ধামরাইয়ের সাবেক সংসদ সদস্য জামাল উদ্দিন আর নেই
jugantor
ধামরাইয়ের সাবেক সংসদ সদস্য জামাল উদ্দিন আর নেই

  ধামরাই প্রতিনিধি  

১৪ জুন ২০২১, ২৩:০২:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বার্ধক্যজনিত কারণে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ধামরাইয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে ধামরাইসহ সারা দেশের পুরো রাজনৈতিক অঙ্গণে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বাদ জোহর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় প্রথম ও বাদ মাগরিব মরহুমের জামাতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মহসীন ও নৌবাহিনীর উপ-প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো.হারুণ অর রশীদের বদৌলতে ঢাকা সেনানীবাসের ভেতর মরহুমের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা অংশগ্রহণ করেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ, মরহুমের বেয়াই নৌবাহিনীর সাবেক উপ-প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো.হারুণ অর রশীদ, ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবীর মোল্লা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শিল্পপতি মো.জুয়েল রানাসহ সামরিক ও বেসামরিক বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মরহুমের প্রতিষ্ঠিত ধামরাই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও সকাল ১১টায় জন্মস্থান এলাকা হাটীপাড়া আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে মরহুমের মরদেহ দাফন করা হবে।

জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ ছিলেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের ইছামতি ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য থাকাকালে একরাতে তিনি ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি কলেজ ও একটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও বৃহৎ সেচ প্রকল্পের জন্য ৩৪২টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে ধামরাইয়ের চেহারা পাল্টে দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ লাকী গ্রুপঅব ইন্ড্রাষ্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তিনি গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইসরাফিল খোকন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি তমিজ উদ্দিন আহমদ, ধামরাই পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম কবীর মোল্লা, সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু, প্যানেল মেয়র মো.মোকছেদ আলী, প্যানেল মেয়র আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্যানেল মেয়র ফারহানা আক্তার, কাউন্সিলর আলহাজ্ব সাহেব আলী ও কাউন্সিলর মো.শহীদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামজিক এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরীবারের সঙ্গে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

মরহুমের কনিষ্ঠ ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.জুয়েল রানা বলেন, আমার পিতা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অসুস্থতাবোধ করেন। চিকিৎসারত অবস্থায়হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের ইছামতি ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন। তিনি দেশ ও জাতির জন্য অনেক অবদানই রেখে গেছেন।

ধামরাইয়ের সাবেক সংসদ সদস্য জামাল উদ্দিন আর নেই

 ধামরাই প্রতিনিধি 
১৪ জুন ২০২১, ১১:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বার্ধক্যজনিত কারণে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ধামরাইয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ। 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে ধামরাইসহ সারা দেশের পুরো রাজনৈতিক অঙ্গণে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। 

বাদ জোহর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় প্রথম ও বাদ মাগরিব মরহুমের জামাতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মহসীন ও নৌবাহিনীর উপ-প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো.হারুণ অর রশীদের বদৌলতে ঢাকা সেনানীবাসের ভেতর মরহুমের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানাজা অংশগ্রহণ করেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ, মরহুমের বেয়াই নৌবাহিনীর সাবেক উপ-প্রধান রিয়ার এডমিরাল মো.হারুণ অর রশীদ, ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবীর মোল্লা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শিল্পপতি মো.জুয়েল রানাসহ সামরিক ও বেসামরিক বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মরহুমের প্রতিষ্ঠিত ধামরাই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও সকাল ১১টায় জন্মস্থান এলাকা হাটীপাড়া আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে মরহুমের মরদেহ দাফন করা হবে। 

জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ ছিলেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের ইছামতি ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য থাকাকালে একরাতে তিনি ৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, তিনটি কলেজ ও একটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও বৃহৎ সেচ প্রকল্পের জন্য ৩৪২টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে ধামরাইয়ের চেহারা পাল্টে দেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ লাকী গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তিনি গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইসরাফিল খোকন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি তমিজ উদ্দিন আহমদ, ধামরাই পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম কবীর মোল্লা, সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু, প্যানেল মেয়র মো.মোকছেদ আলী, প্যানেল মেয়র আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্যানেল মেয়র ফারহানা আক্তার, কাউন্সিলর আলহাজ্ব সাহেব আলী ও কাউন্সিলর মো.শহীদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামজিক এবং  স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরীবারের সঙ্গে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

মরহুমের কনিষ্ঠ ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.জুয়েল রানা বলেন, আমার  পিতা চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অসুস্থতাবোধ করেন। চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের ইছামতি ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন। তিনি দেশ ও জাতির জন্য অনেক অবদানই রেখে গেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন