যৌতুকের বলি হলেন ইতি
jugantor
যৌতুকের বলি হলেন ইতি

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

১২ জুন ২০২১, ২২:৩১:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

চার বছর আগে বধূ বেশে স্বামীর সংসারে গিয়েছিল ইতি বেগম। বছরখানেক সুখে-শান্তিতেই তাদের সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ তাদের সংসারে নেমে আসে কালো মেঘ। এর একটাই কারণ যৌতুক; কিন্তু ইতির পরিবারের সেই সামর্থ্য নেই। এ কারণে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে তার ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত।

যৌতুককে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হয় ইতিকে। অবশেষে এসব অত্যাচার সইতে না পেরে বিষপান করে জীবনের ইতি টানলেন ইতি। এমনটাই অভিযোগ ইতির বাবার।

নিহত ইতি বেগম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের ইছা মুন্সির মেয়ে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মজিবর মুন্সির ছেলে মোটরসাইকেল চালক নবীন মুন্সির সঙ্গে ইতির বিয়ে হয়। স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের এক বছর পর থেকে ইতি-নবীনের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। প্রায় সময়ই ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। ছেলেসন্তানের মুখও দেখেননি তারা।

ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার দেড়টায় ইতি বিষপান করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ইতিকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায় গলাচিপা থানা পুলিশ।

ইতির বাবা ইছা মুন্সি বলেন, চার বছর আগে ইতির বিয়ে হয়। ছেলে গাড়ি চালাত। এক বছর পর গাড়ি বিক্রি করে দেয়। এরপর গাড়ি কিনবে বলে আমাদের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি মেয়ে বিয়ে দিছি কষ্ট করে, আমার তো চারআনা দেওয়ার মতোও তৌফিক নাই। আমি নিজেই তিন-চার লাখ টাকা দেনা। যৌতুকের জন্য মেয়েকে প্রায়ই মারত। অনেকবার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করেছে। মাসখানেক আগেও মেয়েটা কানতে কানতে বাড়ি এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটা জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পাইরা বিষ খাইছে। মেয়েটা যে বিষ খাইছে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি লোকজনের কাছে শুনে বেয়াইরে ফোন দিছি। পরে বিষ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো.মমিনুল ইসলাম বলেন, ইতি বেগম নামে একজন বিষপান করার সংবাদ আমাদের কাছে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা গেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সে বিষপান করেছে বলে জানতে পেরেছি।

যৌতুকের বলি হলেন ইতি

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
১২ জুন ২০২১, ১০:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চার বছর আগে বধূ বেশে স্বামীর সংসারে গিয়েছিল ইতি বেগম। বছরখানেক সুখে-শান্তিতেই তাদের সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ তাদের সংসারে নেমে আসে কালো মেঘ। এর একটাই কারণ যৌতুক; কিন্তু ইতির পরিবারের সেই সামর্থ্য নেই। এ কারণে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে তার ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। 

যৌতুককে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হয় ইতিকে। অবশেষে এসব অত্যাচার সইতে না পেরে বিষপান করে জীবনের ইতি টানলেন ইতি। এমনটাই অভিযোগ ইতির বাবার।

নিহত ইতি বেগম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের ইছা মুন্সির মেয়ে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মজিবর মুন্সির ছেলে মোটরসাইকেল চালক নবীন মুন্সির সঙ্গে ইতির বিয়ে হয়। স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের এক বছর পর থেকে ইতি-নবীনের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। প্রায় সময়ই ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। ছেলেসন্তানের মুখও দেখেননি তারা।

ইতির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার দেড়টায় ইতি বিষপান করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ইতিকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায় গলাচিপা থানা পুলিশ। 

ইতির বাবা ইছা মুন্সি বলেন, চার বছর আগে ইতির বিয়ে হয়। ছেলে গাড়ি চালাত। এক বছর পর গাড়ি বিক্রি করে দেয়। এরপর গাড়ি কিনবে বলে আমাদের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি মেয়ে বিয়ে দিছি কষ্ট করে, আমার তো চারআনা দেওয়ার মতোও তৌফিক নাই। আমি নিজেই তিন-চার লাখ টাকা দেনা। যৌতুকের জন্য মেয়েকে প্রায়ই মারত। অনেকবার বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করেছে। মাসখানেক আগেও মেয়েটা কানতে কানতে বাড়ি এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটা জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পাইরা বিষ খাইছে। মেয়েটা যে বিষ খাইছে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি লোকজনের কাছে শুনে বেয়াইরে ফোন দিছি। পরে বিষ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো.মমিনুল ইসলাম বলেন, ইতি বেগম নামে একজন বিষপান করার সংবাদ আমাদের কাছে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা গেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সে বিষপান করেছে বলে জানতে পেরেছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন