বিনাদোষে ৩ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন মিনু
jugantor
বিনাদোষে ৩ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন মিনু

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৬ জুন ২০২১, ২২:৩৭:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ তিন বছর পর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিনাদোষে অন্যের সাজা খাটা মিনু আকতার নামে এক নারী। তিনি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমা আকতার নামে এক নারীর স্থলে এতদিন সাজা খেটেছেন।

বিষয়টি কারাকর্তৃপক্ষের নজরে এলে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু আকতার।

মুক্তি পাওয়ার পর কারা গেটে স্বজনদের পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিনু। তাকে মুক্তির বিষয়ে আদালতে ফ্রি আইনি সহায়তা দেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মো. তারিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মিনু আকতারের মুক্তির কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছার পর যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ৯ জুলাই মাসে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোহিনূর আক্তার ওরফে বেবী নামে এক পোশাক শ্রমিক খুন হন।

এরপর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অপর সহকর্মী পোশাক শ্রমিক কুলসুমা আক্তার। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে কোহিনূরকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে কুলসুমা আক্তারের পরিবর্তে মিনু আকতার ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানান। পরে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে।

এরপর তিনি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। আদালতে মিনুকে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কুলসুমা আকতার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মাঝেরপাড়ার আনু মিয়ার মেয়ে। বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয় কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি। অপরদিকে কুলসুমা সেজে কারাভোগকারী মিনু আকতার থাকত সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমুখ কলোনিতে। স্বামীহারা মিনু আকতারের তিন সন্তান রয়েছে।

বিনাদোষে ৩ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন মিনু

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৬ জুন ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ তিন বছর পর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিনাদোষে অন্যের সাজা খাটা মিনু আকতার নামে এক নারী। তিনি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমা আকতার নামে এক নারীর স্থলে এতদিন সাজা খেটেছেন।

বিষয়টি কারাকর্তৃপক্ষের নজরে এলে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু আকতার।

মুক্তি পাওয়ার পর কারা গেটে স্বজনদের পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিনু। তাকে মুক্তির বিষয়ে আদালতে ফ্রি আইনি সহায়তা দেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।
 
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মো. তারিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মিনু আকতারের মুক্তির কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছার পর যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ৯ জুলাই মাসে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোহিনূর আক্তার ওরফে বেবী নামে এক পোশাক শ্রমিক খুন হন।

এরপর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অপর সহকর্মী পোশাক শ্রমিক কুলসুমা আক্তার। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে কোহিনূরকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে কুলসুমা আক্তারের পরিবর্তে মিনু আকতার ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানান। পরে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে।

এরপর তিনি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। আদালতে মিনুকে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কুলসুমা আকতার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মাঝেরপাড়ার আনু মিয়ার মেয়ে। বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয় কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি। অপরদিকে কুলসুমা সেজে কারাভোগকারী মিনু আকতার থাকত সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমুখ কলোনিতে। স্বামীহারা মিনু আকতারের তিন সন্তান রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন