মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে ছাত্রকে নিপীড়ন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
jugantor
মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে ছাত্রকে নিপীড়ন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

  রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি  

১৯ জুন ২০২১, ১২:০০:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে ছাত্রকে নিপীড়ন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তাহযীবুল উম্মাহ ইসলামিক ইন্সটিটিউট মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১৩) নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা। সকালে ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হোসেন রামগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মাদরাসা হিসাব রক্ষক রুবেল ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রের মা জানান, জানুয়ারি মাসে ওই মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি হয় ওই ছাত্র। গত এক মাস ধরে মধ্যরাতে মাঝে মাঝে মাথা ও শরীর ম্যাসেজ করার কথা বলে ওই ছাত্রকে তার কক্ষ থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে আসছে শিক্ষক শাহাদাত।

এ ঘটনা কাউকে যেন বলা না হয়; সে জন্য শপথও করানো হয় ওই ছাত্রকে। গত মঙ্গলবার বিকালে ওই ছাত্রকে মাদরাসার তিন তলার কক্ষে নিয়ে বলাৎকার করে ওই শিক্ষক।

এরপর ওই ছাত্র বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে মাকে সব জানায়। ঘটনাটির বিচার দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকালে ছাত্রের মা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির কাছে অভিযোগ দেয়। এতে তাৎক্ষণিক মাদ্রারাসার অধ্যক্ষ ওই শিক্ষককে চড়-থাপ্পর মেরে বরখাস্ত করে ছাত্রের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। এ নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় রাতেই ওসির নির্দেশে থানার এসআই ঝন্টু দে ওই মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক। শয়তানের ধোকায় পড়ে ভুল করেছি।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুল বাতেন ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সায়েম চৌধুরী কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় পৌরসভার কাউন্সিলর আবু নাসের বাবু জানান, ওই মাদ্রাসায় জানুয়ারি মাসে একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে ওই শিক্ষক। আরেক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে জখম করার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল। এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় তিনি তার কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

এ ঘটনায় অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ঝন্টু দে যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত-মাদ্রাসা শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে ছাত্রকে নিপীড়ন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

 রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে ছাত্রকে নিপীড়ন, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে
ফাইল ছবি

মধ্যরাতে মাথা টিপার কথা বলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তাহযীবুল উম্মাহ ইসলামিক ইন্সটিটিউট মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১৩) নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা। সকালে ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হোসেন রামগঞ্জ উপজেলার পৌরশহরের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  

মাদরাসা হিসাব রক্ষক রুবেল ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রের মা জানান, জানুয়ারি মাসে ওই মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি হয় ওই ছাত্র। গত এক মাস ধরে মধ্যরাতে মাঝে মাঝে মাথা ও শরীর ম্যাসেজ করার কথা বলে ওই ছাত্রকে তার কক্ষ থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে আসছে শিক্ষক শাহাদাত।

এ ঘটনা কাউকে যেন বলা না হয়; সে জন্য শপথও করানো হয় ওই ছাত্রকে। গত মঙ্গলবার বিকালে ওই ছাত্রকে মাদরাসার তিন তলার কক্ষে নিয়ে বলাৎকার করে ওই শিক্ষক।

এরপর ওই ছাত্র বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে মাকে সব জানায়। ঘটনাটির বিচার দাবি জানিয়ে শুক্রবার বিকালে ছাত্রের মা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির কাছে অভিযোগ দেয়। এতে তাৎক্ষণিক মাদ্রারাসার অধ্যক্ষ ওই শিক্ষককে চড়-থাপ্পর মেরে বরখাস্ত করে ছাত্রের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। এ নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় রাতেই ওসির নির্দেশে থানার এসআই ঝন্টু দে ওই মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক। শয়তানের ধোকায় পড়ে ভুল করেছি।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুল বাতেন ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সায়েম চৌধুরী কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় পৌরসভার কাউন্সিলর আবু নাসের বাবু জানান, ওই মাদ্রাসায় জানুয়ারি মাসে একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে ওই শিক্ষক। আরেক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে জখম করার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল। এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় তিনি তার কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

এ ঘটনায় অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ঝন্টু দে যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত-মাদ্রাসা শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন