ঋণের ৫৮৭ টাকার জন্য যুবকের হাত ভাঙলেন এনজিও কর্মকর্তা
jugantor
ঋণের ৫৮৭ টাকার জন্য যুবকের হাত ভাঙলেন এনজিও কর্মকর্তা

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

১৭ জুন ২০২১, ১২:৩৪:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

আবু সালেহ হাওলাদার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ঋণের বকেয়া ৫৮৭ টাকার জন্য ডেকে নিয়ে আবু সালেহ হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবকের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খালগোড়া বাজারে অবস্থিত বেসরকারি এনজিও সংস্থা আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এর পর দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন আবু সালেহ।

আবু সালেহ হাওলাদার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

জানা গেছে, গত বছর এনজিও আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন আবু সালেহ। কিস্তি দিয়ে সেই ঋণটি পরিশোধের বাকি ছিল মাত্র এক হাজার ৫৮৭ টাকা। এর মধ্যে সোমবার এক হাজার টাকা জমাও দিয়েছিলেন তিনি। অবশিষ্ট বকেয়া ছিল তখন ৫৮৭ টাকা।

আহত আবু সালেহর পরিবারের অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে বকেয়া টাকার জন্য আবু সালেহকে খালগোড়া বাজারের এক চায়ের দোকান থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় আশার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আবু সালেহের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় ম্যানেজার, দুই মাঠকর্মী ও অফিস সহায়ক চড়াও হয়ে সালেহকে মারধর করে। এতে তার বা হাত ভেঙে যায়।

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৫টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয় বলে জানান পরিবার সদস্যরা।

ঋণগ্রহীতা আবু সালেহ বলেন, 'অফিসে ডেকে পেছনের রুমে নিয়ে ম্যানেজার দেলোয়ার, মাঠকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুর্চিসহ (অফিস সহায়ক) চারজন আমাকে কিল-ঘুষি দিয়েছে। মাটিতে ফালাইয়া (ফেলে) পাড়াইছে। হাত ভেঙে দিছে। এখন শরীর নাড়াচড়াও করাতে পারতাছি না।'

তার স্ত্রী চম্পা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে চার-পাঁচজনে মিলে খুব মারছে। হাত ভেঙে দিছে পিটাইয়া (পিটিয়ে)। আমি এর বিচার চাই।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা তার (আবু সালেহ) কাছে ১৫৮৭ টাকা পেতাম। সোমবার তার বাড়িতে গেছি, তখন এক হাজার টাকা দিছে। বুধবার মাছুম হাওলাদার (স্থানীয় ব্যক্তি) আমার কাছে এসে বলে ওই টাকা নাকি অফিস পাবে না, আমি নিয়া খাইছি।

পরে আমি তাকে বলেছি— সে কোন জায়গায় আছে তারে নিয়ে আইসেন সমাধান হয়ে যাবে। কতক্ষণ পর মাছুম হাওলাদার তাকে নিয়ে আসে অফিসে। তখন অফিসে গিয়ে সে (আবু সালেহ) বলে আপনি টাকা পাবেন না। আমার কাছ থেকে কেন টাকা আনলেন? এর পর এক কথায় দুই কথায় সে আমাকে ঠেলা (ধাক্কা) মারছে। চাবিতে আমার হাত কেটে গেছে। আমার অফিসার এসে ধরে উঠাইছে। হাতাহাতি হয়েছে এই। আমরা তাকে মারি নাই। সে ওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাইছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ম্যানেজারকে থানায় এনেছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঋণের ৫৮৭ টাকার জন্য যুবকের হাত ভাঙলেন এনজিও কর্মকর্তা

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
১৭ জুন ২০২১, ১২:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আবু সালেহ হাওলাদার
আবু সালেহ হাওলাদার। ছবি: যুগান্তর

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ঋণের বকেয়া ৫৮৭ টাকার জন্য ডেকে নিয়ে আবু সালেহ হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবকের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খালগোড়া বাজারে অবস্থিত  বেসরকারি এনজিও সংস্থা আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এর পর দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন আবু সালেহ।

আবু সালেহ হাওলাদার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

জানা গেছে, গত বছর এনজিও আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন আবু সালেহ। কিস্তি দিয়ে সেই ঋণটি পরিশোধের বাকি ছিল মাত্র এক হাজার ৫৮৭ টাকা। এর মধ্যে সোমবার এক হাজার টাকা জমাও দিয়েছিলেন তিনি। অবশিষ্ট বকেয়া ছিল তখন ৫৮৭ টাকা।

আহত আবু সালেহর পরিবারের অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে বকেয়া টাকার জন্য আবু সালেহকে খালগোড়া বাজারের এক চায়ের দোকান থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় আশার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আবু সালেহের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় ম্যানেজার, দুই মাঠকর্মী ও অফিস সহায়ক চড়াও হয়ে সালেহকে মারধর করে। এতে তার বা হাত ভেঙে যায়।

তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৫টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয় বলে জানান পরিবার সদস্যরা।  

ঋণগ্রহীতা আবু সালেহ বলেন, 'অফিসে ডেকে পেছনের রুমে নিয়ে ম্যানেজার দেলোয়ার, মাঠকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান, বাবুর্চিসহ (অফিস সহায়ক) চারজন আমাকে কিল-ঘুষি দিয়েছে। মাটিতে ফালাইয়া (ফেলে) পাড়াইছে। হাত ভেঙে দিছে। এখন শরীর নাড়াচড়াও করাতে পারতাছি না।'

তার স্ত্রী চম্পা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে চার-পাঁচজনে মিলে খুব মারছে। হাত ভেঙে দিছে পিটাইয়া (পিটিয়ে)। আমি এর বিচার চাই।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আশার রাঙ্গাবালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা তার (আবু সালেহ) কাছে ১৫৮৭ টাকা পেতাম। সোমবার তার বাড়িতে গেছি, তখন এক হাজার টাকা দিছে। বুধবার মাছুম হাওলাদার (স্থানীয় ব্যক্তি) আমার কাছে এসে বলে ওই টাকা নাকি অফিস পাবে না, আমি নিয়া খাইছি।

পরে আমি তাকে বলেছি— সে কোন জায়গায় আছে তারে নিয়ে আইসেন সমাধান হয়ে যাবে। কতক্ষণ পর মাছুম হাওলাদার তাকে নিয়ে আসে অফিসে। তখন অফিসে গিয়ে সে (আবু সালেহ) বলে আপনি টাকা পাবেন না। আমার কাছ থেকে কেন টাকা আনলেন? এর পর এক কথায় দুই কথায় সে আমাকে ঠেলা (ধাক্কা) মারছে। চাবিতে আমার হাত কেটে গেছে। আমার অফিসার এসে ধরে উঠাইছে। হাতাহাতি হয়েছে এই। আমরা তাকে মারি নাই। সে ওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাইছে।
        
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ম্যানেজারকে থানায় এনেছি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন