যাত্রীবেশে বাসে উঠে ডাকাতি, নিজেদের মাস্টার সম্বোধন
jugantor
যাত্রীবেশে বাসে উঠে ডাকাতি, নিজেদের মাস্টার সম্বোধন

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি  

১৬ জুন ২০২১, ১৭:৫০:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে খুলনাগামী একটি পরিবহনের বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নিয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ডাকাতরা একে অন্যকে মাস্টার-১, মাস্টার-২ বলে সম্বোধন করছিল।

খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল টিম বাস ও যাত্রীদের উদ্ধার করে।

বাসের যাত্রী খুলনার ফুলতলার বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সায়েদাবাদ থেকেই যাত্রীবেশে ডাকাতরা গাড়িতে উঠে। ডাকাতসহ গাড়িতে মোট ১৮ জন যাত্রী ছিল। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর (মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকা) রাত ১২টার দিকে ৬ ডাকাত ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ১২ যাত্রীকে জিম্মি করে সবার হাত বেঁধে ফেলে।

এরপর সিট ঢেকে রাখার কভার দিয়ে সবার মাথা ঢেকে দেয়। এ সময় যাত্রীদের কেউ কেউ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধর করে ডাকাতরা। ডাকাতরা গাড়িটি মাওয়া পর্যন্ত নিয়ে আবার ঘুরিয়ে ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা ডাকাতরা গাড়িতে অবস্থান করে যাত্রীদের সব কিছু কেড়ে নেয়। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।

ওই যাত্রী আরও জানান, ডাকাতরা ছিল যুবক বয়সের। তারা একে অন্যকে মাস্টার-১, মাস্টার-২ বলে সম্বোধন করছিল।

কামাল হোসেন নামে বাসের আরেক যাত্রী জানান, তার কাছে নগদ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। সেই টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারের পর যাত্রীদের মধ্যে ৬ জনকে ওসি সাহেব নিজের খরচে রাতেই খুলনায় যাওয়া ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাকি ৬ জনকে থানায় এনে রেখেছেন। খাওয়া-দাওয়া করিয়েছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাসটি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকায় প্রবেশ করার পর ডাকাতরা চলন্ত গাড়িতে ডাকাতি শুরু করে। গাড়িটি কয়েকটি থানা অতিক্রম করে পুনরায় ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার সামনে এসে ডাকাতরা নেমে যায়। পরে চালক গাড়িটি চালিয়ে টোলপ্লাজা পার হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় প্রবেশ করে। তখন আমাদের টহল টিম তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজদিখান থানা এলাকায়। কিন্তু মানবিক কারণে যাত্রীদের অবস্থা বিবেচনা করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডাকাতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

যাত্রীবেশে বাসে উঠে ডাকাতি, নিজেদের মাস্টার সম্বোধন

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 
১৬ জুন ২০২১, ০৫:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে খুলনাগামী একটি পরিবহনের বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নিয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ডাকাতরা একে অন্যকে মাস্টার-১, মাস্টার-২ বলে সম্বোধন করছিল।

খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল টিম বাস ও যাত্রীদের উদ্ধার করে।

বাসের যাত্রী খুলনার ফুলতলার বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সায়েদাবাদ থেকেই যাত্রীবেশে ডাকাতরা গাড়িতে উঠে। ডাকাতসহ গাড়িতে মোট ১৮ জন যাত্রী ছিল। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর (মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকা) রাত ১২টার দিকে ৬ ডাকাত ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ১২ যাত্রীকে জিম্মি করে সবার হাত বেঁধে ফেলে।

এরপর সিট ঢেকে রাখার কভার দিয়ে সবার মাথা ঢেকে দেয়। এ সময় যাত্রীদের কেউ কেউ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধর করে ডাকাতরা। ডাকাতরা গাড়িটি মাওয়া পর্যন্ত নিয়ে আবার ঘুরিয়ে ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা ডাকাতরা গাড়িতে অবস্থান করে যাত্রীদের সব কিছু কেড়ে নেয়। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার পর টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।

ওই যাত্রী আরও জানান, ডাকাতরা ছিল যুবক বয়সের। তারা একে অন্যকে মাস্টার-১, মাস্টার-২ বলে সম্বোধন করছিল।

কামাল হোসেন নামে বাসের আরেক যাত্রী জানান, তার কাছে নগদ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। সেই টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

তিনি আরও  জানান, উদ্ধারের পর যাত্রীদের মধ্যে ৬ জনকে ওসি সাহেব নিজের খরচে রাতেই খুলনায় যাওয়া ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাকি ৬ জনকে থানায় এনে রেখেছেন। খাওয়া-দাওয়া করিয়েছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাসটি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকায় প্রবেশ করার পর ডাকাতরা চলন্ত গাড়িতে ডাকাতি শুরু করে। গাড়িটি কয়েকটি থানা অতিক্রম করে পুনরায় ধলেশ্বরী টোলপ্লাজার সামনে এসে ডাকাতরা নেমে যায়। পরে চালক গাড়িটি চালিয়ে টোলপ্লাজা পার হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় প্রবেশ করে। তখন আমাদের টহল টিম তাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজদিখান থানা এলাকায়। কিন্তু মানবিক কারণে যাত্রীদের অবস্থা বিবেচনা করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডাকাতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন