন শাখায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে নেতার অভাব হয়না, কিন্তু দলের অফিসে বাতি দেওয়ার মানুষ পাওয়া যায় না। 

এলাকা আওয়ামী লীগের প্রবীণ সমর্থকরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বন্দরে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি চর্চা নেই। স্থানীয় এমপি মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির হলেও তিনি ঐহিত্যবাহী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান,তাই তাকে ঘিরেই সকলের রাজনীতি। পাশাপাশি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তবে বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ নিজেই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাই ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন কমিটির নেতা হতে সবাই ঘুরে ফিরে তার সানিধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন। সেখানে দলের অফিস তালাবদ্ধ না আমের আড়ত হয়ে গেছে সেটি তাদের কাছে মূখ্য নয়। আমরা গত ১০ বছরে স্থানীয় নির্বাচন ছাড়া বন্দর ইউনিয়ন কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিও করতে দেখিনি। 

এ ব্যাপারে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহর মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। শহিদুল্লাহর ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,বাবা অসুস্থ। করোনাসহ বার্ধক্যজনিত কারণে আমরা তাকে বাইরে যেতে দেই না। তাছাড়া অসুস্থতার জন্য তিনি এখন ঠিকভাবে কথা বলতেও পারেন না। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কে বা কারা আম রেখেছে সেটা বলতে পারেন না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদে দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা রফিকুল ইসলাম জানান, দল ক্ষমতায় থাকায় অফিস ভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নেই। তাছাড়া দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছে।  আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরেও গত দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দলের অনেকের সরাসরি অসহযোগিতায় নৌকা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে অসহযোগিতা করেছে কিংবা দলের জন্য ন্যূনতম ত্যাগ নেই তারাই এখন নেতা হতে মরিয়া। কর্মীদের কষ্ট প্রকাশ করার জায়গাটুকুও আমাদের নেই। 

বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন পনির প্রথমে অস্বীকার করে বলেন, তাদের নিজেদের কোনো কার্যালয় নেই। পরে অবশ্য স্বীকার করে তিনি বলেন, একটি কার্যালয় আছে।  সিটি করপোরেশন এলাকায় হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় যুবলীগের নেতারা সেটা দেখাশোনা করেন। তবে সেটা আমের গোডাউন হয়েছে আমি জানি না। আগামীকাল সকালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আম রাখার ভিডিও ভাইরাল হয়। কয়েকজন তরুণের করা ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে আমের ব্যবসা চলছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন