সড়ক কেটে বালুর পাইপ বসানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে 
jugantor
সড়ক কেটে বালুর পাইপ বসানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে 

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৮ জুন ২০২১, ১৪:০৭:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন গোদাগাড়ীতে বালুখাদান করতে পৌরসভার দুটি পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম ওরফে আলমকে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পৌরসভার ভগবন্তপুর এলাকার দুটি পাকা সড়ক কাটার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আলম ও তার সহযোগীদের বাধা প্রদান করেন এলাকাবাসী। এর পরও আলমের লোকেরা পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসিয়ে দেন। অভিযোগ পেয়ে গোদাগাড়ীর সহকারী ভূমি কমিশনার তাসলিমা খাতুন বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে সড়ক কাটার বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র এম ওবাইদুল্লাহ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতার নামে একটি চিঠি ইস্যু করেন। চিঠিতে পৌর মেয়র সতর্ক করে আওয়ামী লীগ নেতাকে নির্দেশ দিয়েছেন কাটা সড়ক যেন দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে বসানো পাইপ অপসারণ করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চিঠিতে আলমকে জানানো হয়েছে।

এলাকাটি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার হাটপাড়া ভগবন্তপুর এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা নদী। সেখান থেকে ঘনবসতিপূর্ণ ভগবন্তপুর এলাকা হয়ে লাইনপাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। এ মহাসড়কের কোলঘেঁষে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলমের জমি রয়েছে। এ জমিতেই আলম বালুখাদান তৈরির কাজ শুরু করেছেন। নদীর পাড় থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বসানো হয়েছে বালু তোলার ১২ ইঞ্চি মোটা পাইপ। এই পাইপের ভেতর দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে মহাসড়কের কোলঘেঁষে জমিতে বালু মজুদ করা হবে। সেখান থেকে সারাবছর বালু বিক্রি করা হবে।

গোদাগাড়ীর পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করে বলেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক অতি ব্যস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান হলে প্রতিনিয়ত সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশেই রয়েছে গোদাগাড়ী ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া নদী থেকে পাইপ লাইনে বালু এনে খাদানে জড়ো করা হলে এলাকাটিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। আশপাশের বসতিগুলো ডুবে যাবে কারণ আলমের জমিটি থেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। তারা আরও বলেন, পাইপ লাইনে তোলা বালুতে ৭০ শতাংশ পানি থাকে। পানি শুকালে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বালু পাওয়া যায়। এখানে বালুখাদান হলে মহাসড়কে ধসে নামবে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, পদ্মার ছয় মৌজা এলাকার বালুমহাল ইজারা নিয়েছে শুভ্র এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলম তৈরি করছে এই বালুখাদান। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইজারাদারের নেওয়া বালুমহাল তাদের এলাকা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হলেও তারা অবৈধভাবে পদ্মার চাঁপাইনবাবগঞ্জ নদী এলাকার ভেতরে ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নদীর পাড়ে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। সবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ইজারাদারের অংশীদার হিসেবে আলম ঘনবসতিপুর্ণ তিন-চারটি মহল্লার বাড়ির ভেতর দিয়ে পাইপ বসিয়ে মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলম ওরফে আলম বলেন, পদ্মার কোলঘেষে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। তার ওপর এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রামের ভেতর দিয়ে বালু পরিবহন করলে মানুষের খুব অসুবিধা হয়। এ কারণে আমরা নদী থেকে তুলে পাইপ লাইন দিয়ে বালু এলাকার বাইরে ফাঁকা মাঠে খাদান করছি। এতে বরং মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পৌরসভার সড়ক কেটে পাইপ লাইন স্থাপন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা সড়ক কেটে আবার ঢালাই করেছি। এতে সমস্যা হবে না।

সড়ক কেটে বালুর পাইপ বসানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে 

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৮ জুন ২০২১, ০২:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন গোদাগাড়ীতে বালুখাদান করতে পৌরসভার দুটি পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম ওরফে আলমকে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পৌরসভার ভগবন্তপুর এলাকার দুটি পাকা সড়ক কাটার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আলম ও তার সহযোগীদের বাধা প্রদান করেন এলাকাবাসী। এর পরও আলমের লোকেরা পাকা সড়ক কেটে পাইপ বসিয়ে দেন। অভিযোগ পেয়ে গোদাগাড়ীর সহকারী ভূমি কমিশনার তাসলিমা খাতুন  বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এদিকে সড়ক কাটার বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র এম ওবাইদুল্লাহ  বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতার নামে একটি চিঠি ইস্যু করেন। চিঠিতে পৌর মেয়র সতর্ক করে আওয়ামী লীগ নেতাকে নির্দেশ দিয়েছেন কাটা সড়ক যেন দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে বসানো পাইপ  অপসারণ করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চিঠিতে আলমকে জানানো হয়েছে।

এলাকাটি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার হাটপাড়া ভগবন্তপুর এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা নদী। সেখান থেকে ঘনবসতিপূর্ণ ভগবন্তপুর এলাকা হয়ে লাইনপাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। এ মহাসড়কের কোলঘেঁষে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলমের জমি রয়েছে। এ জমিতেই আলম বালুখাদান তৈরির কাজ শুরু করেছেন। নদীর পাড় থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বসানো হয়েছে বালু তোলার ১২ ইঞ্চি মোটা পাইপ। এই পাইপের ভেতর দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে মহাসড়কের কোলঘেঁষে জমিতে বালু মজুদ করা হবে। সেখান থেকে সারাবছর বালু বিক্রি করা হবে। 

গোদাগাড়ীর পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করে বলেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক অতি ব্যস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন এই সড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান হলে প্রতিনিয়ত সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশেই রয়েছে গোদাগাড়ী ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া নদী থেকে পাইপ লাইনে বালু এনে খাদানে জড়ো করা হলে এলাকাটিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। আশপাশের বসতিগুলো ডুবে যাবে কারণ আলমের জমিটি থেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। তারা আরও বলেন, পাইপ লাইনে তোলা বালুতে ৭০ শতাংশ পানি থাকে। পানি শুকালে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বালু পাওয়া যায়। এখানে বালুখাদান হলে মহাসড়কে ধসে নামবে। 

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, পদ্মার ছয় মৌজা এলাকার বালুমহাল  ইজারা নিয়েছে শুভ্র এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলম তৈরি করছে এই বালুখাদান। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইজারাদারের নেওয়া বালুমহাল তাদের এলাকা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হলেও তারা অবৈধভাবে পদ্মার চাঁপাইনবাবগঞ্জ নদী এলাকার ভেতরে ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নদীর পাড়ে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। সবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ইজারাদারের অংশীদার হিসেবে আলম ঘনবসতিপুর্ণ তিন-চারটি মহল্লার বাড়ির ভেতর দিয়ে পাইপ বসিয়ে মহাসড়কের কোলঘেঁষে বালুখাদান করছে। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলম ওরফে আলম বলেন, পদ্মার কোলঘেষে বালু রাখার কোনো জায়গা নেই। তার ওপর এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রামের ভেতর দিয়ে বালু পরিবহন করলে মানুষের খুব অসুবিধা হয়। এ কারণে আমরা নদী থেকে তুলে পাইপ লাইন দিয়ে বালু এলাকার বাইরে ফাঁকা মাঠে খাদান করছি। এতে বরং মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পৌরসভার সড়ক কেটে পাইপ লাইন স্থাপন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা সড়ক কেটে আবার ঢালাই করেছি। এতে সমস্যা হবে না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন