বেবী ও উর্মিলার লড়াই
jugantor
বেবী ও উর্মিলার লড়াই

  বরিশাল ব্যুরো  

১৮ জুন ২০২১, ২০:০৩:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দুই নারী। যার কারণে এই উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হলেও সবার নজর জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিকে।

হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে খ্যাত। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক চেয়ারম্যান নিহত নান্টু হালদারের স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান বেবী রানী দাস।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন সাবেক জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান নিহত অবনী বাড়ৈর স্ত্রী প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ। তিনি বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিগত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তার স্বামী অবনী বাড়ৈ। এরপর আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে টানা দুইবার জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উর্মিলা বাড়ৈ। দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হলে উর্মিলা বাড়ৈ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন।

তারপর জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ। অপরদিকে বতর্মান সরকারের আমলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হালদার নিহত হলে তার স্ত্রী বেবী রানী হালদারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

বেবী রানী তখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নানা বির্তকিত কর্মকাণ্ডে তিনি সমালোচিত হন। এ ইউনিয়নে দুই নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভোটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

দুই নারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভিতর সমঝোতার জন্য স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ জানান, জনগণের চাপে জেলা পরিষদ সদস্য পদ ছেড়ে আমি প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি। ওই এলাকার আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই তার পক্ষে রয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলেও আওয়ামী লীগেই থাকবেন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেবী রানী জানান, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ ইউনিয়নের মানুষ নৌকাকে ভালোবাসে। বিগত দিনের মতো এ ইউনিয়নের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১১ এপ্রিল স্থগিত ইউপি নির্বাচন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেবী রানী দাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মল্লিক ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ১৯৭ জন।

বেবী ও উর্মিলার লড়াই

 বরিশাল ব্যুরো 
১৮ জুন ২০২১, ০৮:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দুই নারী। যার কারণে এই উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হলেও সবার নজর জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিকে।

হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে খ্যাত। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক চেয়ারম্যান নিহত নান্টু হালদারের স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান বেবী রানী দাস।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন সাবেক জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান নিহত অবনী বাড়ৈর স্ত্রী প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য উর্মিলা বাড়ৈ। তিনি বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

বিগত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তার স্বামী অবনী বাড়ৈ। এরপর আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে টানা দুইবার জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উর্মিলা বাড়ৈ। দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হলে উর্মিলা বাড়ৈ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। 

তারপর জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ। অপরদিকে বতর্মান সরকারের আমলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু হালদার নিহত হলে তার স্ত্রী বেবী রানী হালদারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

বেবী রানী তখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নানা বির্তকিত কর্মকাণ্ডে তিনি সমালোচিত হন। এ ইউনিয়নে দুই নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভোটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

দুই নারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভিতর সমঝোতার জন্য স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উর্মিলা বাড়ৈ জানান, জনগণের চাপে জেলা পরিষদ সদস্য পদ ছেড়ে আমি প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি। ওই এলাকার আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই তার পক্ষে রয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলেও আওয়ামী লীগেই থাকবেন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেবী রানী জানান, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ ইউনিয়নের মানুষ নৌকাকে ভালোবাসে। বিগত দিনের মতো এ ইউনিয়নের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১১ এপ্রিল স্থগিত ইউপি নির্বাচন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেবী রানী দাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মল্লিক ভোটযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ১৯৭ জন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন