ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটে চরম ভোগান্তি, পরিদর্শনে কর্মকর্তারা
jugantor
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটে চরম ভোগান্তি, পরিদর্শনে কর্মকর্তারা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৬ জুন ২০২১, ২০:০৪:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

টঙ্গী থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশে প্রতিদিনই যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। আর এ যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের। বুধবার এ মহাসড়কের কাজ পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

২০১২ সালে গাজীপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের প্রথম বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটিএ) প্রকল্প শুরু হয়। দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

পরে মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর করা হয় এবং ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। এরপর আরও দুই দফা প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা রয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান বিআরটিএ প্রকল্পের কাজের কারণে যানজট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বুধবার দুপুরে বিআরটিএ ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর শহরের শিববাড়ি থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত খুব জোরেশোরেই কাজ চলছে। কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে নালা, কোথাও চলছে উড়াল সড়কের কাজ। কয়েকটি স্থানে চলছে বিআরটির স্টেশন ও সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজ।

প্রকল্পের আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী তুরাগ নদের উপর নির্মাণ হচ্ছে বড় একটি সেতু। সেই কাজ পেরিয়ে আসলেই টঙ্গী বাজার। সেখানে অসংখ্য ছোটবড় খানাখন্দ। একই অবস্থা দেখা গেছে টঙ্গী আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে। সেখান থেকে কিছুদূর গেলেই স্টেশন রোড। স্টেশন রোডের দুই পাশেই ছোটবড় খানাখন্দে জমে আছে বৃষ্টির পানি। সেখানে চলেছে বিআরটিএ প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি।

স্টেশন রোড এলাকায় কথা হয় গাজীপুর পরিবহনের সহযোগী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত ৪-৫ বছর ধরে সড়কের একই অবস্থা। সারা বছরই যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। এখন সড়কে কাজ চলার কারণে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যানজটের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না।

বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে বিআরটিএ ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিব (বিআরটিএ) নীলিমা আক্তার বলেন, চেষ্টা করছি যানবাহন চলাচল ঠিক রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া। সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ খান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখার জন্য।

গাজীপুর সিটির মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাজীপুরের নিমতলী ব্রিজ থেকে টঙ্গীর বনমালা রেলগেট পর্যন্ত একটি সড়ক দ্রুতগতিতে নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ঈদের আগেই ওই সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিদিন সড়কটির নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন বলে জানান।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটে চরম ভোগান্তি, পরিদর্শনে কর্মকর্তারা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৬ জুন ২০২১, ০৮:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টঙ্গী থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশে প্রতিদিনই যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। আর এ যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের। বুধবার এ মহাসড়কের কাজ পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

২০১২ সালে গাজীপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের প্রথম বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটিএ) প্রকল্প শুরু হয়। দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

পরে মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর করা হয় এবং ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। এরপর আরও দুই দফা প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা রয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
 
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান বিআরটিএ প্রকল্পের কাজের কারণে যানজট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বুধবার দুপুরে বিআরটিএ ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর শহরের শিববাড়ি থেকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত খুব জোরেশোরেই কাজ চলছে। কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে নালা, কোথাও চলছে উড়াল সড়কের কাজ। কয়েকটি স্থানে চলছে বিআরটির স্টেশন ও সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজ।

প্রকল্পের আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী তুরাগ নদের উপর নির্মাণ হচ্ছে বড় একটি সেতু। সেই কাজ পেরিয়ে আসলেই টঙ্গী বাজার। সেখানে অসংখ্য ছোটবড় খানাখন্দ। একই অবস্থা দেখা গেছে টঙ্গী আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের সামনে। সেখান থেকে কিছুদূর গেলেই স্টেশন রোড। স্টেশন রোডের দুই পাশেই ছোটবড় খানাখন্দে জমে আছে বৃষ্টির পানি। সেখানে চলেছে বিআরটিএ প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি।

স্টেশন রোড এলাকায় কথা হয় গাজীপুর পরিবহনের সহযোগী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত ৪-৫ বছর ধরে সড়কের একই অবস্থা। সারা বছরই যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। এখন সড়কে কাজ চলার কারণে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যানজটের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না।

বুধবার সাড়ে ১২টার দিকে বিআরটিএ ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিব (বিআরটিএ) নীলিমা আক্তার বলেন, চেষ্টা করছি যানবাহন চলাচল ঠিক রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া। সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ খান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখার জন্য।

গাজীপুর সিটির মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাজীপুরের নিমতলী ব্রিজ থেকে টঙ্গীর বনমালা রেলগেট পর্যন্ত একটি সড়ক দ্রুতগতিতে নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ঈদের আগেই ওই সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিদিন সড়কটির নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন বলে জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন