ক্ষমা চাওয়ার শর্তে এমপি জাফর ও লিটুর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার
jugantor
ক্ষমা চাওয়ার শর্তে এমপি জাফর ও লিটুর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার

  চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  

১৪ জুন ২০২১, ১১:১৬:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্ষমা চাওয়ার শর্তে এমপি জাফর ও লিটুর অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর ক্ষমা চাওয়ার শর্তে জাফর আলম এমপি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বহাল রেখেছেন।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ধানমন্ডি-৩ প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকগণ।

সেখানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি ও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীকে বৈঠকে ডাকা হয়। টানা ২ ঘণ্টা বৈঠক শেষে উভয়পক্ষকে সমঝোতায় আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

একপর্যায়ে বৈঠকে থাকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাংসদ জাফর আলমকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।

ওই সময় জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, কেন্দ্রীয় আ.লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৭ জুন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভা আহ্বান করবেন। ওই দিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করবেন মর্মে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর অব্যাহতি প্রত্যাহার করেন।

কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান উপস্থিত থাকবেন। ওই দিন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করার ঘোষণা দেবেন নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করার কারণে গত ৮ জুন জাহেদুল ইসলাম লিটুকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই দিন রাতে লিটুকে অব্যাহতির দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের নেতৃত্বে পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলা চালানো হয়।

এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১০ জুন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠক শেষে জাফর আলম এমপিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর অব্যাহতি মেনে নিতে পারেনি তাদের অনুসারীরা। তাদের অনুসারীরা ওই দিন রাতে ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় চকরিয়া পৌরশহরে। টানা ৩ ঘণ্টা ধরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

ক্ষমা চাওয়ার শর্তে এমপি জাফর ও লিটুর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার

 চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
১৪ জুন ২০২১, ১১:১৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ক্ষমা চাওয়ার শর্তে এমপি জাফর ও লিটুর অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার
ফাইল ছবি

কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর ক্ষমা চাওয়ার শর্তে জাফর আলম এমপি চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বহাল রেখেছেন।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ধানমন্ডি-৩ প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকগণ।

সেখানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি ও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীকে বৈঠকে ডাকা হয়। টানা ২ ঘণ্টা বৈঠক শেষে উভয়পক্ষকে সমঝোতায় আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

একপর্যায়ে বৈঠকে থাকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাংসদ জাফর আলমকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।

ওই সময় জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।  

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, কেন্দ্রীয় আ.লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৭ জুন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভা আহ্বান করবেন। ওই দিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করবেন মর্মে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর অব্যাহতি প্রত্যাহার করেন।

কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান উপস্থিত থাকবেন। ওই দিন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করার ঘোষণা দেবেন নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করার কারণে গত ৮ জুন জাহেদুল ইসলাম লিটুকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই দিন রাতে লিটুকে অব্যাহতির দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের নেতৃত্বে পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলা চালানো হয়।

এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১০ জুন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠক শেষে জাফর আলম এমপিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটুর অব্যাহতি মেনে নিতে পারেনি তাদের অনুসারীরা। তাদের অনুসারীরা ওই দিন রাতে ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় চকরিয়া পৌরশহরে। টানা ৩ ঘণ্টা ধরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন